মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া

সোনার দেশ ডেস্ক ০৭ মার্চ ২০২৬ ১১:২৯ পূর্বাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ০৭ মার্চ ২০২৬ ১১:২৯ পূর্বাহ্ন
‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া
খালেদা জিয়াখালেদা জিয়া

আগামী ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে ‘অদম্য নারী পুরস্কার’ প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। দীর্ঘ আপসহীন সংগ্রামের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননায় ভূষিত করা হচ্ছে।

ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার প্রদান করা হবে। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তারের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। 

প্রতিবারের মতো এবারও পাঁচটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখা পাঁচজন নারীকে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ হিসেবে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। মনোনিতরা হলেন— 

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাফল্য: নুরুন নাহার আক্তার 

শিক্ষা ও চাকরিক্ষেত্রে সাফল্য: মোছা. ববিতা খাতুন 

সফল জননী নারী: নুরবানু কবীর 

নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে জীবন সংগ্রামে জয়ী: মোছা. শমলা বেগম 

সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান: মোছা. আফরোজা ইয়াসমিন 

নারী দিবসের এই অনুষ্ঠানে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন। তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন








































ফাইল ছবি

নারী ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিসিবির নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি নয়, রুল জারি

সোনার দেশ ডেস্ক

দেশের নারী ক্রিকেটারদের জন্য একটি নিরাপদ, হয়রানিমুক্ত এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল ক্রীড়া পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-সহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না মর্মে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। 

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি আহমেদ সোহেলের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।

রুল বিচারাধীন থাকাবস্থায় হাইকোর্টের রায়ের নির্দেশনার আলোকে যৌন হয়রানি বিরোধী নীতিমালা কার্যকর করতে বিসিবিকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ


টিআইবির প্রতিবেদন

৪৮ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগে দুই রাজনৈতিক দলের ‘ভাগাভাগি’

সোনার দেশ ডেস্ক

‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

গণভ্যুত্থানের পর দেশের ৪৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল ভাগাভাগি করেছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

পাশাপাশি ‘জনতা’র চাপে শিক্ষক নিয়োগ, পদায়ন ও অপসারণের ঘটনা ঘটেছে অহরহ। চাপে পড়ে পাঠ্যপুস্তক সংশোধন ও পরিমার্জন এবং আদিবাসী সংশ্লিষ্ট গ্রাফিতির ছবি মুছে দেওয়ার ঘটনা দেখা গেছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর টিআইবির সম্মেলনকক্ষে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে শিক্ষাখাতে ‘অগ্রগতি’ ও ‘ঘাটতি’ অংশে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

শিক্ষাখাতে বেশ কয়েকটি ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো হলো- কাঠামোগত দুর্বলতা ও পর্যন্ত বাজেটের ঘাটতি অব্যাহত; পদত্যাগ বা অপসারণের পরিপ্রেক্ষিতে ৪৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ করা হলেও নিয়োগে মানদণ্ড ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন এবং দুটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের ভাগাভাগি।

শিক্ষার্থী ও ‘জনতা’র চাপে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কিছু চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে- পাঠ্যপুস্তকের লেখা ও আদিবাসী সংশ্লিষ্ট গ্রাফিতির চিত্র পরিবর্তন; শিক্ষক নিয়োগ পদায়ন ও অপসারণ; বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক সংশোধন ও পরিমার্জনের কাজ সমন্বয়ের লক্ষ্যে গঠিত সমন্বয় কমিটি বাতিল; বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক আন্দোলন এবং ছাত্রসংসদ কর্তৃক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হেনস্তা; প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক বিতরণে বিলম্ব।

অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে শিক্ষাখাতের কিছু অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। অগ্রগতিগুলো হলো- উচ্চশিক্ষার নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ উচ্চশিক্ষা কমিশন গঠনের উদ্যোগ; দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের সুপারিশ প্রণয়নে সার্চ কমিটি গঠন; বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া।

এছাড়া বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন অ্যাডহক বা অস্থায়ী কমিটি গঠনের নির্দেশনা; বেসরকারি কলেজে অ্যাডহক কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ, সরকারি প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকদের গ্রেড একধাপ উন্নীত এবং বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এনটিআরসির মাধ্যমে করার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক ও অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছে টিআইবি।

শিক্ষার্থীদের হাত ধরে গড়ে ওঠা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পতন ঘটে। জুলাই আন্দোলনের অন্যতম চাওয়া ছিল শিক্ষাখাতে দলীয় লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি বন্ধ করা। অথচ অন্তর্বর্তী সরকার সেই চাওয়া পূরণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

টিআইবির পর্যবেক্ষণ বলছে, দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে এখনো দলীয় লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি চলমান। দুটি খাতের সংস্কার এ সরকারের যথাযথ মনোযোগও পায়নি। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের অংশীজনদের সব মতামতকে অগ্রাহ্য করার প্রবণতা বেশি দেখা গেছে।

