পুলিশসহ সকল প্রাণহানির ঘটনা আইন অনুযায়ী হবে : আইজিপি
গত ৫ আগস্টের আগে ও পরে পুলিশ হত্যাসহ সকল প্রাণহানির ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, ওই সময় পুলিশসহ অনেক সাধারণ মানুষ মারা গেছেন। আইন অনুযায়ী প্রত্যেকটা ঘটনার তদন্ত ও বিচার হবে। আইনে যা হওয়ার তাই হবে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) সদর দফতরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এরই মধ্যে বাংলাদেশের ইতিহাসে সেরা একটি নির্বাচন উপহার দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কোথাও কোন প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেনি। অনেকের ধারনা ছিল পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।
শান্তিপূর্ণ ও সভ্য সমাজ গঠনে নাগরিকদের আইন মেনে চলার আহ্বান জানান পুলিশ প্রধান। তরুণদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমাদের তরুণরা কথায় কথায় রাস্তায় নেমে আসে, সড়ক অবরোধ করেÑএটা ঠিক নয়। এতে আমাদের সকলেরই ক্ষতি হয়।
দেশের বর্তমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, আমাদের সমাজে প্রচুর শিক্ষিত বেকার রয়েছেন। অন্যদিকে, দেশের বাইরে টাকা পাচার হয়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর অবস্থাও খারাপ। নানা কারণে তরুণেরা মাদক ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তবে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি থাকবে।
জ্বালানি তেলের সংকট ও কালোবাজারি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, দু-একটি পেট্রোল পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে তা একটু বাড়তি দামে বিক্রি করে খুব বেশি লাভ হয় না। এক্ষেত্রে আমাদের নৈতিক চিন্তাভাবনারও উন্নতি ঘটাতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেটকে আমরা সহযোগিতা করছি।
ঢাকাসহ দেশের সকল বিভাগীয় শহরকে ‘স্মার্ট ও সেফ সিটি’তে (নিরাপদ নগরী) রূপান্তর করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সরকারকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং সেটির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, জামিন পাওয়ার পরও আওয়ামী লীগ নেতাদের অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজির দেওয়া একটি চিঠির বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আইজিপি বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় এ ব্যাপারে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না।