রবিবার, জুন ২১, ২০২৬

ঈশ্বরদীতে সরিষাখেতে নাতনির বিবস্ত্র মরদেহ, আঙিনায় মিলল দাদির লাশ

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৩৪ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৩৪ অপরাহ্ন
ঈশ্বরদীতে সরিষাখেতে নাতনির বিবস্ত্র মরদেহ, আঙিনায় মিলল দাদির লাশ

পাবনার ঈশ্বরদীতে সরিষা খেত থেকে মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী নাতনি এবং বাড়ির আঙিনা থেকে বৃদ্ধা দাদীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতের কোন এক সময়ে উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর উত্তপাড়া গ্রামে এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা মধ্যরাতে নাতনিকে তার বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার সময় বাধা দিলে প্রথমেই দাদিকে হত্যা করা হয়।

আর নাতনিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে সরিষাখেতে ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। নিহত দুজন হলেন- উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর উত্তরপাড়ার বাসিন্দা জয়নাল খাঁর মা সুফিয়া খাতুন (৬৫) এবং মেয়ে জামিলা আক্তার (১৫)। নিহত মাদরাসা ছাত্রীর বাবা জয়নাল খাঁ ঢাকায় থাকেন। জামিলা আক্তার উপজেলার কালিকাপুর দাখিল মাদরাসায় নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিল। মাদরাসা ছুটির পর বাড়িতে এসে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় সে। 

শনিবার সকালে ওই এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের নিকট থেকে জানা গেছে, শুক্রবার মধ্যরাতে ওই বাড়ি থেকে হঠাৎ কান্নাকাটির আওয়াজ শোনা যায়। কান্নার শব্দে আশেপাশের প্রতিবেশীরা তাদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলেও কান্না থেমে যাওয়ায় তারা আবার ফিরে যান। পরে সকালে বাড়ির আঙিনায় দাদী সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়। আর নাতনি জামিলাকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বিবস্ত্র অবস্থায় সরিষাখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতদের নিকট আত্মিয় সোহেল রানা বলেন, আমরা জানতে পেরেছি জামিলাকে এর আগে স্থানীয় কয়েকজন বখাটে পথে ও মাদরাসায় গিয়ে উত্ত্যক্ত করতো। মাদরাসা ছুটির পর বাড়িতে এলে এবং মেয়েটির বাবা জয়নাল খাঁ ঢাকায় থাকার সুযোগে শুক্রবার রাতে তাদের বাড়িতে এসে জামিলাকে অপহরণ ও ধর্ষণ করার উদ্দ্যেশ্যে আসে তারা, সে সময় দাদি সুফিয়া খাতুন টের পেলে প্রথমেই তাকে হত্যা করে বখাটেরা। পরে জামিলাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে বাড়ির নিকটবর্তী সরিষা খেতে ধর্ষণ শেষে হত্যা করা হয়।

নিহত সুফিয়া খাতুনের মেয়ে তাছলিমা খাতুন ও নাতি সাগর হোসেন রনি বলেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা এ হত্যার বিচার চাই। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। জামিলা ও তার দাদী সুফিয়া খাতুনকে পৃথক স্থানে শ্বাসরোদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করেছে। ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার ও ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান এ ঘটনা নিশ্চিত করেন।

তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। লাশ দুটি উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফলের পর ঘটনা সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিস্তারিত ব্যখ্যা দিবেন বলে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। পাবনা থেকে পুলিশের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।