পর্যবেক্ষণে বলা হয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার খাতের সংস্কার সরকারের যথাযথ মনোযোগ না পাওয়া; এসব খাতে অংশীজনদের মতামতকে অগ্রাহ্য করার প্রবণতা দেখা গেছে।

একদিকে, বিভিন্ন খাতে অস্থিরতার পেছনে রাজনীতি ও আমলাতন্ত্রের প্রভাব, অন্যদিকে যৌক্তিক ও অযৌক্তিক আন্দোলনের মুখে দাবি মেনে নেওয়ার প্রবণতা ছিল। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আর্থিকসহ অন্যান্য খাতের সংস্কার উদ্যোগে সিন্ডিকেটে প্রভাব অব্যাহত বলেও উল্লেখ করেছে টিআইবি।

তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ


সংগৃহীত ছবি

অনলাইনে নয়, সাংবাদিক কার্ড ম্যানুয়ালি ইস্যু করবে ইসি

সোনার দেশ ডেস্ক

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহের পেশাগত দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিকদের কার্ড ও গাড়ির স্টিকার সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে ম্যানুয়ালি কার্ড ইস্যু করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

ম্যানুয়ালি কার্ড ইস্যু করার প্রক্রিয়া কেমন হবে—জানতে চাইলে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব বলেন, এ বিষয়ে খুব শিগগির জানিয়ে দেওয়া হবে। যারা অনলাইনে আবেদন করেছেন তো করেছেন, তবে যারা অনলাইনে আবেদন করেননি তাদের আর তা করা লাগবে না। সাংবাদিকেরা সশরীরে নির্বাচন ভবনে এসে কার্ড ইস্যু করতে পারবেন।

এর আগে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিকদের জন্য সাংবাদিক কার্ড ও গাড়ির স্টিকার নিতে অনলাইনে আবেদনের আহ্বান জানায় ইসি। তবে এই ‘প্রক্রিয়াটি ইউজার ফ্রেন্ডলি না’ জানিয়ে দ্রুত এর সমাধানের আশ্বাস দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

এদিকে, আগামী রোববারের (১ ফেব্রুয়ারি) মধ্যে সাংবাদিক কার্ড ও গাড়ির স্টিকার সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে ইসিকে আলটিমেটাম দেন সাংবাদিক নেতারা। এরপরই অনলাইনে কার্ড ইস্যুর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে ইসি।

তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ



সাইবার মামলায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী কর্মকর্তা কারাগারে

সোনার দেশ ডেস্ক

সাইবার মামলায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের সহকারী পরিচালক সেলিনা বেগমের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি শেষে বিচারক এই আদেশ দেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ও মামলার নথিপত্রে জানা গেছে, সেলিনা বেগমের বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে, সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, ব্ল্যাকমেইল ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

এছাড়া সম্প্রতি লালমনিরহাট জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির সাবেক এক কালচারাল কর্মকর্তাকে অফিসকক্ষে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

বাদি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ইমন বলেন, আদালত ও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি করায় আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এই বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তাই আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সে অনুযায়ীই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেতথ্যসূত্র: জাগোনিউজ



ছবি: এএফপি

বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ও মদ্যপানের দায়ে ইন্দোনেশিয়ায় যুগলকে বেত্রাঘাত

সোনার দেশ ডেস্ক

ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে বিবাহবহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ক ও মদ্যপানের দায়ে এক যুগলকে প্রকাশ্যে ১৪০ বার করে বেত্রাঘাত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) শরিয়া পুলিশের তত্ত্বাবধানে এই শাস্তি দেওয়া হয়। অঞ্চলটিতে ইসলামী আইন (শরিয়া) কার্যকর হওয়ার পর এটিকে সবচেয়ে কঠোর শাস্তিগুলোর একটি বলে মনে করা হচ্ছে।

আচেহ হলো ইন্দোনেশিয়ার একমাত্র প্রদেশ, যেখানে শরিয়ার একটি সংস্করণ চালু রয়েছে। এখানে অবিবাহিত নারী-পুরুষের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

একটি পাবলিক পার্কে বহু মানুষের সামনে বেত দিয়ে এই যুগলের পিঠে আঘাত করা হয়। শাস্তি সহ্য করতে না পেরে ওই নারী একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন এবং তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বান্দা আচেহ শরিয়া পুলিশের প্রধান মুহাম্মদ রিজাল জানান, ওই দম্পতিকে বিয়ের বাইরে সম্পর্কের জন্য ১০০ বার এবং মদ্যপানের জন্য ৪০ বার—মোট ১৪০ বার বেত্রাঘাত করা হয়েছে।

২০০১ সালে আচেহকে বিশেষ স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার পর সেখানে শরিয়া আইন কার্যকর হয়। এরপর থেকে এটিই অন্যতম সর্বোচ্চ সংখ্যক বেত্রাঘাতের ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই ঘটনায় মোট ছয়জনকে শাস্তি দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজন শরিয়া পুলিশের সদস্য ও তার নারী সঙ্গীও ছিলেন। তাদের ব্যক্তিগত স্থানে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় ধরা পড়ায় ২৩ বার করে বেত্রাঘাত করা হয়।

