১৪দিন পর মারা গেলেন নুহু আলী, জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে স্ত্রী মনোয়ারা
পাবনার সাঁথিয়ায় ঘুমন্ত অবস্থায় আগুনে পুড়ে গুরুতর স্বামী-স্ত্রী চিকিৎসার ১৪ দিন পর স্বামী নুহু আলী (৬০) মারা গেলেন। ঢাকা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তিনি মারা যান। নিহতের ছেলে মুন্নাফ আলী মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নুহু আলী উপজেলার মাধপুর গ্রামের (খাঁ পাড়া) মৃত রহমত আলীর ছেলে।
এ ঘটনায় নুহু আলীর স্ত্রী আতাইকুলা ইউনিয়নের সংরক্ষিত সাবেক ইউপি সদস্য মনোয়ারা খাতুন (৫৫) বর্তমানে ঢাকা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে নিবিড় পর্যবেক্ষণে (আইসিইউতে) জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। নিহত নুহু আলীর মরদেহ শনিবার (২৮মার্চ) ঢাকা থেকে নিজ গ্রামে নিয়ে আসা হবে এবং রাতে দাফন করা হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ মার্চ রাতে সাঁথিয়া উপজেলার আর-আতাইকুলা ইউনিয়নের মাধপুর খাঁ পাড়া গ্রামের মৃত রহমত আলীর ছেলে নুহু আলী তার স্ত্রী মনোয়ারা খাতুন প্রতিদিনের ন্যায় রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত দেড়টার দিকে তাদের টিনের ঘরের দরজার বাইরে থেকে শেকল দিয়ে দুষ্কৃতিকারীরা আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন দেখে দুজনেই চিৎকার শুরু করেন।
ঘরের দরজা খোলার চেষ্টা করলে দরজার শেকল বাইরে থেকে আটকানো থাকায় আগুনে তাঁদের মাথাসহ শরীরের শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়। উপায়ান্তর না পেয়ে তাঁরা জানালা ভেঙে ঘর থেকে লাফ দিয়ে বের হন। এ সময় আগুনে তাদের ঘরে থাকা মূল্যবান কাগজপত্র ও মালামাল পুড়ে যায়।গুরুতর আহত অবস্থায় এলাকাবাসী তাদের পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে গত ১৪ মার্চ ঢাকা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে তাদের ভর্তি করা হয়।
নিহতের মেয়ে হালিমা খাতুন জানান, আমার বাবার মরদেহ শনিবার (২৮মার্চ)গ্রামের বাড়ি নিয়ে আসা হয়েছে এবং রাতে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হবে।আমার মা ঢাকা জাতীয় বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে আইসিইউতে রয়েছেন যে কোন সময় মা মারা যেতে পারেন। আমরা শঙ্কার মধ্যে আছি। আমার বাবার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
ঘুমের মধ্যে ঘরে আগুন দিয়ে হত্যার ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলকশাস্তি দাবী করেছেন এলাকাবাসী ।
এ ব্যাপারে আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)জামিরুল ইসলাম বলেন,অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।