রবিবার, জুন ২১, ২০২৬

দুর্গাপুরে জমজমাট ইফতার বাজার

গোলাম রসুল,দুর্গাপুর ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:২১ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
গোলাম রসুল,দুর্গাপুর ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:২১ অপরাহ্ন
দুর্গাপুরে জমজমাট ইফতার বাজার

পবিত্র মাহে রমজানকে ঘিরে দুর্গাপুরে জমজমাট ইফতার বাজার। এ যেন এক উৎসবের আমেজ। প্রথম রোজা থেকেই এই উপজেলার বিভিন্ন  এলাকার হাটবাজারে জমে উঠেছে বাহারি ইফতার কেনা-বেচা। দুপুর পার হয়ে বিকেল গড়াতেই ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত হোটেল-রেস্তোঁরা সবখানেই দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। ইফতারের সময়ের আগেই প্রায় অনেক দোকানে শেষ হয়ে যাচ্ছে ইফতারি আইটেমগুলো।


শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের পর থেকেই দুর্গাপুর সিংগা বাজার, উপজেলা মোড়, মেডিকেল মোড়সহ উপজেলার বিভিন্ন মোড় ও বাজারে ঘুরে দেখা গেছে বিক্রেতারা সাজিয়ে বসেন নানা পদের ইফতার সামগ্রী নিয়ে।


সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেল ৩টার পর থেকেই ক্রেতারা ভিড় করতে শুরু করেন। আসরের নামাজের পর ভিড় আরো বেড়ে যায়, আর ইফতারের আধাঘণ্টা আগে থাকে সবচেয়ে বেশি চাপ।


ইফতার বাজারে এবার সবচেয়ে বেশি চাহিদা পিঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, ছোলা, খেজুর, বুন্ডিয়া,  মুড়িসহ বিভিন্ন ইফতার সামগ্রী।  এছাড়াও ভুনা খিচুড়িও রয়েছে ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায়। দুর্গাপুর হাট এলাকার একাধিক রেস্তোরাঁ ও ফুটপাতের দোকানে দেখা যায়, বিশাল হাঁড়িতে ধোঁয়া উঠছে হালিমের। ক্রেতারা দাঁড়িয়ে কিনছেন গরম গরম হালিম। অনেকেই বলছেন, রমজানে হালিম ছাড়া ইফতার যেন অপূর্ণ থেকে যায়।


এছাড়াও বিভিন্ন ফলের দোকান ও আখের রাসের দোকান গুলোতেও ক্রেতাদের রমজানে সরগম হয়ে উঠেছে। রোজার সারাদিনের ক্লান্তি দুর করতে পিপাসা মেটানোর জন্য আখের রাস বেশ ভালোই কেনা বেচা হচ্ছে।


ইফতারি ক্রয় করতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, ইফতারির টেবিলে যতই ফলমূল থাক, ভাজাপোড়া না থাকলে ইফতার মনেই হয় না। তাই ছোলা, পিঁয়াজু ও বেগুনি কিনলাম।


আরিফুল ইসলাম নামের আরেকজন ক্রেতা জানান, ইফতার সামগ্রী সবকিছুই ঠিক আগের মতই আছে। তবে দাম বেড়েছে কলা ও খেজুরের।


সিংগা বাজারের ইফতার ব্যবসায়ী জনি বলেন, রমজান উপলক্ষে তারা প্রতিদিন পিঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, ছোলা, খেজুর, বুন্ডিয়াসহ প্রায় ১০ থেকে ১৫ টি আইটেম প্রস্তুত করে বিক্রি করেন। প্রথম রমজান থেকেই বেশ ভালো বেচা কেনা হচ্ছে তার দোকানে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ি ইফতার তৈরী করে বিক্রি করেন বলে জানান তিনি।


এই উপজেলায় রমজানের প্রথম দিন থেকে ইফতার বাজারে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। অলিগলির ভাসমান দোকান থেকে শুরু করে বড় রেস্তোঁরা সবখানেই জমেছে বেচাকেনা। রমজানজুড়ে প্রতিদিনই দুপুর থেকে মাগরিব পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় আরও বাড়বে এবং এই প্রাণচাঞ্চল্য বজায় থাকবে পুরো মাসজুড়ে এমটাই প্রত্যাশা করছেন বিক্রেতারা।