আচেহতে জুয়া, মদ্যপান, সমকামী সম্পর্ক ও বিয়ের বাইরে শারীরিক সম্পর্কসহ নানা অপরাধে বেত্রাঘাতের শাস্তি এখনও ব্যাপক সমর্থন পেয়ে থাকে।

গত বছরও দুই ব্যক্তিকে সমকামী সম্পর্কের দায়ে শরিয়া আদালতের রায়ে প্রকাশ্যে ৭৬ বার করে বেত্রাঘাত করা হয়েছিল।

তথ্যসূত্র: এএফপি, জাগোনিউজ



আচরণবিধি ভঙ্গ: ১১৯ মামলা, জরিমানা সোয়া ১২ লাখ টাকা


সোনার দেশ ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সারা দেশে ১১৯টি মামলা হয়েছে এবং ১২ লাখ ২৪ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন) মো. সাইফুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন,“নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠপর্যায়ে পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রতিদিনই আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় মামলা ও জরিমানা করা হচ্ছে।”

ইসির তথ্যমতে, গত ৮ জানুয়ারি থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের ১৭৬টি নির্বাচনি এলাকায় মোট ১৯২টি আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জরিমানার পরিমাণ ১২ লাখ ২৪ হাজার ৩০০ টাকা এবং মামলা করা হয়েছে ১১৯টি।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি


বগুড়ায় ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে দুই স্কুলছাত্র নিহত

সোনার দেশ ডেস্ক

বগুড়ার নন্দীগ্রামে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার দলগাছা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো, নাটোরের লালপুর উপজেলার লিটন হোসেনের ছেলে সিজানুর রহমান (১৭) এবং নন্দীগ্রামের ভাটরা ইউনিয়নের ভরতেঁতুলিয়া গ্রামের রতন সরদারের ছেলে নেহাল হোসেন (১৭)। তারা ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং নন্দীগ্রামের ‘মা কেজি স্কুল’ থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সকালে সিজানুর ও নেহাল মোটরসাইকেলে করে কাথম-কালিগঞ্জ সড়ক দিয়ে শিমলা বাজারের দিকে যাচ্ছিল। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অজ্ঞাতনামা ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলটিকে সামনে থেকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে দুই বন্ধু সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলে তাদের মৃত্যু হয়।

নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপর ট্রাকটি পালিয়ে গেছে। সেটি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।’ 

তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ



প্রতীকী ছবি।

দিন দিন বেড়েই চলেছে হাতির সংখ্যা, সামাল দিতে যা করল থাইল্যান্ড

সোনার দেশ ডেস্ক

দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করতে এবং মানুষের সঙ্গে সংঘাত কমাতে থাইল্যান্ড এই প্রথম বন্য হাতির উপর গর্ভনিরোধক টিকা প্রয়োগ করা শুরু করেছে। বুধবার সে দেশের এক বন্যপ্রাণী আধিকারিক এই বিষয়টি জানিয়েছেন। এই সপ্তাহের শুরুতে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ত্রাত প্রদেশে তিনটি স্ত্রী হাতিকে এই টিকা দেওয়া হয়। 

ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন অফিসের পরিচালক সুখি বুনসাংয়ের মতে, পূর্ব থাইল্যান্ডে হাতির জন্মহার প্রতি বছর প্রায় আট শতাংশ হারে বাড়ছে, যা জাতীয় গড় তিন শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। সুখী সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যদি নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, তাহলে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা মানুষ ও হাতির মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।  সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে তিনি বলেন, “আমরা যদি এটি চলতে দিই, তবে দীর্ঘমেয়াদে মানুষ ও হাতির মধ্যে আরও সংঘাত সৃষ্টি হবে।”

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পশুচিকিৎসক দলগুলি প্রাণীগুলিকে অচেতন না করেই ডার্ট গানের মাধ্যমে দূর থেকে টিকা প্রদান করেছে। পরবর্তী পরীক্ষাগুলিতে কোনও জটিলতা দেখা যায়নি এবং হাতিগুলি স্বাভাবিক আচরণ করছে। তাদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের জন্য প্রতি ছয় মাস অন্তর রক্ত পরীক্ষা করা হবে।

দু’বছর আগে চিয়াং মাইয়ে সাতটি বন্দী হাতির ওপর এই গর্ভনিরোধক পদ্ধতিটি পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল। বন আধিকারিকরা এই কর্মসূচিটি সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা করছেন। মে মাসে বর্ষা শুরু হওয়ার আগে অন্যান্য অঞ্চলের হাতিদের আরও ১৫টি ডোজ দেবেন। এশিয় হাতি, যা থাইল্যান্ডের জাতীয় প্রতীক, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (আইইউসিএন) দ্বারা বিশ্বব্যাপী বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত।

২০১৫ সালে থাইল্যান্ডের বন্য হাতির সংখ্যা মাত্র ৩০০-এর কিছু বেশি ছিল। গত বছর তা বেড়ে প্রায় ৮০০-তে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও কয়েক হাজার হাতি বন্দিদশায় রয়েছে। ২০১২ সাল থেকে মানুষ ও হাতির সংঘাতের ফলে প্রায় ২০০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ১০০টিরও বেশি হাতির প্রাণহানি ঘটেছে।

তথ্যসূত্র: আজকাল অনলাইন


কাজের চাপেই মানুষ সমকামী হয়ে যাচ্ছে! মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রীর ‘আজব’ দাবি!

