কাকনহাট কলেজে বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষেও বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ
রাজশাহীর কাকনহাট কলেজের বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ মো. সুজাউদ্দীনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগে মানববন্ধন হয়েছে। বুধবার (৬ মে) কাকনহাট চাররাস্তা গোডাউন মোড়ে সর্বস্তরের জনতা ও কলেজ সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে মানববন্ধন-সমাবেশ থেকে বলা হয়- বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কলেজের প্যাড ও সিল জালিয়াতি করে গোপনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন পাঠিয়ে গভর্নিং বডির সভাপতি পরিবর্তন করেছেন।
বর্তমান সজ্জন ও আইনানুগ সভাপতি মো. আব্দুল হান্নান এর মেয়াদ থাকাকালীন এবং কোনো পদত্যাগ ছাড়াই হঠাৎ ‘অজানা’ এক বহিরাগত ব্যক্তি মো. সারোয়ার জাহান দুরুল, যিনি কাকনহাট এলাকার বাইরের ব্যক্তিকে সভাপতি নিযুক্ত করেছে। সবার অজান্তে গোপনে এমন সভাপতি নিয়োগের চিঠিতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সমাবেশ খেকে বক্তারা বলেন, গত বছর কলেজের প্রায় ৮৮ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ ও নানাবিধ দুর্নীতির দায়ে গভর্নিং বডি কর্তৃক সাময়িক বরখাস্ত হন তৎকালীন অধ্যক্ষ। বরখাস্তের পর তিনি কলেজের গুরুত্বপূর্ণ নথি ও রেজুলেশন খাতা চুরি করে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে একটি মামলা চলমান।
নিজেকে স্থায়ী বহিষ্কার থেকে বাঁচাতে এবং তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে ওই বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ কলেজের প্যাড ও সিল ব্যবহার করে জালিয়াতির আশ্রয় নেন। বর্তমান গভর্নিং বডি ও শিক্ষকদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সভাপতি পরিবর্তনের আবেদন পাঠান। অভিযোগ উঠেছে, গত ১৬ বছরের ‘অশুভ’ রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নতুন সভাপতি নিয়োগের একটি চিঠি ইস্যু করান।
বক্তারা বলেন, কাকনহাট কলেজের বর্তমান সভাপতি কলেজেরই সাবেক অধ্যক্ষ এবং এলাকার একজন অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। তার মেয়াদের আরও প্রায় ১০ মাস বাকি থাকা সত্ত্বেও কোনো প্রকার কারণ ছাড়াই তাকে সরিয়ে দেওয়ায় এলাকায় ক্ষোভের আগুন জ্বলছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন:“যেখানে কলেজ কর্তৃপক্ষ নতুন কোনো সভাপতির জন্য আবেদনই করেনি, সেখানে একজন বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ কীভাবে জালিয়াতি করে সভাপতি পরিবর্তন করেন? এটি স্পষ্টত কলেজকে পুনরায় লুটপাটের আখড়য় পরিণত করার একটি নীল নকশা।”
সমাবেশ থেকে জানান হয়- দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযুক্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অভিযোগ দায়ের করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এছাড়া তার স্থায়ী বহিষ্কারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। দুইমাস আগে সেই তদন্ত দল সরেজমিনে কলেজ পরিদর্শন করে গেছেন। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ভয়েই তিনি তড়িঘড়ি করে নিজের পছন্দের ‘বহিরাগত’ সভাপতি বসিয়ে স্বপদে ফেরার চেষ্টা করছেন।
অভিযোগ উঠেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা অনুযায়ী গভর্নিং বডির বর্তমান সভাপতির পদত্যাগ বা মৃত্যুজনিত কারণ ছাড়া নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অথচ বর্তমান সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সম্পূর্ণ অজান্তে এবং কোনো রেজুলেশন ছাড়াই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা স্পষ্টত বিশ্ববিদ্যালয় বিধিমালার পরিপন্থী। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আইনি নোটিশ পাঠানোর প্রক্রিয়া ও শুরু করা হয়েছে।
শিক্ষক-কর্মচারীদের মাঝে আতঙ্ক ও বেতন অনিশ্চয়তাসহ অধ্যক্ষের এই জালিয়াতির ফলে কলেজের প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। সাধারণ শিক্ষক ও কর্মচারীরা আশঙ্কা করছেন, সভাপতির পদ নিয়ে এই জটিলতা দীর্ঘস্থায়ী হলে তাদের মাসিক বেতন-ভাতা এবং আনুষঙ্গিক বিলে স্বাক্ষর করার মতো কোনো বৈধ কর্তৃপক্ষ থাকবে না। এতে কয়েকশ পরিবারের জীবন-জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।