চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাজারে আগাম জাতের কাটিমন আম
পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফলের বাজারে আগাম জাতের কাটিমন আম এখন আলোচনায় রয়েছে। মৌসুম শুরুর আগেই গাছে পাকা আম ঝুলতে শুরু করায় এই আম ঘিরে তৈরি হয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতার বাড়তি আগ্রহ। ‘আমের রাজধানী’ খ্যাত এই জেলায় বসন্তের মুকুলের মৌসুম চললেও কিছু বাগানে ইতোমধ্যে বাজারে উঠেছে কাটিমন আম, যা রমজানের ইফতারকে কেন্দ্র করে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান প্রায় ৪০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে নাচোল উপজেলার ঘিওন গ্রামে গড়ে তুলেছেন কাটিমন আমের বাগান। সঠিক ছাঁটাই, সময়মতো সার প্রয়োগ, রোগবালাই দমন এবং নিয়মিত তদারকি করায় বাগানে এরইমধ্যে ফলন এসেছে। গাছভর্তি সবুজ ও আকারে বড় কাটিমন আম ঝুলছে থোকায় থোকায়। একই গাছে অন্যান্য ডালে মুকুলে ভর্তি।
হাবিবুর রহমান জানান, প্রথমে ইউটিউবে কাটিমন জাতের আমের বছরব্যাপী ফলন পাওয়ার ভিডিও দেখে তিনি এই চাষ শুরু করেন। এই জাতটি চাষের জন্য খুবই উপযোগী। কারণ, মৌসুমের সময়ে প্রচুর আম উৎপাদন হলেও দাম পাওয়া যায় না। কিন্তু কাটিমন জাতের আম অসময়ে চাষ করা যায় এবং তখন বাজারে তেমন আমও থাকে না। ফলে দাম ভালো পাওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন , চলতি মৌসুমে তার বাগান থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকার আম বিক্রির আশা করছেন। তিনি বলেন, আগাম বাজার ধরতে পারলে লাভ বেশি হয়। এবার ফলন ভালো হয়েছে, দামও ভালো পাচ্ছি। আশা করছি লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি বিক্রি করতে পারবো।
জেলার আরও অনেক আমচাষি বর্তমানে কাটিমন আম চাষে ঝুঁকছেন। তাদের মতে, এই জাতের আম তুলনামূলক দ্রুত ফলন দেয়। গাছের উচ্চতা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং রোগবালাইও কম হয়। স্বাদে মিষ্টি, আঁশ কম এবং দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ায় বাজারে এর গ্রহণযোগ্যতাও বেশি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের নিউমার্কেট ফল বাজার ঘুরে দেখা যায়, অন্যান্য ফলের পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে কাটিমন আম। রমজানে ইফতারের জন্য ক্রেতারা অন্যান্য ফলের সঙ্গে কাটিমন আমও কিনছেন।
শহরের পাঠানপাড়া মহল্লার বাসিন্দা ফারুক আহমেদ চৌধুরী বলেন, আম প্রকৃতির অসাধারণ একটি ফল। ইফতারের সময় ঠান্ডা আম খেলে যে স্বাদ পাওয়া যায়, তা সত্যিই অন্যরকম। তাই ৩০০ টাকা কেজি দাম হলেও মানুষ কিনছেন।
নিউমার্কেট এলাকার ফল বিক্রেতা রুহুল আলী বলেন, রমজানের শুরু থেকেই কাটিমন আমের চাহিদা অনেক বেড়েছে। প্রতিদিনই ক্রেতারা এসে এই আম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ইফতারের জন্য অন্যান্য ফলের সঙ্গে এই আমও নিচ্ছেন।
শিবগঞ্জ ম্যাংগো প্রোডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব জানান, আগে মৌসুমের শুরুর দিকে বাজারে বিদেশি আমের ওপর নির্ভরতা ছিল। কিন্তু এখন দেশেই কাটিমন আম উৎপাদন হওয়ায় আমদানির প্রয়োজন অনেকটাই কমেছে। এতে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে, তেমনি স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরাও লাভবান হচ্ছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. ইয়াসীন আলী বলেন, কাটিমন আমের চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের কারিগরি সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক বাগান ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ কীটনাশক ব্যবহার এবং ফল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে চাষ বাড়ানো গেলে এই আম ভবিষ্যতে দেশের কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।