সোনার দেশ ডেস্ক

অতিরিক্ত কাজের চাপেই নাকি মানুষ সমকামী হয়ে যাচ্ছে। এমনটাই দাবি করলেন মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান। সে দেশের সংসদে লিখিত জবাবে তিনি বলেছেন, “কাজের চাপ মানুষকে এলজিবিটি সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত হতে প্রভাবিত করছে।” এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। সমালোচনার পাশাপাশি মন্ত্রীকে নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরোধী ইসলামপন্থী দল পাস-এর সাংসদ সিতি জাইলাহ মোহদ ইউসুফের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কাজের চাপ, সামাজিক প্রভাব, যৌন অভিজ্ঞাতা আর ধর্মাচরণের ঘাটতি, এই তিনের কারণে মানুষ এলজিবিটি সম্প্রদায়ে জড়িয়ে পড়ে।”

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় এখনও সমলিঙ্গ সম্পর্ক আইনত অপরাধ। সেই কারণেই এলজিবিটি ‘প্রবণতা’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তথ্য তলব করেছিল দেশটির সংসদ। বয়স, জাতিগত পরিচয় এবং তথাকথিত ‘কারণ’ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। এর উত্তরে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জুলকিফলি হাসান জানান, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এলজিবিটি-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে মোট গ্রেপ্তার ও মামলা নথিভুক্ত হয়েছে ১৩৫টি। যদিও মন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় হাসির রোল উঠেছে।

নেটাগরিকদের বক্তব্য, মন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে বিজ্ঞান তথা বাস্তবতার সম্পর্ক নেই। তিনি হাস্যকর মন্তব্য করেছেন। এক নেটিজেনের বক্তব্য, এই যুক্তি মানলে মন্ত্রীও বিপদে পড়তেন। “সংসদে এত কাজের চাপ, মন্ত্রী নিজে এখনও ‘গে’ হয়ে যাননি কী করে!” আরেক ব্যক্তি লিখেছেন, এমনটা হলে “আমার অফিসের সবাই এতদিনে সমকামী হয়ে যেত।” জাস্টিস ফর সিস্টার্সের মতো মানবাধিকার সংগঠন এই মন্তব্যকে সরাসরি “ভ্রান্ত তথ্য” বলেছে। সংগঠনের প্রতিনিধি থিলাগা সুলাথিরেহ বলেন, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-সহ আন্তর্জাতিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সংস্থাগুলি বহু আগেই স্বীকার করেছে, যৌনতা মানুষের স্বাভাবিক পরিচয়ের অংশ, এর সঙ্গে কাজের চাপের কোনও সম্পর্ক নেই।”

তথ্যসূত্র: সংবাদ প্রতিদিন অনলাইন



নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর আবারো ডিম নিক্ষেপ, ভুয়া ভুয়া স্লোগান

সোনার দেশ ডেস্ক

মঙ্গলবার দুপুরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করা হয়।

চার দিনের ব্যবধানে আবারো ঢাকা-৮ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ওপর ডিম নিক্ষেপ করা হয়েছে। এ সময় দেওয়া হয় ভুয়া ভুয়া স্লোগান। 

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকার হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের সামনে তার ওপর ডিম নিক্ষেপ করা হয়। 

এনসিপির নির্বাচনি মিডিয়া উপকমিটির প্রধান মাহাবুব আলম বলেন, “হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলে ছাত্রদলের পরিচয়ে সন্ত্রাসীরা ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা করেছে।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের ভেতরে ঢোকার পর দুই পক্ষই উত্তেজনামূলক স্লোগান দেয় এবং নাসীরুদ্দীন ওপর ডিম নিক্ষেপ করা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রেনে আনে। 

এর আগে গত ২৩ জানুয়ারি সিদ্ধেশ্বরী রোডে মৌচাক এলাকার একটি গলিতে পথসমাবেশ চলাকালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও নোংরা পানি ফেলার অভিযোগ ওঠে।

তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি



টাঙ্গাইলে বৃদ্ধ দম্পতির লাশ উদ্ধার, স্বর্ণালংকার লুট

সোনার দেশ ডেস্ক

বৃদ্ধ দম্পতির মৃত্যুতের স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়ে।

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় বৃদ্ধ দম্পতির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই বাড়ির নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন, উপজেলার গোসাখালী গ্রামের ঠান্ডু মিয়া (৭৫) ও তার স্ত্রী রিজিয়া বেগম (৭০)। তাদের লাশ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। 

বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, গতরাতে তাদের বাড়িতে উত্তরাঞ্চল থেকে শ্রমিকেরা আসে। রাতে ঠান্ডু পেট ব্যথা অনুভব করলে ওই শ্রমিকরা তাদের সঙ্গে থাকা ওষুধ খেতে দেয়। পরে সকালে তারা ঘুম থেকে না উঠায় আশপাশের লোক ডাকাডাকির এক পর্যায়ে ঘরে গিয়ে দেখেন, তারা ঘরে পড়ে আছেন। ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো ছিলো। 

তিনি আরো জানান, ধারণা করা হচ্ছে, বাসা থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে। 

স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। মৃতের কারণ তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।  

তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি


রংপুরে চালক হত্যা মামলায় চারজনের যাবজ্জীবন

সোনার দেশ ডেস্ক

রংপুরে চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের মামলায় ৪ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ফজলে খোদা মো. নাজির এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মিঠাপুকুর উপজেলার রতিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে শিমুল মিয়া, বাবুল মিয়ার ছেলে রাকিব মিয়া, রতিয়া মধ্যপাড়া গ্রামের হেলাল মিয়ার ছেলে শফিকুল ইসলাম ও পুটিমারী এলাকার সুমেল মিয়ার ছেলে হোসেন মিয়া। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রংপুর জেলা কোর্ট পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে মিঠাপুকুর উপজেলার কুটিপাড়া গ্রামের শানেরপাড়া ব্রিজ এলাকায় আসামি শিমুল, শফিকুল ও হোসেন অটোরিকশা চালক রশিদ মিয়াকে আঘাত করলে তিনি মারা যান। এ সময় তারা অটোরিকশাসহ নগদ ১ হাজার ৬৫০ টাকা ছিনতাই করে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। রাষ্ট্রপক্ষ ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে চার আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারক।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সরকারি কৌঁসুলি আফতাব উদ্দিন বলেন, বাদী পক্ষ ন্যায়বিচার পেয়েছে। তারা আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রশিদ চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে আসামিপক্ষের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে উচ্চ আদালতে যাওয়া হবে।

তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ


বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে জলের তাপমাত্রা বাড়ছে। ছবি- সংগৃহীত

গরম জলের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছে বিপজ্জনক অ্যামিবা, বিজ্ঞানীদের মাথায় হাত

সোনার দেশ ডেস্ক

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শুধু তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা আবহাওয়ার চরমতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর নীরব কিন্তু মারাত্মক ক্ষতি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করছেন, গরম জলে বসবাসকারী কিছু বিপজ্জনক অ্যামিবা ধীরে ধীরে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। এই অণুজীবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর হল নেগ্লেরিয়া ফাউলেরি যাকে সাধারণভাবে “ব্রেইন-ইটিং অ্যামিবা” বলা হয়।

নেগ্লেরিয়া ফাউলেরি সাধারণত গরম জলে যেমন হ্রদ, নদী, গরম জলের ঝর্ণা এবং সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করা সুইমিং পুলে—বেঁচে থাকে। জল যখন নাক দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে, তখন এই অ্যামিবা মস্তিষ্কে পৌঁছে মারাত্মক সংক্রমণ ঘটাতে পারে, যার নাম প্রাইমারি অ্যামিবিক মেনিনজোএনসেফালাইটিস। এই রোগটি অত্যন্ত বিরল হলেও মৃত্যুহার ৯৭ শতাংশের বেশি, যা একে বিশেষভাবে আতঙ্কজনক করে তুলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে জলের তাপমাত্রা বাড়ছে, ফলে এই ধরনের অ্যামিবার বংশবিস্তার ও বিস্তারের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। আগে যেখানে এসব অ্যামিবা মূলত উষ্ণ অঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন সেগুলো অপেক্ষাকৃত শীতল দেশেও শনাক্ত হচ্ছে। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমন সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে, যা বিজ্ঞানীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

শুধু নেগ্লেরিয়া ফাউলেরি নয়, আকান্থামিবা এবং বালামুথিয়া ম্যান্ড্রিলারিস নামের আরও কিছু অ্যামিবাও মানুষের জন্য ক্ষতিকর। এগুলো চোখ, ত্বক ও স্নায়ুতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটাতে পারে, বিশেষ করে যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল। 

এই পরিস্থিতিতে জনসচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, গরম জলে সাঁতার কাটার সময় নাক চেপে রাখা বা নাক ঢেকে রাখার ব্যবস্থা নিতে। শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন, কারণ তারা জলে খেলাধুলার সময় নাক দিয়ে জল ঢুকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া, নাক পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত জল অবশ্যই ফুটিয়ে ঠান্ডা করা বা পরিশোধিত হওয়া উচিত।

সরকার ও স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে জলের মান পর্যবেক্ষণ করা এবং এমন এলাকাগুলিতে সতর্কবার্তা জারি করা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া এই ধরনের অদৃশ্য সমস্যা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

উষ্ণ পৃথিবীতে শুধু আবহাওয়াই বদলাচ্ছে না, বদলাচ্ছে রোগের মানচিত্রও। বিপজ্জনক অ্যামিবার বিস্তার আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হলে তার মূল্য মানুষকেই দিতে হয়—কখনও কখনও জীবন দিয়ে।

তথ্যসূত্র: আজকাল অনলাইন


ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির জন্য আলোচনার সমাপ্তি ঘোষণা করেছে। ছবি: সংগৃহীত

ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তি: দাম কমবে বিলাসবহুল গাড়ি, ওয়াইন, ওষুধের! আর কী কী সস্তা হবে?

