রবিবার, মে ০৩, ২০২৬

আজ বিশ্ব মুক্তগণমাধ্যম দিবস

সোনার দেশ ০২ মে ২০২৬ ১১:২৯ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ০২ মে ২০২৬ ১১:২৯ অপরাহ্ন
আজ বিশ্ব মুক্তগণমাধ্যম দিবস

ভয়ের সংস্কৃতি থেকে সংবাদমাধ্যমকে বের করে আনতে হবে

আজ বিশ্ব মুক্তগণমাধ্যম দিবস। ৩ মে দিবসটি পালিত হয়। দিবসটির আগেই ‘বৈশ্বিক গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচক’ প্রকাশ করেছে অলাভজনক সংস্থা রিপোর্টাস উইথআউট বর্ডারস (আরএসএফ)। প্রকাশিত সূচকে বাংলাদেশ তিন ধাপ পিছিয়েছে। এ বছর ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫২তম, যা গত বছর ছিল ১৪৯ তম।


প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বেজুড়েই সংবাদপত্রের স্বাধীনতা গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্ব সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সূচকের ইতিহাসে প্রথমবারের মত অর্ধেকেরও বেশি দেশ ‘কঠিন’ অথবা ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। গত ২৫ বছরের মধ্যে সূচকে অন্তর্ভুক্ত ১৮০টি দেশ ও অঞ্চলের গড় স্কোর এর আগে কখনো এতোটা নিচে নামেনি।


গণমাধ্যমের রাজনৈতিক কাঠামো বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে প্রতিটি সরকার গণমাধ্যমকে নিজেদের ‘প্রচারের হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করেছে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনা সরকারও এর ব্যতিক্রম ছিল না। ওই সময় সেন্সরশিপ, সাইবার হয়রানি, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার চাপ, বিচারিক হয়রানি, দমন-পীড়নমূলক আইন ও পুলিশের সহিংসতার মুখে সাংবাদিকতা চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।


গণমাধ্যমের আইনি বাধা হিসেবে, বিগত আওয়ামী লীগ আমলে প্রণিত বিতর্কিত ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ এর পরিবর্তে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় করা ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন’- এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আরএসএফ বলছে, এই আইন সাংবাদিকদের বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার এবং গোপনীয়তা লঙ্ঘনের সুযোগ দেয়।


বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষার ওপরই গুরুত্বরোপ করছে। এটা অবশ্যই আশা জাগানিয়া বার্তা। কিন্তু এর প্রয়োগ অবশ্যই প্রমাণ-সাপেক্ষ। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আন্তবর্তী সরকার আমলে সাংবাদিক ও সংবাদ মাধ্যমে ভীতির সংস্কৃতি মারাত্মক গতি পেয়েছে। প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে ক্ষমতাসীনদের কথা ও কাজে গণমাধ্যমের জন্য ভীতির কারণ থাকলে মুক্ত গণমাধ্যম কোনোভাবেই মুক্ত হতে পারবে না। এর জন্য সর্বাগ্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন হবে।


এই সদিচ্ছার মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা একটা মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারে। একই সাথে গণমাধ্যমে দায়িত্বশীলতাও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা সংবাদ মাধ্যম ও সংবাদ কর্মিদেরই নিশ্চিত করতে হবে।