ঈশ্বরদীতে জামায়াত নেতার আপত্তিতে ভিজিএফ এর চাল বিতরণ স্থগিত
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের ২ হাজার ৮৬৩ দু:স্থ পরিবারের জন্য বরাদ্দ ১০ কেজি করে চাল সহায়তা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) সকালে চাল বিতরণ শুরু হওয়ার পরপরই পরিষদের সামনে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহির মন্ডল ও জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নেতা-কর্মীদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হলে প্রশাসন চাল বিতরণ স্থগিত করেন।
এর আগে এই ইউনিয়নের এসব দুস্থদের জন্য সরকারি বরাদ্দের ভিজিএফ (ভার্নারেবল গ্রুপ ফিডিং) কার্ড ব›ণ্টন নিয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আইন বিষয়ক সম্পাদক হাফিজুর রহমান শনিবার সংবাদ সম্মেলন ডেকে ভিজিএফ কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন।
রোববার ভিজিএফের কার্ডধারী হাজারো মানুষ চাল নিতে এসে না পেয়ে খালি হাতে ফিরে গেছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শী এবং ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সলিমপুর ইউনিয়নে ২৮৬৩ টি ভিজিএফ কার্ডের বিপরীতে জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বিতরণ শুরু হলে জামায়াতে ইসলামীর আইন বিষয়ক সম্পাদক হাফিজুর রহমানসহ অন্যান্য নেতারা অনিয়মের অভিযোগ করে বাধা প্রদান করেন। এক পর্যায়ে এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহির মন্ডলের সঙ্গে তাদের হট্টগোল বাধে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসে চাল বিতরণ স্থগিত করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আইন বিষয়ক সম্পাদক হাফিজুর রহমান বলেন, ভিজিএফ কার্ড বিতরণে দলীয়করণ, পেশি শক্তির প্রভাব ও অনিয়ম হয়েছে। ১৭ বছর আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহির মন্ডল। তিনি ভিজিএফ কার্ড প্রকৃত অসহায় ও দরিদ্র মানুষদের মাঝে বিতরণ না করে বিভিন্ন প্রভাবশালী ও দলীয় লোকজনের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করেছেন। এতে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন, সংবাদ সম্মেলন ডেকে আমি এ অভিযোগ করেছি।
ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহির মন্ডল জানান, কার্ড বিতরণে কোন অনিয়ম হয়নি। রাজনৈতিক বিরোধের কারণে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা এসব অভিযোগ তুলে চাল বিতরণে বাধার সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে সলিমপুর ইউনিয়নের সচিব শহীদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, চাল বিতরণের সময় ঝামেলা হওয়ার কারণে চাল বিতরণ স্থগিত রাখা হয়েছে।