বুধবার, মে ০৬, ২০২৬

এপ্রিলে সড়কে ঝরেছে ৪০৪ প্রাণ, ৪৮ জনই শিশু

সোনার দেশ ডেস্ক ০৬ মে ২০২৬ ০৯:৩৯ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ০৬ মে ২০২৬ ০৯:৩৯ অপরাহ্ন
এপ্রিলে সড়কে ঝরেছে ৪০৪ প্রাণ, ৪৮ জনই শিশু
এপ্রিলে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে/ ফাইল ছবি

এপ্রিল মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০৪ জন নিহত হয়েছেন। এ মাসে ৪৬৩ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭০৯ জন। নিহতদের মধ্যে ৫৩ জন নারী ও ৪৮ শিশু রয়েছে। এসব দুর্ঘটনার ১৯৪টি ঘটেছে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে, যা মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৪২ শতাংশ। এছাড়া ১০৬টি ঘটনায় পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়া হয়েছে, ৯৭টি দুর্ঘটনায় যানবাহনের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।


এপ্রিলে ৪৬৩টি দুর্ঘটনার মধ্যে সর্বোচ্চ ১৯৩টি ঘটেছে দেশের আঞ্চলিক সড়কে, যা মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৪২ শতাংশ। জাতীয় মহাসড়কে দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৬৮টি (৩৬ দশমিক ২৮ শতাংশ)। বাকিগুলো ঘটেছে শহর ও গ্রামের সড়কে। এছাড়া গত মাসে ৭টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত ও ১১ আহত হয়েছেন। একই সময়ে ৩৪টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন।


রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এপ্রিল মাসের সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করে বুধবার (৬ মে) গণমাধ্যমে পাঠিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে সড়কে ১৪২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১১৩ জন। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩০ দশমিক ৬৬ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ১০২ জন পথচারী নিহত হয়েছেন। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৪৬ জন।


এপ্রিলে দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহন ৬৫৯টি। এর মধ্যে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, ট্রলি, লরি, ট্যাঙ্কলরি ও সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী ট্রাক ২৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২৩ দশমিক ২১ শতাংশ এবং থ্রি–হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা) ১৭ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে সকালে, যা মোট দুর্ঘটনার ২৮ দশমিক ৫০ শতাংশ।


গত এপ্রিলে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১০৯টি দুর্ঘটনায় ১০২ জন নিহত হয়েছেন। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ১২টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১২ জন। রাজধানী ঢাকায় ৩৬টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৬৭ জন আহত হয়েছেন।


দুর্ঘটনার পেছনে ১১টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এগুলো হলো- ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক অবকাঠামো, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা এবং শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা; বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা; মহাসড়কে স্বল্প গতির যানবাহন চলাচল; তরুণ-যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো; জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা; দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা; বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।


তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