সারের সমস্যা বাড়ছে কেন?
সমাধানে পদক্ষেপ এখনও দৃশ্যমান নয়
চলমান আমন মৌসুমে সারের সংকট তৈরি করা হয়েছে। বলা হচ্ছে সিন্ডিকেট করে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত মূল্য দিলে আবার সার পাওয়া যাচ্ছে। মোটের ওপর সরকারি বেধে দেয়া মূল্যে কৃষক সার পাচ্ছেন না। ধাপে ধাপে সার নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে বটে কিন্তু তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। ভ্রাম্যমান আদালত জরিমানা করেই ক্ষান্ত হচ্ছে- তাতে যে কাজ হচ্ছে না সেটাও স্পষ্ট হয়েছে। সারের বাজার কৃষকের অনুকূলে আনতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়টি এখনো উপেক্ষিত হচ্ছে। অথচ সরকারের তৎপরতা দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন ছিল।
সার নিয়ে সমস্যা-সঙ্কট রাখঢাক করার কিছু নেই। প্রকৃত সমস্যা দৃশ্যমান হয়েছে- কৃষকের ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে। সরকারের সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতাও সামনে এসেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ও সার নিয়ে পরিস্থিতি মানছে। তারা বলছে- দেশে পর্যাপ্ত সার রয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে বেশি। ডিলার ও ব্যবসায়ীদের একটি অংশ পরিকল্পিতভাবে সার নিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। তারা এ ইস্যুতে পরিস্থিতি বিশৃঙ্খল করতে চায়। দেশে সারের সংকট নেই দাবি করে মাঠপর্যায়ের অস্থিরতাকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে কৃষি মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘সার নিয়ে মাঠে বিশৃঙ্খলা হচ্ছে, এটা একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।’
সার নিয়ে নৈরাজ্য যদি ষড়যন্ত্রই হবে তা হলে এর সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না কেন? অথচ পরিস্থিতি দিন দিন বিগড়ে যাচ্ছে- যা সামাল দেয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। সার নিয়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। কৃষকও ধৈর্য হারাচ্ছে। ২৩ আগস্ট সকালে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ডিলারের গুদামে ঢুকে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দেশের সার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সার না পাওয়ার অভিযোগে একদল কৃষক ওই গুদামে ঢুকে পড়েন। কৃষি বিভাগের হিসাবে, সেখান থেকে ২০২ বস্তা ইউরিয়া ও ২৩ বস্তা পটাশ সার নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যদিও কিছু সার উদ্ধার করা হয়েছে সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সারের দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশও হয়েছে।
সার ডিলারদের সংগঠন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) এক বিজ্ঞপ্তিতে সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে দেশের সব জেলা ইউনিটের ডিলারদের সতর্ক করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ জমা, সার উত্তোলন ও গুদামে মজুদ নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে সারের আগমনি বার্তা জানানো, বিক্রয় রেজিস্টার সংরক্ষণ এবং অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রি ঠেকাতে নিয়মিত তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নীতিমালা লঙ্ঘন করলে ডিলারশিপ বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে-বলে সতর্ক করে দিয়েছে বিএফএ।
যারা সিন্ডিকেট করে সার নিয়ে জোচ্চরি করছে তারা এ ধরনের হুমকি-ধামকি কিংবা সতর্কতা জারির তোয়াক্কা করে না। এর জন্য যা প্রয়োজন- তা হলো সরাসরি অ্যাকশনে যাওয়া। পরিস্থিতি সেই মাত্রাতে গেছে। ব্লেম গেইল খেলে এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা যাবে না। সার গুদামজাত করে বেশি মূল্য আদায় করছে- সেটা প্রমাণিত। তাদের বিরুদ্ধে জরিমানা ধার্য- এটাই প্রমাণ হচ্ছে। সরবরাহ ব্যবস্থা ও মনিটরিঙের দুর্বলতা দূর করালেই সাফল্য আসবে। একই সাথে দোষি প্রমাণিত হলে লাইসেন্স বাতিল ও কারাদণ্ডের মত পদক্ষেপ নিতে হবে। সে দিকেই মনোযোগ দেয়াই সঙ্কট উত্তোরণে সহায়ক হবে।