রবিবার, জুন ২১, ২০২৬

জুলাই বিপ্লব এখনো জীবিত, ম্যান্ডেট নির্যাতনের লাইসেন্স নয়: জামায়াত আমির

সোনার দেশ ডেস্ক ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৬ অপরাহ্ন রাজনীতি
সোনার দেশ ডেস্ক ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৬ অপরাহ্ন
জুলাই বিপ্লব এখনো জীবিত, ম্যান্ডেট নির্যাতনের লাইসেন্স নয়: জামায়াত আমির
ফাইল ছবি

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর ভিন্নমতাবলম্বী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ওপর সহিংসতার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, জুলাই বিপ্লবের চেতনা এখনো জীবিত এবং জনগণের ম্যান্ডেট কোনোভাবেই নির্যাতনের লাইসেন্স নয়।


শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি একথা বলেন।


বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচনের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ১১ দলীয় জোটের সমর্থকবৃন্দ, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং বিএনপির মতের সাথে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান রাখার কারণে যেসব নিরীহ নাগরিক ও ভোটার সহিংসতার শিকার হয়েছেন, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।


প্রত্যেক নিরপরাধ ভুক্তভোগীর পাশে আমরা দৃঢ় সংহতি ঘোষণা করছি।


জুলাই বিপ্লবের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, যে জাতি সদ্য তার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছে, সেই জাতির বুকে সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রতিহিংসার রাজনীতির কোনো স্থান নেই। আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই—জুলাই বিপ্লব এখনো জীবিত। জুলাই সনদ ছিল একেবারে সুস্পষ্ট—আর কোনো স্বৈরাচার নয়; না রাষ্ট্রীয় শক্তির মাধ্যমে, না কোনো রাজনৈতিক দলের ছায়ায় থেকে।


আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, অবিলম্বে এসব ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনুন। প্রতিটি ঘটনা যথাযথভাবে নথিভুক্ত ও রেকর্ড করতে হবে। দ্রুত ও দৃশ্যমান আইন প্রয়োগই পারে পরিস্থিতি অবনতির হাত থেকে রক্ষা করতে।


তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের নির্দেশ


বিবৃতিতে নির্বাচিত এমপি, প্রার্থী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, দেরি না করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে যান, তাদের পাশে দাঁড়ান।


ছবি, ভিডিওসহ সব তথ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে সংগ্রহ করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দিন এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে শেয়ার করুন। প্রয়োজনে সংবাদ সম্মেলন করুন, যাতে সত্য জাতির সামনে স্বচ্ছভাবে উপস্থাপিত হয়।


আসন্ন সরকারের প্রতি বার্তা দিয়ে বলা হয়, জনগণের ম্যান্ডেট কোনো লাইসেন্স নয়; এটি একটি শর্তযুক্ত আমানত। এই আমানতের মূল শর্ত হলো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা প্রদান। সুশাসনের প্রথম পরীক্ষা শুরু হয় নিজের দল ও কর্মীদের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।


বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল রাজনীতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে আমাদের এই অঙ্গীকারকে কেউ দুর্বলতা মনে করবেন না। এ দেশে আর কখনো ভয়, দমন-পীড়ন বা সন্ত্রাসের রাজনীতি ফিরে আসতে দেওয়া হবে না।


তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