রোজাতেও নাগালের বাইরে ফল
কয়েক বছর ধরেই নাগালের বাইরে ফলের দাম। পরিবারের জন্য যারা ফল কিনতেন, তারা তালিকা থেকে পুষ্টিকর এ পণ্যটি বাদ দিচ্ছেন। খুব প্রয়োজন হলে পারিবারিক খরচ সমন্বয় করে এক-দুটি করে ফল ওজন দিয়ে কিনছেন। ফলে কমেছে বিক্রি।
পর্যাপ্ত আমদানি হলেও আপেল, কমলা, মালটার দামও কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। খেজুরের দামও ঊর্ধ্বমুখী। কলার হালিও বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে রমজান মাসের এসব ভোগ্যপণ্যের দাম।
রমজান মাস এলেই ফলের চাহিদা বেড়ে যায়। এ সুযোগে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াচ্ছেন প্রতিদিন। তিন দিনের ব্যবধানে আপেল, মাল্টা, কমলা, আঙুরের দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। আগে কম দামে বিক্রি হলেও আপেল ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি, মাল্টা ৩৪০ টাকা, কমলা ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা, সবুজ আঙুর ৪২০ টাকা ও কালো আঙুর ৬০০ টাকা বিক্রি করতে দেখা গেছে।
বাজারে সৌদি আরব, ইরান ও ইরাকের খেজুর বিক্রি করতে দেখা গেছে। কয় দিনের ব্যবধানে খেজুরের দামও কিছুটা বেড়েছে। জাহিদি খেজুর ২৬০ টাকা, বরই খেজুর ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি, দাবাস ৬০০ টাকা, সুক্কারি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, মরিয়ম ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকা, আজোয়া ১ হাজার ২০০ টাকা ও মেডজুল খেজুর ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার এলাকায় ফল কিনছেন চাকরিজীবী সুমন আহমেদ। তিনি বলেন, আগে যে পরিমাণে ফল কিনতে পারতাম, এখন আর সেটা পারি না। এখন যে অবস্থা হচ্ছে, সামনে হয়তো আর এসব ফল খেতে পারব না। ১০ দিন আগে মাঝারি আকারের কমলার কিনেছি প্রতি কেজি ৩২০ টাকা করে, যা এখন ৩৬০ টাকা। ২৮০ টাকা কেজির আপেলের দামও বেড়ে হয়েছে ৩৫০ টাকা।
নগরীর লক্ষীপুর এলাকায় নাজমুল হোসেন নামের এক ক্রেতা বলেন, অতিরিক্ত দামের কারণে অনেক আগ থেকেই পরিবারের জন্য ফল কেনা বাদ দিয়েছি। হাসপাতালে একজন রোগী দেখতে যাব, তাই ফল কিনতে এসেছি। কিন্তু ফলের যে দাম তা শুনে কী রেখে কী কিনব বুঝতে পারছি না। কয়েকদিন আগেও ফল কিনেছি। তবে আজ এসে দেখি সব ফলের দাম বাড়ানো হয়েছে। তাই দু-একটি করে ওজন দিয়ে কিনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, কয়েকদিন পর শুরু হচ্ছে রমজান মাস। তখন এমন দাম থাকলে ইফতারের আইটেম থেকে ফল বাদ দিতে হবে।
নগরীর সাহেববাজার এলাকার বিক্রেতা মিলন শেখ বলেন, রমজানে সবচেয়ে প্রিয় হচ্ছে ফল। তাই এর চাহিদা বাড়ছে। এ কারণে পাইকারিতে ফলের দাম বেড়েছে। এ অবস্থায় আমরা কীভাবে কম দামে বিক্রি করব। অন্য ফল বিক্রেতারাও বলছেন, রমজান শুরু হওয়ায় ফলের দাম বাড়ছে।
পাইকারি ফল বিক্রেতা সোহাগ আলী বলেন, এবারে পর্যাপ্ত আপেল, মাল্টা, কমলা, আঙুর ও খেজুর আমদানি হয়েছে। দাম বাড়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। বরং আগের তুলনায় আপেলের দাম কমেছে। পাইকারি ও খুচরা সিন্ডিকেট চক্র বেশি দাম আদায় করছে। তাই বাজারে অভিযান চালাতে হবে। তা না হলে বাজার নিয়ন্ত্রণ হবে না।