রবিবার, জুন ২১, ২০২৬

‘নব্য জেএমবি’ সন্দেহে হবিগঞ্জ থেকে শিশু গ্রেপ্তার

সোনার দেশ ডেস্ক ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৫৪ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৫৪ অপরাহ্ন
‘নব্য জেএমবি’ সন্দেহে হবিগঞ্জ থেকে শিশু গ্রেপ্তার

নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ‘নব্য জেএমবি’ এর সঙ্গে জড়িত সন্দেহে হবিগঞ্জ থেকে এক শিশুকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।


বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে সিটিটিসির একটি দল হবিগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে হেফাজতে নেয় বলে শুক্রবার ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।


২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ‘নব্য জেএমবি’ সন্দেহে এটাই প্রথম আটক বলে জানালো পুলিশ।


বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো, সাজ্জাত আলী ‘দেশে জঙ্গি নেই’ বলে মন্তব্য করে আলোচিত হন। এমনকী “আওয়ামী লীগের সময় জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ছেলেপেলেদের মারছে, কীসের জঙ্গি”-এমন মন্তব্যও তিনি করেন।


সাজ্জাত আলী ডিএমপি কমিশনার থাকা অবস্থাতেই গত ৩১ জানুয়ারি জঙ্গি সন্দেহে রাজধানী জিয়া উদ্যান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আহসান জহির খান (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে।


ওই ঘটনায় শেরেবাংলানগর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলাও করে পুলিশ। এই মামলাতেই হবিগঞ্জ থেকে ওই শিশুটিকে হেফাজতে নেওয়ার কথা বলেছে ডিএমপি।


বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ সালাফি মতাদর্শের ইরাক-সিরিয়াভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএএস) এর অনুসারীদের ‘নব্য জেএমবি’ হিসেবে নামকরণ করেছিল।


একই দলের সদস্যদের আবার র‌্যাব জেএমবির তামিম-সারওয়ার গ্রুপ হিসেবে নাম দিয়েছিল এবং সেভাবেই তাদের নথিপত্রে লেখা হতো। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আবারও ‘নব্য জেএমবি’ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তারের তথ্য এল।


ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জিয়া উদ্যান থেকে গ্রেপ্তার আহসান জহির ও তার সহযোগীদের সঙ্গে হবিগঞ্জ থেকে হেফাজতে নেওয়া ওই শিশুর যোগাযোগ আছে।


সে ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যমে শিয়া মসজিদ, পুলিশের চেকপোস্ট ও ইসকন মন্দিরে হামলার পরিকল্পনা ও উসকানি দিত বলে দাবি করছে পুলিশ।


আইনের সাথে সংঘাতে ‘জড়িত’ এই শিশুকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “হেফাজতে নেওয়া শিশু শেরে বাংলা নগর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আহসান জহির খান, দানিয়েল ইসলাম হাসান ও রাসেল ওরফে পলাশ ওরফে আবু বাছের আল ফারুকীর সাথে যোগাযোগ রয়েছে বলে জানা যায়।”


শিশুটি অনলাইনে ‘অত্যন্ত সক্রিয়’ দাবি করে ডিএমপি বলেছে, “সে দাওলাতুল ইসলাম (আইএস) এর পক্ষে উগ্রবাদী পোস্ট শেয়ার করে সদস্য নিয়োগ করত। এছাড়া বোমা তৈরির পিডিএফ ফাইল শেয়ার করত এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যমে শিয়া মসজিদ, পুলিশের চেকপোস্ট ও ইসকন মন্দিরে হামলার পরিকল্পনা ও উসকানি দিত বলে জানা যায়।


“বিধি অনুযায়ী হেফাজতে নেওয়া শিশুকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।”


এর আগে জিয়া উদ্যান লেকের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত থেকে আহসান জহির খানকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়ে সিটিটিসি বলেছিল, ওই ব্যক্তি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির এহসার সদস্য। তাকে গ্রেপ্তারের সূত্র ধরে পরবর্তীতে আরও চারজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেয় সিটিটিসি।


এই চারজনের মধ্যে দানিয়েল ও রাসেল ছাড়াও রয়েছেন বেলায়েত হোসেন ও তোফায়েল হোসেন তপু। তারা বিভিন্ন ধরণের নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন বলে তখন জানিয়েছিল সিটিটিসি।


তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