সোনার দেশ ডেস্ক

১৮ বছরের অপেক্ষার পর ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় অনেকেই আনন্দিত। তবে সবচেয়ে খুশি বোধহয় ওয়াইন, হুইস্কি এবং গাড়িপ্রেমীরা।

এই বাণিজ্য চুক্তিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন “সব বাণিজ্য চুক্তির জননী” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই চুক্তি ভারতীয় পণ্যের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন গোষ্ঠীর সদস্য দেশগুলোর বাজার খুলে দেবে। একই সঙ্গে এই চুক্তির ফলে শুল্ক কমবে, ফলে ভারতে আমদানি করা ইউরোপীয় পণ্য সস্তা হবে।

কী কী সস্তা হবে?

মার্সিডিজ, বিএমডব্লিউ, অডি গাড়ির দাম কমবে:

মার্সিডিজ, বিএমডব্লিউ এবং অডির মতো ইউরোপীয় গাড়িগুলিতে বর্তমানে ১০০ শতাংশের বেশি আমদানি শুল্ক আরোপিত হয়। চুক্তি অনুসারে, ১৫,০০০ ইউরোর বেশি দামের গাড়িগুলোতে (প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা) এখন ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপিত হয়। এই শুল্ক আরও কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হবে, ফলে এই গাড়িগুলোর দাম লক্ষ লক্ষ টাকা কমে যাবে।

বাণিজ্য মন্ত্রকের একজন কর্মকর্তা পিটিআইকে জানিয়েছেন, উভয় পক্ষ (ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন) “কোটা” ভিত্তিক শুল্ক ছাড়ের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। দ্রুত বর্ধনশীল ভারতীয় গাড়ি শিল্পকে সুরক্ষা দিতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ভারতের অটোমোবাইল ক্ষেত্র মূলত ছোট গাড়ির (১০ লক্ষ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা দামের) ওপর নির্ভরশীল এবং এই ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আগ্রহ “খুব বেশি নয়”। তিনি বলেছেন, “সুতরাং, বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এবং আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, এই দেশে ২৫ লক্ষ টাকার নীচে বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন গাড়িগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতে রপ্তানি করবে না। তারা এখানে গাড়ি তৈরি করতে পারে, কিন্তু তারা সেই গাড়িগুলো রপ্তানি করবে না।”

সুরাপ্রেমীদের জন্য সুসংবাদ:

এই চুক্তির ফলে ফ্রান্স, ইটালি এবং স্পেনের মতো ইউরোপীয় বাজার থেকে আমদানি করা ওয়াইন এখন অনেক সস্তা হবে। বর্তমানে ভারত, আমদানি করা ওয়াইনের উপর ১৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করে। নতুন চুক্তিতে এই শুল্ক ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। যার অর্থ হল দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। তবে, দেশীয় বাজারে এর প্রভাব নিয়ন্ত্রণের জন্য ৫-১০ বছরের মধ্যে ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে। এর ফলে ভারতে কগনাক, প্রিমিয়াম জিন এবং ভদকা সস্তা হবে।

তবে, ভারতীয় বাজারকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য ২.৫ ইউরোর কম দামের ওয়াইনের জন্য কোনও শুল্ক ছাড় থাকবে না। চুক্তি অনুসারে, ভারতীয় ওয়াইনও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোতে শুল্ক ছাড় পাবে।

ওষুধের দাম কমবে:

ইউরোপ অত্যাধুনিক স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তির জন্য পরিচিত। এই চুক্তি ভারতে ক্যান্সার এবং অন্যান্য গুরুতর রোগের জন্য আমদানিকৃত ওষুধের দাম কমিয়ে দেবে। এই চুক্তির ফলে ইউরোপ থেকে ভারতে আমদানিকৃত চিকিৎসা সরঞ্জামের দামও কমবে। এই চুক্তির জেরে, ভারতে তৈরি ওষুধ ২৭টি ইউরোপীয় বাজারে সরবরাহ করা যাবে।

ইলেকট্রনিক এবং উচ্চ-প্রযুক্তি যন্ত্রপাতি:

এই বাণিজ্য চুক্তি ইউরোপ থেকে আমদানিকৃত বিমানের যন্ত্রাংশ, মোবাইল ফোন এবং উচ্চ-প্রযুক্তি ইলেকট্রনিক পণ্যের উপর শুল্ক প্রত্যাহার করবে। ভারতে গ্যাজেট তৈরির খরচ কমবে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের উপকৃত করবে। এর মানে হল মোবাইল ফোনের দাম কমতে পারে।

ইস্পাত এবং রাসায়নিক পণ্য:

