রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

রাজশাহীর ঐতিহ্য রেশম শিল্প

সোনার দেশ ২২ আগস্ট ২০২৬ ১১:২০ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ২২ আগস্ট ২০২৬ ১১:২০ অপরাহ্ন
রাজশাহীর ঐতিহ্য রেশম শিল্প

সদিচ্ছার প্রতিফলন চাই

সিল্কসিটি রাজশাহী- সরকারের দেয়া ব্র্যান্ডিং নাম। রাজশাহীর মানুষ ঐতিহ্যবাহী রেশম শিল্প নিয়ে আহ্লাদিত, গর্বিত-ওই টুকুই। রাজশাহীর ঐতিহ্য আছে কিন্তু ঝলমলে নয়- অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। এই ঐতিহ্য রাজশাহীবাসীর পরিচয় হলেও মোটেও অর্থনীতির চালিকা শক্তি আর নয়। রেশম শিল্প এখন ক্ষয়ে ক্ষয়ে দুর্বল- প্রায় মৃত্যুযাত্রী। তারপরও রেশম নিয়ে যে আশ্বাস শোনা যায়, তা কল্প কথার মতই। চারদশক ধরে রেশমের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার কতশত প্রতিশ্রুতি হারিয়ে গেল- অথচ রেশম শিল্প বিলোপের পথেই যাচ্ছে।


কিন্তু ঐতিহ্যের হাতছানি এখনও আছে। সম্ভাবনা আছে, তাই তাগিদ আছে। এই তাগিদের আওয়াজটাও বেশ নড়বড়ে- কেহ  শোনে না। দায়িত্বশীলরা যা বলেন, তা ফলে না- দৃশ্যমান হয় না। অথচ রেশম এমনই এক শিল্প যা শ্রমঘন ও আর্থিক সাবলম্বিতার সম্পর্ক। এই শ্রমঘন শিল্পে প্রতিবন্ধীীদেরও কাজে লাগান যেতে পারে। গৃহবধু গৃহস্থালি কাজের পাশাপাশি রেশম উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এটা কোনো আশার কথা নয়- রেশম শিল্পের ধরনটাই তাই। এটা প্রমাণিত, শ্রমঘন পরিবেশ-প্রতিবেশের মধ্য দিয়েই রেশম শিল্পকে যেতে হয়েছে। সেই ধারাবাহিক চলার পথকে খণ্ডিত করা হয়েছে, খর্বিত করা হয়েছে। লোকে বলে দেশের রেশম শিল্পকে ধ্বংস করারই এ চক্রান্ত ছিল। 


রাজশাহীর রেশম শিল্প সগৌরবেই জাগতে চায়, প্রকাশে, প্রসারে, সম্প্রসারণে অস্তিত্ব মেলে ধরতে চায়। এর জন্য যারা দায়িত্বশীল তাদের  সদিচ্ছার প্রয়োজন হবে। কথার চেয়ে কাজ কৌশল ও পরিকল্পনার প্রয়োজন হবে। রেশমের সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। এ জন্য সরকারিভাবেই কার্যকর জরিপ হতে পারে। এতে করে রেশম শিল্পের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্ভাবনার পুনর্জাগরণ সম্ভব হবে বলেই আমাদের ধারণা।


এই শিল্পের সাথে যারা সম্পৃক্ত ছিলেন, তাদের অনেকেই নেই। তবে এখনও অনেকেই আছেন, রেশমের সুদিনের অপেক্ষায়। তাদের অভিজ্ঞতা, সক্ষমতা ও জ্ঞানে আবারো রেশমকে সমৃদ্ধ করা যায়। যা কিছু হারিয়েছে বলে মনে হচ্ছে-তাও ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। এই সম্ভবনার সাথে প্রযুক্তির সংযোগ ঘটিয়ে আধুনিক ও গতিশীল শিল্পধারার সূচনা করা যেতে পারে। কেবল তখনই রেশমের সাথে সংশ্লিষ্টরা আবারো সংগঠিত হবে, রাজশাহীর রেশম শিল্পের ঐতিহ্য ফিরবে। এ অপেক্ষা যেন নিকটবর্তী হয়। প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নয়- কর্মযজ্ঞের সূচনাটাই এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ।