লাইসেন্স ছাড়া মিলবে না জ¦ালানি তেল
রাজশাহীতে জ¦ালানি তেল নিতে হলে লাগবে ড্রাইভিং লাইসেন্স। এছাড়াও প্রয়োজন মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন। এমনই নিদের্শনা দিয়েছেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক।
বুধবার (২৫ মার্চ) রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার এমন নির্দেশনা দেন। এর আগে পাম্প মালিক সমিতির নেতারা এই দাবি করে আসছিলেন। এছাড়াও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও চাচ্ছিলেন তারা।
জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় বলা হয়, মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চালকের হেলমেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শন বাধ্যতামূলক। কাগজপত্র বাদে কোনো অবস্থাতে তেল সরবরাহ করা যাবে না। কৃষি কার্যক্রম সচল রাখার স্বার্থে শুধুমাত্র প্রকৃত কৃষকদের উপজেলা পর্যায়ে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় এবং নির্ধারিত পরিমাণে জারিকেন/কনটেইনার ব্যবহার করে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে অতিরিক্ত তেলের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুরোধপত্র প্রদর্শন করতে হবে। অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ বা অপব্যবহার রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে। এ নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সকলকে এ বিষয়ে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
রাজশাহী জেলা ও মহানগরী মিলে মোট ৪৪টি পাম্প রয়েছে। ইদের আগে ও পরে থেকে এসব পাম্পে তেল দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। মালিকরা দাবি করেন ডিপো থেকে চাহিদামত তেল না পাওয়ার কারণে পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে। দুয়েকটি পাম্পে তেল দেওয়া হলেও সেখানে মোটরসাইকেল চালকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। লাইনে দাঁড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাম্প মালিকদের।
রাজশাহী পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি মনিমুল হক বলেন, ডিপো থেকে যে তেল দেওয়া হচ্ছে তা মোটরসাইকেলে দিয়ে চাহিদা মিটছে না। আবার তেল নিয়ে এসে লাভও হচ্ছে না। বিশৃঙ্খলা এড়াতে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিটা পেট্রোল পাম্পে পুলিশ মোতায়েনের কথা বলেছি। তিনি নতুন নিদের্শনা দিয়েছেন। আশা করা যায় এখন পাম্পগুলো বিশৃঙ্খলা কমবে। যাদের গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং হেলমেট আছে তাদেরই শুধু তেল দেওয়া হবে। এতে সংকট দূর হবে বলে আশা করা যায়।