লোহা, ইস্পাত এবং রাসায়নিক পণ্যের উপর শূন্য শুল্কের একটি প্রস্তাব রয়েছে। যা নির্মাণ এবং শিল্প ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কাঁচামালের দাম কমাতে পারে। ফলে যাঁরা বাড়ি তৈরির কথা ভাবছেন তাঁরা উপকৃত হবেন। এই বাণিজ্য চুক্তি ভারতীয় রপ্তানির জন্য একটি বড় বিজয় এবং এটা ভারতে তৈরি পোশাক, চামড়া এবং গহনার জন্য বিশাল ইউরোপীয় বাজার খুলে দেবে।

তথ্যসূত্র: আজকাল অনলাইন


রহমানময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান 

বিএনপি সরকার যদি অতই খারাপ হয়, জামায়াতের দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেনি: তারেক

সোনার দেশ ডেস্ক

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, চার দলীয় জোট সরকার যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তাহলে তখন তো জামায়াতের দুই নেতা মন্ত্রী ছিলেন, তারা তখন কেন পদত্যাগ করেননি।

মঙ্গলবার বিকালে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই পত্রপত্রিকায় দেখেছেন, এই মুহূর্তে একটি রাজনৈতিক দল যেই স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে, সেই স্বৈরাচারের মুখের ভাষা ব্যবহার করছে বিএনপিরই বিরুদ্ধে। ঠিক সেই স্বৈরাচার যেভাবে বলতো, বিএনপি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল। তারাও সেভাবে বলছে।

তো আমার প্রশ্ন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাদেরও তো দুই জন সদস্য বিএনপির সরকারে ছিল, ছিল না? ছিল। তো বিএনপি যদি অতই খারাপ হয়, তাহলে ওই দুই ব্যক্তি কেন পদত্যাগ করে চলে যাননি।

জামায়াত নেতাদের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, কেন পদত্যাগ করে চলে আসেনি? এই জন্য পদত্যাগ করে তারা আসেনি, তারা সরকারে ছিল এবং তারা ভালো করেই জানত যে খালেদা জিয়া কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন করেছে। এবং যেই দলটি এখন এই কথা বলছে, তাদের যে দুই সদস্য বিএনপি সরকারের অংশ ছিল; তারা ভালো করেই জানতেন যে, খালেদা জিয়া দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় না।

২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারে মন্ত্রিত্ব পেয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামের তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী এবং সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ। নিজামীকে প্রথম কৃষিমন্ত্রী করা হয়েছিল, পরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মুজাহিদ ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, সব ধরনের আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান বলে, খালেদা জিয়ার সময় দেশ দুর্নীতিতে নিম্নগতিতে ছিল। এবং খালেদা জিয়া যখন ২০০১ সালে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তখন ধীরে ধীরে বাংলাদেশ দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে বের হতে শুরু করলো। যেই দল এই কথা বিএনপিকে এভাবে দোষারোপ করে, তাদের দুই সদস্যের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সরকারে থাকাই প্রমাণ করে যে, নিজেরাই নিজেদের মানুষ সম্পর্কে কত বড় মিথ্যে কথা তারা বলছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে ময়মনসিংহে প্রতিনিধি সভায় উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমান। এরপর এই নির্বাচনী জনসভায় আসছেন। এই কর্মসূচিকে জনসমুদ্রে রূপ দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ময়মনসিংহ নগরজুড়ে পোস্টার ও প্যানায় স্বাগত জানানো হয়েছে তারেক রহমানকে।

তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন


ফাইল ছবি

নির্বাচন: তিন দিন বন্ধ থাকবে মোটরসাইকেল চলাচল

সোনার দেশ ডেস্ক

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে তিন দিন বা ৭২ ঘণ্টার জন্য মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া নির্বাচনের দিন ট্রাক, মাইক্রোবাস ও ট্যাক্সিক্যাবসহ চার ধরনের যান চলাচল ২৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন এ সংক্রান্ত নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সড়ক পরিবহন সচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। 

চিঠিতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল অনুসারে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিবসের পূর্ববর্তী মধ্যরাত অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা হতে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ ভ্যান, মাইক্রোবাস চলাচল বন্ধ থাকবে। সেইসঙ্গে ১০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক; জরুরি সেবাকাজে নিয়োজিত যানবাহন এবং ওষুধ, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা ও অনুরূপ কাজে ব্যবহৃত দ্রব্যাদি ও সংবাদপত্র বহনকারী সব ধরনের যানবাহন; আত্মীয়-স্বজনের জন্য বিমানবন্দরে নেওয়া, বিমানবন্দর হতে যাত্রী বা আত্মীয়-স্বজনসহ নিজ বাসস্থানে অথবা আত্মীয়-স্বজনের বাসায় ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত যানবাহন (টিকেট বা অনুরূপ প্রমাণ প্রদর্শন) এবং দূরপাল্লার যাত্রী বহনকারী অথবা দূরপাল্লার যাত্রী হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে যাতায়াতের জন্য যে কোনো যানবাহন; প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জন্য একটি, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টের (যথাযথ নিয়োগপত্র/পরিচয়পত্র থাকা সাপেক্ষে) জন্য একটি গাড়ি (দীপ, কার, মাইক্রোবাস ইত্যাদি ছোট আকৃতির যানবাহন) রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদনসাপেক্ষে চলাচল করতে পারবেন। এছাড়া সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক অথবা জরুরি কোনো কাজে ব্যবহৃত যানবাহন/মোটরসাইকেল নির্বাচন কমিশন/রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদনসাপেক্ষে চলাচলের অনুমতি দেওয়া যাবে।

