বহুতলবিশিষ্ট আধুনিক সম্প্রচার ভবন নির্মাণের প্রস্তাব রাজশাহী ডিসির
বহুতলবিশিষ্ট আধুনিক সম্প্রচার ভবন নির্মাণের প্রস্তাব করেছেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য ডিসি সম্মেলনে তিনি এই প্রস্তাব করেন।
প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তিও তুলে ধরেছেন তিনি। তিনি বলেন, ১৯৬২ সালে নির্মিত বাংলাদেশ বেতার, রাজশাহী কেন্দ্রের প্রচার ভবনটি বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে নিরাপত্তার দিক থেকে এটি ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিদিন সরকারি/বেসরকারি/উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ শিল্পীরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য বেতারে আসেন। স্টুডিও সংকটের কারণে যুগোপযোগী অনুষ্ঠান নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
মানসম্পন্ন অনুষ্ঠান নির্মাণ, দপ্তরে আগত শিল্পী/কথকদের প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান, যন্ত্রপাতি সংরক্ষণ ও কর্মকর্তা/কর্মচারীদের কক্ষের অপ্রতুলতা দূরীকরণ ও নিরাপত্তার জন্য দ্রুত ভবন নির্মাণ করা অতি প্রয়োজন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বাস্তবায়নের সুপারিশে বলা হয়, বহুতলবিশিষ্ট আধুনিক সম্প্রচার ভবন নির্মাণ করা যেতে পারে।
কাজী শহিদুল ইসলাম আলোকচিত্রের স্ট্যান্ড ভ্যান-সংবলিত সিনেমা ভ্যান গাড়ি সংযোজনের প্রস্তাব করেছেন। তার এই প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি হলো- প্রান্তিক পর্যায়ে সচেতনতাধর্মী চলচ্চিত্র প্রদর্শনের কাজ সহজ হবে; সরকারের বার্তা জনগণকে জানানো সহজ হবে; স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে সরাসরি জনগণের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে, ফলে সচেতনতা বাড়বে। আলোকচিত্রের স্ট্যান্ড ভ্যান-সংবলিত সিনেমা ভ্যান গাড়ি সংযোজন করা যেতে পারে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সড়ক প্রচার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রচারের গাড়ি সংযোজনের প্রস্তাব করেন তিনি। তার প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি হলো- ব্যাপক পরিসরে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হবে; চলমান গাড়ির মাধ্যমে অল্প সময়ে বিভিন্ন স্থানে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে; দুর্যোগ বা জরুরি অবস্থায় দ্রুত জনগণকে সতর্কবার্তা পৌঁছানোর জন্য প্রচারের গাড়ি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। বাস্তবায়নের সুপারিশে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলেছে, সড়ক প্রচার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রচারের গাড়ি সংযোজন করা যেতে পারে।
বিভাগীয় পর্যায়ে স্বতন্ত্র বিভাগীয় তথ্য অফিস স্থাপনের প্রস্তাব করেছেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি- বিভাগীয় পর্যায়ে কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে; বিভাগের ৮টি জেলার কার্যক্রমের সমন্বয় সাধন হবে; যেকোনো ভিআইপি কভারেজ দেওয়া সহজ হবে। বিভাগীয় পর্যায়ে স্বতন্ত্র বিভাগীয় তথ্য অফিস স্থাপন করা যেতে পারে বলে সুপারিশ এসেছে।
এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে নিবন্ধনহীন মিডিয়াসহ ইউটিউব-ফেসবুকে মানহীন ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার অস্থিরতা তৈরি করছে। পাশাপাশি রয়েছে এআইয়ের (আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স) ভুল প্রয়োগ।এতে হয়রানি বেড়েছে।
আর সব ধরনের ‘অপসাংবাদিকতা’র বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব তোলা হচ্ছে ডিসি (জেলা প্রশাসক) সম্মেলনে। নিয়ন্ত্রিত ও নীতিমালার আওতায় মিডিয়া পরিচালিত হলে পেশাদার সাংবাদিকতা উৎসাহিত হবে এবং গণমাধ্যমের মান উন্নত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্মেলনকে কেন্দ্র করে মাঠ পর্যায় থেকে ডিসিরা যেসব প্রস্তাব পাঠান, তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ লিপিবদ্ধ করে। এর মধ্য থেকে যুক্তি ও গুরুত্ব বিবেচনায় বাছাই করে সেগুলো বাস্তবায়নের সুপারিশ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ডিসি সম্মেলনের আগে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত বিষয়াবলিতে সাতটি প্রস্তাব পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সম্মেলনের শেষ দিন বুধবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কার্য-অধিবেশনে প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।
তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