রূপপুর পারমাণবিকে জ্বালানি লোডিং ৭ এপ্রিল উদ্বোধন
পাবনার ঈশ্বরদীতে বাস্তবায়নাধীন রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম উদ্বোধনকে ঘিরে প্রকল্প এলাকায় চলছে বিরামহীন প্রস্তুতি। আগামী ৭ এপ্রিল এটি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর পথে একটি গুরত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে বলে বিবেচিত হচ্ছে। যে কারণে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট তিনটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এবছরের ইদুল ফিতরের নির্ধারিত ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি আগেই বাতিল করা হয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “আগামী ৭ এপ্রিল থেকে জ্বালানি লোডিং শুরু হবে। জুলাইয়ের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে জাতীয় গ্রিডে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। নির্ধারিত সময়সূচি বজায় থাকলে ডিসেম্বরের মধ্যে ইউনিটটি পূর্ণ সক্ষমতায় শতভাগে পৌঁছাবে।’’
নিউক্লিয়ার পাওয়ার কোম্পানি বাংলাদেশ লি. ‘এনপিসিবিএল’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান জানান, “জ্বালানি লোডিং হলো রিঅ্যাক্টরের কোরে পারমাণবিক জ্বালানি রড স্থাপনের প্রক্রিয়া। এসব রডে থাকা ইউরেনিয়াম পেলেট চেইন রিঅ্যাকশন সৃষ্টি করে, যা তাপ উৎপাদন করে এবং সেই তাপ থেকে উৎপন্ন বাষ্প টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। বাংলাদেশ অ্যাটমিক এনার্জি রেগুলেটরি অথরিটি ‘বায়েরা’ আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করছে।”
ঈশ্বরদীর স্থানীয়দের মধ্যেও প্রকল্পটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ও আশাবাদ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে এই অঞ্চলের শিল্প, কৃষি ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান বলেন, স্থানীয় জনগণের বহুদিনের প্রত্যাশিত রূপপুর প্রকল্পে জ্বালানি লোডিং শুরু হয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছেÑএ খবর শুনে আমি ও আমার এলাকার জনগণ অত্যন্ত আনন্দিত। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
ঈশ্বরদীর খায়রুল গ্রুপের স্বত্বাধিকারী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলাম বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে শুধু ২৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন যথেষ্ট নয়। রূপপুরে আরও ২৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রকল্প নির্মাণের সুযোগ রয়েছে। তাই মোট ৪৮০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রকল্পটি সম্প্রসারণের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
ঈশ্বরদী উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুজন রায় বলেন, রূপপুর প্রকল্প চালুর খবর জেনে ভালো লাগছে। আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার কারণে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। চলমান রবি মৌসুম ও বোরো আবাদে কৃষকরা জ্বালানি সংকটে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী। এর ফলে দেশের কৃষকরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন বলে আমি মনে করি।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে শুরু হওয়া প্রায় ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলারে নির্মিতব্য এই প্রকল্পে রাশিয়ার ভিভিইআর-১২০০ মডেলের তৃতীয় প্রজন্মের দুটি রিয়্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। শুরুতে ২০২২ সালে চালুর পরিকল্পনা থাকলেও বিভিন্ন কারণে তা তিন বছর বিলম্বিত হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ও রাশিয়া ২০২৭ সালের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সময়সীমা নির্ধারণ করে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংস্থা রোসাটম। রিঅ্যাক্টরগুলো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান পূরণে সক্ষম বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।