বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষক হত্যার প্রতিবাদ শিক্ষার্থীদের
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে শিক্ষক হত্যার প্রতিবাদ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন হয়েছে। শনিবার (০৭ মার্চ) সকালে নিহতের কোচিংয়ের শিক্ষার্থীরা প্রথম সড়ক অবরোধ করে, পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। অপরদিকে নিহত চয়নের ভাই প্রদীপ রায় দায়ের করা হত্যা মামলার ভিত্তিতে পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় শনিবার সকালে নিহত চয়ন এবং আহত নয়নের পরিচালিত দ্যা নিউ কনটেস্ট কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থীরা আসামিদের বিচারের দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ফুলবাড়ি বাজার থেকে শুরু হয়ে উপজেলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপজেলা প্রশাসনের মেইন সড়কে বসে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
এতে সড়ক অবরোধের ফলে কিছুক্ষণের জন্য যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে উপজেলা প্রশাসনের পদক্ষেপে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরে শিক্ষার্থীরা নিহত চয়নের বিচারের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের বাজার এলাকার মৃত নাজিমুদ্দিন ফকিরের ছেলে শাহীন ফকিরের (৪০) সাথে একই গ্রামের তুলারাম রজভরের ছেলে চয়ন কুমার রায়ের (২৮) জমাজমি নিয়ে বিবাদ চলছিল, যার একাধিক মামলা আদালতে চলমান।
গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে শাহিন ফকিরের লোকজন নালিশি জমিতে অবস্থান নেন। খবরে পেয়ে চয়নের লোকজন বাধা দিতে যান। ফলে ঘটনাস্থলে উভয়পক্ষের মধ্যেই সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে চয়ন এবং তার বড়ভাই নয়ন রায় (৩৪) গুরুতর আহত হন। পরে তাদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে যান।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক চয়ন রায়কে মৃত ঘোষণা করেন। অপর আহত নয়ন রায়কে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনায় চয়নের বড় ভাই প্রদীপ রায় আটজনকে আসামি করে সারিয়াকান্দি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলো-একই গ্রামের মৃত নাজিমুদ্দিন ফকিরের ছেলে শাহীন ফকির (৪০), আমিনুর ফকির (৪৫) ও ফাইন ফকির (৪২), শাহীন ফকিরের ছেলে রাহাত মিয়া (২০) ও রাকিব ফকির (২৬), আমিনুর ফকিরের ছেলে রাব্বি ফকির (২১) ও নূরনবী জনি (২৮) এবং একই গ্রামের মৃত জিন্নাহ ফকিরের ছেলে তাহের ফকির (৪৫)। মামলার প্রেক্ষিতে ওই রাতেই সারিয়াকান্দি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামি-শাহীন ফকির, আমিনুল ফকির, রাব্বি ফকির, রাকিব ফকির এবং তাহের ফকিরকে গ্রেফতার করে।
সারিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আ ফ ম আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পরই পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার আসামিদের সকালে বগুড়া জেলার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের ধরার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি গ্রহণ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আপনাদের স্মারকলিপিরভিত্তিতে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ শুরু করেছে। নিহতের পরিবার যাতে খুব দ্রুত বিচার পায় তার জন্য প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।