রবিবার, জুন ২১, ২০২৬

ভোটার স্থানান্তর নিয়ে বিএনপির নালিশ, ঢাকায় এবার কত?

সোনার দেশ ডেস্ক ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন
ভোটার স্থানান্তর নিয়ে বিএনপির নালিশ, ঢাকায় এবার কত?


সোনার দেশ ডেস্ক

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর কিছু আসনে ভোটার স্থানান্তর নিয়ে অভিযোগ করে আসছে বিএনপি।

ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ‘অস্বাভাবিক হারে’ ভোটার স্থানান্তর হয়েছে, দুই দফা এই অভিযোগ তুলে তা খতিয়ে দেখার জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছে বিএনপি।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকার ২০টি আসনে এবার ভোটের আগে নভেম্বরের মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার ভোটার স্থানান্তর হয়েছে; এটাকে স্বাভাবিক বলছেন তারা।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে। তার আগে আচরণবিধি, এনআইডি সংগ্রহসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ করে আসছে।

এবার বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচন করছেন, জামায়াত আমির শফিকুর রহমান ভোট করছেন ঢাকা-১৫ আসনে। আর এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম লড়ছেন ঢাকা-১১ আসনে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত বছর হালনাগাদ হয়েছে ভোটার তালিকা। সেপ্টেম্বরে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ হয়। ৩১ অক্টোবর ভোটার তালিকাভুক্ত হওয়ার সময় শেষ হয় আর মধ্য নভেম্বর পর্যন্ত ভোটার স্থানান্তরের সময়সীমা ছিল।

ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা বলছেন, এবার সারাদেশে সাড়ে ৬ লাখের বেশি ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন। অস্বাভাবিক কোনো প্রক্রিয়া বা বেশি হারে স্থানান্তরের তথ্য তাদের কাছে নেই।

রোববার জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন-ইসির এনআইডি উইং মহাপরিচালক এএসএম হুমায়ুন কবীর বলেন, ভোটার স্থানান্তর তো সারা বছর ধরে হয়ে থাকে। সাধারণত উপজেলা/থানা পর্যায় থেকে আবেদন করা হয়ে থাকে।

ইসিতে বিএনপির অভিযোগ

গেল ১৮ জানুয়ারি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দল তাদের প্রার্থীকে জেতাতে বাইরের ভোটারদের রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তরের মতো ‘কূটকৌশল’ নিয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশন-সিইসির সঙ্গে বৈঠক করে তিনি বলেছিলেন, ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকায় একটি রাজনৈতিক দল তাদের মনোনীত ও সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ী করার অনৈতিক কূটকৌশল অবলম্বন করেছে। ব্যাপকহারে দেশের ভিন্ন ভিন্ন এলাকা হতে ভোটার এলাকা পরিবর্তনপূর্বক ঢাকা মহানগর এলাকার ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

“মোট কত সংখ্যক ভোটার কোন কোন এলাকা থেকে ঢাকা মহানগরীর সংসদীয় নির্বাচনি এলাকার কোথায় কোন কোন তারিখে এবং কী কারণে স্থানান্তর করা হয়েছে, ঘোষিত কারণসমূহ স্থানান্তরিত ভোটারদের বিস্তারিত বিবরণ জরুরিভিত্তিতে সরবরাহ করার জন্য আমরা অনুরোধ করেছি।”

রোববার সিইসির সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানও আবার এই নালিশ করেছেন।

বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “গত এক দেড় বছরে ঢাকা মহানগরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর ভোটার স্থানান্তর হয়েছে। বিশেষ বিশেষ এলাকায় অনেক নতুন ভোটার হয়েছে, যেটা অস্বাভাবিক।

“এ বিষয়ে ইসি জানিয়েছে এরকম বেশি হয়নি, কোনো আসনে দুই-তিন হাজারের বেশি হয়নি। তাদের কথায় সন্তুষ্ট হতে পারিনি। নিশ্চিত জানি, ইসিকে যারা তথ্য সরবরাহ করেছে সঠিক তথ্য দেয়নি। প্রকৃত পক্ষে অনেক বেশি ভোটার মাইগ্রেশন হয়েছে। আসনভিত্তিক ভোটার মাইগ্রেশনের তথ্য জানতে চেয়েছি, তারা এটা দেখবেন। এদের মধ্যে সন্দেহ করার মতো থাকলে ইসির উচিত ব্যবস্থা নেওয়া।”

