‘চেতনানাশক’ প্রয়োগ করে বাসা লুট, নারীর মৃত্যু, স্বামী হাসপাতালে
রাজধানীর উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের এক দম্পতিকে ‘চেতনানাশক’ প্রয়োগ করে বাসার জিনিসপত্র লুট করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর নারীকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক, আর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তার স্বামীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মৃত এই নারী হলেন ৬২ বছর বয়সি আয়শা আক্তার। তার স্বামী ৬৮ বছরের আনোয়ার হোসেন।
পুলিশ বলেছে, রাত পৌনে ৮টার দিকে জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ সে বাসায় যায়। ওই বাসা থেকে মালামাল লুট হয়েছে। দুদিন আগে নিয়োগ করা গৃহকর্মী এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তাদের সন্দেহ। তাকে খোঁজা হচ্ছে।
উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি কাজী মো. রফিক আহমেদ বলেন, “দুদিন আগে ওই বাসায় একজন কাজের মেয়ে নিয়োগ করা হয়। ওই গৃহকর্মী তাদেরকে কোনো খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক প্রয়োগ করে বাসা থেকে বেশ কিছু জিনিসপত্র নিয়ে গেছে।”
প্রাথমিক অনুসন্ধানের বরাতে পুলিশ জানাচ্ছে, উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের একটি ভবনের ছয়তলায় ছোট ছেলের সঙ্গে থাকতেন এই দম্পতি। দুইদিন আগে বাসার তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে মারুফা নামে এক গৃহকর্মীকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ছেলে বেড়াতে যাওয়ায় তারা একাই বাসায় ছিলেন।
গৃহকর্মীর পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি রফিক আহমেদ বলেন, “কোন আইডেন্টিটি নাই। কোন আইডি কার্ড, ফোন নম্বর রাখা হয়নি। অনেকটা রাস্তা থেকে ডেকে এনে কাজ করতে নিছে এরকম।”
এদিন গৃহ পরিচারিকার বিষয়ে যথেষ্ট সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয় ঢাকার একটি আদালত।
ঢাকার ধানমন্ডিতে আফরোজা বেগম ও তার গৃহকর্মী দিতি হত্যা মামলার রায় ঘোষণার আগে বাসায় গৃহপরিচারিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সাবধান হওয়ার এ পরামর্শ দেন ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তাওহীদা আক্তার।
আফরোজা ও দিতি সাত বছর আগে খুন হন বাসার গৃহপরিচারিকা সুরভী আক্তার নাহিদার হাতে। সেই মামলায় মঙ্গলবার সুরভীর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। তবে আফরোজার বাসার কর্মী বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