পোষাকের দোকানে রঙিন আলোর আড়ালে প্রতারণার ফাঁদ!
ইদকে সামনে রেখে আলোকসজ্জায় রাঙানো হয়েছে দোকান ও মার্কেট। আর এসব মার্কেটের বেশকিছু পোশাকের দোকানে লাল-নীল বাল্ব দিয়ে আলোকসজ্জা করা হয়ে থাকে। চোখ ধাঁধালো এই রঙ্গিন লাইটের আড়ালেই লুকিয়ে আছে প্রতারণার ফাঁদ। এই রঙিন আলোর ফলে বোঝা যায় না পোশাকের আসল রঙ এবং মান। নিম্নমানের ও পুরাতন পোশাকও উন্নতমানের পোশাকের মত চকচকে-উজ্জ্বল দেখায়। এতে প্রতারিত হচ্ছে ক্রেতা।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজশাহী মহানগরীসহ বিভিন্ন উপজেলায় আলোকসজ্জার মধ্য দিয়ে সাজানো হয় সকল মার্কেট ও দোকান। বিশেষ করে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে এসব লাইটিং বেশি চোখে পড়ে। এসব মার্কেটে থাকা বেশকিছু বিপনী বিতানে সাদা লাইটের পাশাপাশি ব্যবহার করা হচ্ছে লাল এবং নীল লাইট। মার্কেটের বড় দোকানগুলোতে রঙিন লাইটের ব্যবহার কম দেখা গেলেও ছোট দোকানগুলোতে অহরহ।
এছাড়া এসব লাইটের বেশি ব্যবহার দেখা যায় শিশু, থ্রিপিস ও জেন্টস আইটেমের দোকানে। জানা যায়, চোখ ধাঁধালো এসব রঙিন লাইটের উজ্জল আলোতে পোশাকের আসল রঙ বোঝা যায়না। এতে ধূসর রঙের কাপড়ও চকচকে উজ্জ্বল দেখায়। মূলত নিম্নমানের কাপড় উন্নত মানের দেখাতে এই ফাঁদ পাতা হয় বলে জানান ক্রেতারা।
আব্দুল মমিন নামের একজন জানান, এই প্রতারণার শিকার একবার আমার সাথে হয়েছিল। দোকান থেকে কিনেছিল নেভি ব্লু রঙের শার্ট। কিন্তু বাসায় গিয়ে দেখি ফুল নেভি ব্লু রঙের না লাইটিংয়ের কালারের জন্য উজ্জল নেভি ব্লু মনে হচ্ছে এবং খুব সুন্দর লাগছিল।
শাকিলা খাতুন নামে এক মেয়ে জানান, এই ফাঁদে পড়ে থ্রিপিস কিনে ঠকেছি। উজ্জ্বল আর চাকচিক্যের কারণে নিম্নমানের কমদামি পোশাক কিনেছি বেশি দাম দিয়ে। সেই থেকে এই ধরনের লাইটিং দোকান এড়িয়ে চলি। বিক্রেতাদের অনেকে দোকানের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য এই ধরনের লাইটিং করা হয়েছে বললেও কয়েকজন বিক্রেতা স্বীকার করেছেন।
পুঠিয়া উপজেলাসহ বানেশ্বরের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী জানান, ক্রেতাদের এই অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা না। কালার লাইটিং করার ফলে তাড়াতাড়ি পছন্দ করে তাই পোশাকের রঙ ও মান লুকাতে সবাই রঙিন লাইট ব্যবহার করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক পোষাক বিক্রেতা জানান, এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে ভাল ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্থ। সবাই যখন করেছে তাই আমিও লাইটিং করেছি। তা না হলে আমার দোকানে ক্রেতা কম আসছে। তারা মূলত নিম্নমানের কমদামি কাপড় ভাল মানের বলে বেশি দামে বিক্রির জন্য এই কাজ করে।
এ ব্যাপারে পুঠিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শিবু দাস বলেন, এমন ঘটনা সারাদেশজুড়েই চলছে। কারও যদি এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে তাহলে ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ দিলে তারা ব্যবস্থা নেবে।