এ বিএনপি নেতা জানান, নির্বাচন কমিশন বলেছে তারা তদন্ত করবে।

ভোটার স্থানান্তর, এআইডি কার্ড সংগ্রহসহ নানা অভিযোগ জামায়াতকে ঘিরে। বিশেষ করে ঢাকা-১৫ আসনে এ ধরনের অভিযোগই বেশি। কিন্তু দলটির তরফে এসব অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বিএনপির অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “একটা দল অস্থির হয়ে যায়, জনগণের যে বিপুল সমর্থন আমাদের দিকে; পুরুষ-মহিলা সবার সমর্থন, এগুলোতে ভীত হয়ে এ সমস্ত কথাবার্তা বলছেন তারা।”

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান রোববার আবার ভোটার স্থানান্তর নিয়ে ইসিতে অভিযোগ করেন।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান রোববার আবার ভোটার স্থানান্তর নিয়ে ইসিতে অভিযোগ করেন।

অবশ্যই ইতোমধ্যে এনআইডি সংগ্রহের অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন নোটিস জারি করেছে, যেখানে বলা হয়েছে প্রচারের নামে কারো এনআইডি নিলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদের বছরে তুলনামূলক স্থানান্তর বেশি হয়।

তারা বলছেন, সবশেষ ২০২৪ সালে ৩ লাখ ৭০ হাজার ৯১৭ জন স্থানান্তর হয়েছে সারাদেশে। এর আগে ২০২৩ সালে ৪ লাখ ৬১ হাজার ৫৫৯ জন, ২০২২ সালে ভোটার স্থানান্তর ৭ লাখ ১৭ হাজার ২০৮ (ভোটার হালনাগাদের বছর)। ৫ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৪ জন ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেন ২০২১ সালে।

গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ভোটার স্থানান্তরের আবেদন অনুমোদন হয়েছে ৬ লাখ ৬৫ হাজার ৫৬৫ জনের।

ইসির ১০টি প্রশাসনিক অঞ্চলের মধ্যে ঢাকা অঞ্চলে এখন পর্যন্ত স্থানান্তর হয়েছে ৮৬ হাজার ৮২৫ জন ভোটার। ফরিদপুর অঞ্চলে হয়েছে ৩৯ হাজার ৯৫ জন, খুলনা অঞ্চলে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন ৮১ হাজার ৭২৫ জন। ময়মনসিংহ অঞ্চলে করেছেন হয়েছেন ৭৮ হাজার ৮০৫ জন। রংপুর আঞ্চলে স্থানান্তর হয়েছেন ৬৩ হাজার ৮৯৭ জন ভোটার।

সবচেয়ে কম ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন সিলেট অঞ্চলে, ২৭ হাজার ৫৭৬ জন। রাজশাহী অঞ্চলে পরিবর্তন করেছেন ৭২ হাজার ৮১৫ জন। ৮৫ হাজার ৭২০ জন ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন বরিশাল অঞ্চলে। চট্টগ্রামে এলাকা পরিবর্তন করেছেন ৩০ হাজার ৮৫ জন ভোটার।

সবচেয়ে বেশি ভোটার স্থানান্তর হয়েছে কুমিল্লা অঞ্চলে, এক লাখ পাঁচ হাজার ৫৪৩ জন।

ইসির এনআইডি উইং মহাপরিচালক এএসএম হুমায়ুন কবীর বলেন, হালনাগাদের সময় সেভাবে স্থানান্তর হয় না। সারা বছরই স্থানান্তর হয়ে থাকে। কেউ হয়ত আগ্রহী হয়ে আবেদন করে, কেউ আবেদনও করে না। প্রতিনিয়ত তো মানুষ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বাসা পরিবর্তন করছে।

“আমি এনআইডি ডিজি হিসেবে খোঁজ খবর নিয়েছি; এবার নতুন নয়; আরও খোঁজ নিয়ে জেনেছি-এরকম (অস্বাভাবিক স্থানান্তর) তথ্য আমি পাইনি।”

বিএনপি তাদের অভিযোগ নিয়ে যেহেতু কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করেছে, বিষয়টি সে দিক থেকে স্পষ্ট করা হতে পারে, বলেন তিনি।

তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