দখল-দূষণে মৃতপ্রায় রাজশাহীর ৭৭ নদী-খাল
দখল, দূষণের কারণে নওগাঁ আত্রাই, ছোট যমুনা, তুলশীগঙ্গা, শিবনদ, নাগর নদসহ ৬টি নদী অতীত ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। এক সময়ের পূর্ণ যৌবনা স্রোতস্বিনী নদীগুলো বর্ষা মৌসুমেও যেন মরা খালে পরিণত হয়েছে। বেশিরভাগ নদীর দুই পাশে দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে ভবন ও শিল্প-কারখানা। দীর্ঘদিন ধরে নদী খনন না করায় পলি জমায় কমে গেছে নাব্যতা। বর্তমানে ময়লা আবর্জনার ফেলার ভাগারে পরিণত হয়েছে নদীগুলো।
এদিকে, নাটোর জেলার ১৯টি নদীর মধ্যে দখল দূষণে সবচেয়ে বেহাল অবস্থা নারদ নদ ও বড়াল নদীর। এছাড়া বারনই ও মুসা নদীও দখল করছেন প্রভাবশালী। এছাড়া জেলার ৫৮টি বড় খালগুলোর অধিকাংশ দখল হয়ে গেছে।
নাটোর ২ আসনের সংসদ সদস্য ও সরকারদলীয় হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নদীর সংস্কার ও খাল খননের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই তারা যেন অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়া খাল পুনরুদ্ধার করেন ও সেগুলো খনন করেন সেজন্য সোচ্চার আছে সরকার প্রধান।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৪ টি নদীর মধ্যে মহানন্দায় রাবার ড্যাম ও পাগলা নদী খননের কারণে নাব্যতা থাকলেও পুনর্ভবা ও পদ্মা নদীতে পানি নেই। জেলার বেশিরভাগই খাল দখল আর দূষণে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। তবে জিয়াউর রহমান খাল খননের জন্য এখনো কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
রাজশাহী শহরের পার ঘেঁষে বয়ে গেছে পদ্মা নদী। নদীর লালন শাহ মুক্ত মঞ্চের সামনে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে শতাধিক স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকানপাট। জেলায় একই অবস্থা অর্ধশত স্থানে। এছাড়া বড়াল, নারদ ও হুজা নদীতে বাঁধ দিয়ে ধান ও মাছের চাষ করছেন স্থানীয়রা। মহানগরীর যতো বর্জ্য ময়লা আবর্জনা মিশ্রিত পানি বারনই নদী দিয়ে ঢুকে পড়ছে পবা উপজেলার সর্বত্র। এতে ব্যাঘাত ঘটছে ফসলের উৎপাদনে।
লিজ না নিয়ে অবৈধভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কথা স্বীকার করেছেন দখলদাররা। অভিযোগ রয়েছে, কেউ কেউ সরকারি জমিকে নিজের দাবি করে চাঁদা উত্তোলন করছে। এসব দেখার যেন কেউ নেই।
এদিকে দখল দূষণের কারণে জনদুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, মহানগরীতেই শুধু অবৈধ দখলদার রয়েছে ১ হাজার ৬১২ জন। তালিকা তৈরি করা হয়েছে, নোটিশ দিয়ে অচিরেই তাদের উচ্ছেদ করা হবে। বিষয়টি রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামকেও অবহিত করা হয়েছে। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের উচ্ছেদ করা হবে।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদ জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে বেশ কিছু মৃতপ্রায় নদী ও খাল দখলমুক্ত করে সংস্কার ও খনন কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবগুলো খাল খনন করা হবে এজন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে পাশাপাশি বর্তমানে সরকারও খাল খননের জন্য তাগিদ দিয়েছেন। সবকিছু মাথায় নিয়ে রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলায় ধারাবাহিকভাবে কাজগুলো চলবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, রাজশাহী বিভাগে ৪০টিরও বেশি নদ নদী ও খাল দখল দূষণের কারণে রয়েছে অস্থিত্ব সংকটে। তবে দুই যুগ আগেও এসব নদীতে নাব্যতা ছিল।