ঈশ্বরদীর ১০ কেন্দ্রে হামের টিকা পেল দেড় হাজার শিশু
দেশজুড়ে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচীর প্রথম দিনে পাবনার ঈশ্বরদীতে স্থাপন করা হামের একটি স্থায়ী টিকা দান কেন্দ্রসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার ১০টি টিকাদান কেন্দ্রে দেড় হাজার শিশুকে হামের টিকা প্রদান করা হয়েছে।
রোববার (৫ এুপ্রল) ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপন করা একটি স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র, উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ৩টি, সাঁড়া ইউনিয়নে ৩টি ও মুলাডুলি ইউনিয়নে ৩টিসহ মোট ১০টি টিকাদান কেন্দ্রে এসব শিশুদের টিকাদান করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসেন মোহাম্মদ শোয়াইব এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলী এহসান এ টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, ঈশ্বরদীতে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ২৮ হাজার ৫১১ জন শিশুদের আগামী ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ১২ কর্মদিবসের মধ্যে এই টিকা প্রদান করা হবে। এ বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলী এহসান জানান, ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের এ টিকা দেওয়া হলেও যেসব শিশুদের আগে হামের টিকা প্রদান করা হয়েছে এবং তাদের সেই টিকা নেওয়ার ২৮ দিন পূর্ণ হয়নি, সেসব শিশুদের এবার টিকা দেওয়া হবে না। ঈশ্বরদীর ৭টি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে হামের টিকা প্রদান করার কার্যক্রম চলমান থাকবে। এর বাইরে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। যেখানে প্রতিদিন শিশুদের হামের টিকাদান চালু থাকবে বলে তিনি জানান।
এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব শিশুর শরীরে জ্বর রয়েছে বা বর্তমানে অসুস্থ, তাদের এ সময় টিকা না দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আগে টিকা নেওয়া থাকুক বা না থাকুক, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস (৫ বছরের কম) বয়সী সব শিশুকেই পুনরায় টিকা দেওয়া হবে। কারণ, আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশই এই বয়সী শিশু। তাই প্রথম পর্যায়ে এ বয়সসীমার মধ্যে থাকা সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে।
প্রসঙ্গত: সারা দেশে হঠাৎ হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় গতকাল রোববার থেকে দেশের ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় হাম রুবেলার টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ সংক্রামক হারের তালিকায় ঈশ্বরদী উপজেলার নামও রয়েছে।