দুর্গাপুরে এজেন্সিগুলোতে নেই জ¦ালানি তেল, বন্ধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান
রাজশাহী দুর্গাপুরে এজেন্সি ও খুচরা বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে জ¦ালানি তেল নেই। বন্ধ রাখা হয়েছে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। অধিকাংশ এজেন্সি দোকানের সামনে সাটানো রয়েছে ‘ পেট্রল নাই, অকটেন নাই’ লেখা। এরপরও অনেকে তেল নিতে দোকান গুলোর সামনে ভিড় করছেন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন জ¦ালানি তেলের দোকানের সামনে এমন চিত্র দেখা যায়।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেল (অকটেন, পেট্রল ও ডিজেল) কিনতে ভিড় করছেন গাড়ি চালকেরা। বিশেষ করে মোটরসাইকেলের চালকদের ভিড় বেশি দেখা গেছে। দুই-একটি দোকানে তেল থাকলেও তা বিক্রি করা হচ্ছে গোপনে অতি চড়া দামে।
গত রোববার পর্যন্ত কিছু দোকানে তেল পাওয়া গেলেও গত সোমবার (১৬ মার্চ) থেকে কোনো প্রকার তেল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক মোটরসাইকেল চালকরা তেল শেষ হওয়ায় তেল না পেয়ে পায়ে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছেন তাদের মোটরসাইকেল। অনেকে আবার অন্য গাড়ির সাথে রশি বেঁধে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন তাদের গাড়িটি। এদিকে সেচ কাজে জ¦ালানি তেল না পাওয়ায় এ অঞ্চলের চাষিরা পড়ছেন দুশ্চিন্তায়। ব্যাহত হচ্ছে সেচ কাজ।
দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন জ্বালানি বিক্রয়কারী দোকানীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তেলের জন্য ক্রেতারা দোকানে সামনে ভিড় করছেন। তেল না পেয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। বেশ কয়েকটি দোকানে ‘তেল নাই’ লেখা সাঁটিয়ে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। তারাও তেল না থাকায় দোকান বন্ধ করে বাহিরে বসে আছেন।
সিংগা বাজারে জ¦ালানি তেল বিক্রেতা এজেন্সির মালিক খাদেমুল ইসলাম জানান, ‘দেশে জ্বালানী তেল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমার দোকান বন্ধ থাকবে। আমার দোকানে যতটুক পেট্রোল ও অকটেন ছিলো তা শেষ হয়ে গেছে। সরকার আমাদের এজেন্সিতে তেল দেওয়া বন্ধ রেখেছে। যার ফলে এজেন্সিতে নতুন ভাবে তেল না দেওয়া পর্যন্ত আমার দোকান বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তেল পেলেই আবারো তেল বিক্রির কার্যক্রম শুরু করা হবে। তিনি আরো বলেন, তেল না থাকায় দোকান বন্ধ থাকায় দোকান কর্মচারীদের বেতন ও ঈদ বোনাস নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।’
মোটরসাইকেল চালক রাবিজ বলেন, ‘তিনি উপজেলার মাড়িয়া থেকে দুর্গাপুর বাজারে এসেছেন তার গাড়িতে তেল ভোরতে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকে তিনি বাজারে ৫ থেকে ৭টি তেলের দোকান ঘুরেছেন। কোথাও তেল পাননি। তার গাড়িতে যততুক তেল ছিলো তাও শেষ পর্যায়ে। সেই গাড়িটি নিয়ে বাড়িতে ফেরতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে পড়েন।’
এদিকে অনেক মোটরসাইকেল চালকরা অভিযোগ করে বলেন, ‘কিছু কিছু দোকানে তেল মজুদ করে রাখা হয়েছে। তারা গোপানে বেশি দামে তেল বিক্রি করছেন। তবে তারা সবার কাছে বিক্রি করছেন না। পরিচিত ব্যাক্তি, অভিযোগ আসবেনা এমন ক্রেতাদের কাছেই কেবল অতি চওড়া দামে তেল বিক্রি করছেন। তারা বাজার মনিটরিংএর দাবি জানান।’