আবার নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনসাপেক্ষে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা/কর্মচারী অথবা অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য মোটরসাইকেল চলাচল, টেলিযোগাযোগ সেবাকে জরুরি সেবা হিসেবে বিবেচনা করে বিটিআরসি এবং বিটিআরসি হতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে। এছাড়া জাতীয় মহাসড়ক, বন্দরছাড়াও আন্তঃজেলা বা মহানগর থেকে বের বা প্রবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়ক ও প্রধান প্রধান রাস্তার সংযোগ সড়ক বা এমন সব রাস্তায় নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে।

তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ



কেন্দ্রের ৪০০ গজের বাইরে মেলা বসলে আপত্তি নেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের

সোনার দেশ ডেস্ক

ভোটকেন্দ্রের চারশ গজের বাইরে মেলা বসলে পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়া নিয়ে কোনো সমস্যা দেখছেন না স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ বিষয়ে কথা বলছিলেন।

বৈঠক শেষে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর কাছে একজন সাংবাদিকের প্রশ্ন রেখে বলেন, “একজন উপদেষ্টা বলেছেন কেন্দ্রের আশেপাশে মেলা বসাতে আর আপনি বলছেন যারা ভোাটার তাদের পথ যেন মসৃন থাকে। এটা সাংঘর্ষিক কী না।”

জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “না কন্ট্রাডিক্ট করে না। ভোট কেন্দ্রের আশেপাশে বলতে কিন্তু ওইৃআমরা বলি নাই এত গজ এত। একটু দূরে করবে, দূরে বসবে ৪শত গজের ভেতরে বসবে না।”

এর আগে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেছিলেন, “যদি সম্ভব হয় নির্বাচন কেন্দ্রের আশেপাশে মেলা করে দেও, সবাই মেলায় আসবে, মেলায় কেনাবেচা হবে। বানিজ্যও হল আবার ভোটও দিয়ে আসল।”

এর আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে কতগুলো পুলিশের ছিল এবং থানায় জমা দেওয়া সাধারণ মানুষের লাইসেন্স করা কতগুলো অস্ত্র ছিল?

জবাবে তার কাছে এ মহূর্তে কোনো ‘তথ্য নেই’ মন্তব্য করে এর পরের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য তুলে ধরা হবে জানিয়েছিলেন।

ওই মিটিংয়ের কথা স্মারণ করিয়ে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তার কাছে এই ‘তথ্য নেই’ জানিয়ে বলেন, “আমার কাছে নেই, দিতে পারছি না। দেখি কিভাবে তথ্যটা দেওয়া যায়।”

সংসদ নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের ঝুঁকি আছে কী না প্রশ্নে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “এই প্রশ্ন এক বছর ধরে আসছে। আমি এই এক বছর ধরেই বলছি কোনো ঝুঁকি নেই, এখনো বলছি ঝুঁকি নেই।”

প্রশ্ন-উত্তর পর্বের আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তার লিখিত বক্তব্যে নির্বাচন নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “সভায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন, নির্বাচনি প্রচারণাকালে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ র অগ্রগতি পর্যালোচনা, অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম, মাদক বিরোধী অভিযানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।”

নির্বাচনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “নিরাপত্তা আমাদের নিকট সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আর এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

নির্বাচনি প্রচারণাকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের মধ্যে যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সচেতন ও সজাগ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, “প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি জনগণের আস্থার জায়গায় দাঁড়াতে পারে, তবে আইন প্রয়োগ সহজ হয়। আর যদি আস্থা হারায়, তবে শক্তি দিয়েও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় না।”

তিনি এ জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের আস্থা অর্জনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

“এক্ষেত্রে তারা যেন (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) কখনো কোনো বেআইনি আদেশ, কোনো স্বার্থান্বেষী এজেন্ডা বা কোনো পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ না হয়, এমনকি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেরও অবৈধ ও বেআইনি আদেশ মানা যাবে না- সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত সদস্যরা কোনো প্রার্থী বা এজেন্টের কাছ থেকে কোনো ধরনের অনৈতিক বা অবৈধ আর্থিক সুবিধা যেন গ্রহণ না করে, এমনকি দায়িত্ব পালনকালে তাদের কোনো প্রতিনিধির কাছ থেকে কোনো খাবারও গ্রহণ না করে সে বিষয়েও সতর্ক করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

সাংবাদ সম্মেলনে তিনি বিভিন্ন সময় অস্ত্র উদ্ধারের এক তালিকা তুলে ধরে বলেন, অস্ত্র উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে।

তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