বৃহস্পতিবার, মে ০৭, ২০২৬

রাজশাহীতে টেন্ডার বাক্স ছিনতাই

সোনার দেশ ০৬ মে ২০২৬ ১১:১৮ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ০৬ মে ২০২৬ ১১:১৮ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে টেন্ডার বাক্স ছিনতাই

শক্ত হাতে প্রতিহত করতে হবে

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) নিলামের টেন্ডার বাক্স পুলিশের সামনে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা নগরীতে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এই ঘটনা সোনার দেশসহ দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ৫ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যুবদলেরএকদল নেতাকর্মী আরডিএ ভবনে প্রবেশ করে। এ সময় তারা সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের সামনেই হঠাৎ করে টেন্ডার বাক্সটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়।


ঘটনার কিছু সময় পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছিনতাই হওয়া টেন্ডার বাক্সটি উদ্ধার করে পুনরায় আরডিএ কার্যালয়ে নিয়ে আসে। দুপুর আড়াইটার দিকে উদ্ধার হওয়া টেন্ডার বাক্সটি খোলা হয়। যাচাই-বাছাইয়ের সময় বেশ কিছু দরপত্রে কাটাকাটির চিহ্ন পাওয়া যায়, যা পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। দরপত্র বাতিল হবে কি না, সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


ছিনতাইয়ের সাথে যুবদলের দুই নেতাকে দলের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, আরডিএ ভবনে টেন্ডারের বাক্স সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে, যা রাজশাহী মহানগর যুবদলের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ঘটনাটি সংগঠনের ভাবমূর্তি ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী হওয়ায় বিষয়টি সংগঠনের পক্ষ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।


২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে টেন্ডার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। রাজশাহীর পবা উপজেলায় হাটের টেন্ডার নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষ হয়। এসময় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে টেন্ডার বাক্স লুট করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। রাজশাহীতে টেন্ডার সংক্রান্ত সন্ত্রাস বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। 


দুটো ঘটনার সাথেই বিএনপির নেতাকর্মিদের জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে। সাধারণ মানুষ এ ধরনের ঘটনাকে ভালভাবে নিবে না এটাই স্বাভাবিক। অন্তর্বর্তী সরকারের অনিশ্চয়তার পর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি সরকারে আছে। সরকারের বয়স দু মাসের মত হয়েছে। এই সরকার দেশে একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করবে- এটাই নাগরিক প্রত্যাশা। সরকারের পক্ষ থেকেই ইতিবাচক কিছু কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। যা দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।


কিন্তু দলের কর্মিদের বেয়াড়াসুলভ আচরণ সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এটা মোটেও কাম্য নয়। বিএনপি নেতৃত্বকে শক্ত হাতে লাগাল টেনে ধরতে হবে, যাতে করে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী কোনো কর্মকাণ্ডে দলের কর্মিরা জড়াতে না পারে। কিংবা তারা যেন কোনোভাবেই আশ্রয় প্রশ্রয় না পায়। সময় এখনই। বিলম্ব হলে লাগাম ছিড়ে যাওয়ার আশংকা থেকেই যায়। সময় থাকতে সাবধান-সতর্ক হওয়াই সমীচীন হবে।