শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬

পদ্মার চরে মালামাল বহনে একমাত্র ভরসা ঘোড়ার গাড়ি

আমানুল হক আমান, বাঘা ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:০৯ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
আমানুল হক আমান, বাঘা ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:০৯ অপরাহ্ন
পদ্মার চরে মালামাল বহনে একমাত্র ভরসা ঘোড়ার গাড়ি

রাজশাহীর বাঘায় বিচ্ছন্ন পদ্মার চরে শুকনো মৌসুমে মানুষের মালামাল বহনের একমাত্র ভরসা ঘোড়ার গাড়ি। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মানিকের চর থেকে ঘোড়ার গাড়িতে মালামাল বোঝায় করে ঘাষ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন এক গাড়োয়ান। পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিযনের চরের মানুষ শুকনো মৌসুমে ঘোড়ার গাড়ি ও বর্ষা মৌসুমে নৌকায় মালামাল বহন করে। চরে রাস্তা না থাকায় এলোমেলোভাবে মালামাল বহন করে। চরের মানুষ অনেকে  ঘোড়ার গাড়ির উপর জীবিকা নির্বাহ করে। 


এদিকে বাঘা উপজেলার পদ্মা নদীর ক্যানেলের ওপর শিমুলতলাঘাট, চাঁদপুরঘাট, পালপাড়াঘাট, সরেরহাটঘাট, খায়েরহাট ক্লাবেরঘাট, খায়েরহাট হালিম মাস্টারেরসহ ছয়টি ঘাট রয়েছে। এই ঘাটের যেকোনো স্থানে একটি সেতু নির্মাণ করা হলে চরের প্রায় ২০ হাজার মানুষ সহজেই উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে পারবেন।


পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিয়ন। এখানে চকরাজাপুরচর, কালীদাসখালী, লক্ষ্মীনগর, দাদপুর, উদপুর, পলাশী ফতেপুর, ফতেপুর পলাশী, নিচ পলাশী, চৌমাদিয়া, আতারপাড়া, দিয়াড়কাদিরপুর, মানিকের চরসহ ১৫টি চর রয়েছে। এ চরের মানুষ বর্ষা মৌসুমে নৌকা আর শুকনো মৌসুমে ঘোড়ার গাড়ি বা বাঁশের সাঁকো আবার কখনো পায়ে হেঁটে পারাপার হন। বর্ষা মৌসুমে নৌকায় পার হতে গিয়ে অনেকেই পদ্মায় নিখোঁজ হয়েছেন, আবার অনেকেই মারাও গেছেন।


পদ্মার মধ্যে ৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থাকলেও কোনো উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ নেই। এ কারণে সেখানকার শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক পাশ করার পর যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে লেখাপড়াই বন্ধ করে দেয়। যারা লেখাপড়া করেন, তাদের অনেক কষ্টে উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়।


চর এলাকায় চাষ হওয়া বিভিন্ন কৃষিপণ্য স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও বিক্রি হয়। যাতায়াত ব্যবস্থার অভাবে এসব উৎপাদিত কৃষিপণ্য খুব কম দামে সেখানেই ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করতে হয় চাষিদের।


মানিকের চরের ঘোড়ার গাড়ির মালিক শেখ কামাল হোসেন বলেন, চরে বিভিন্ন ধরনের ফসষের চাষ হয়। বর্তমান প্রচুর পরিমানে আলুর চাষ হয়েছে। শুকনো মৌসুমে বস্তাপ্রতি ২০-৫০ টাকা দরে মাঠ থেকে বাড়ি পৌঁছে দিই। প্রতিদিন যা আয় হয়, ৬ সদস্যের সংসার ভালভাবে চলে।


বুধবার বিকালে পদ্মা নদীর ঘাটে কথা হয় চকরাজাপুর চরের চৌমাদিয়া চরের সাবেক মেম্বার আবদুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, শুকনো মৌসুমে মাঠ থেকে মালামাল তুলে ঘোড়ার গাড়িতে করে আনা ছাড়া কোন উপায় নেই। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল পদ্মা পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে যেতে হয়। বর্ষা ও শুষ্ক উভয় মৌসুমে ঘোড়ার গাড়ি বা পায়ে হেঁটে ঘাটে আসতে হয়। এরপর পদ্মা পার হতে হয়। 


তিনি আরও বলেন, চৌমাদিয়া, আতারপাড়া ও দিয়াড়কাদিরপুর চর চকরাজাপুর ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ড। এরমধ্যে ১ নম্বর আতারপাড়ায় ভোটার সংখ্যা ৩৭৩। ২ নম্বর ওয়ার্ড চৌমাদিয়ায় ভোটার সংখ্যা ৫৫৬। ৩ নম্বর ওয়ার্ড দিয়ারকাদিরপুর ভোটার সংখ্যা ৯৮৭। এই তিনটি ওয়ার্ডে পরিবার রয়েছে প্রায় ৭৫০টি। জনসংখ্যা রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫০ জন। এ তিনটি চরে মানুষের জন্য রয়েছে মাত্র একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নেই কোন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।