হাসপাতালে নেই জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন
দরিদ্র রোগিরা পড়ছেন বিপাকে
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের (এআরভি) তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্যমতে দুই সপ্তাহ আগে শেষ হয়ে গেছে ভ্যাকসিনের মজুদ। তথ্যমতে, ছয় মাস ধরেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে টিকার সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালের নিজস্ব উদ্যোগে ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে দুই হাজার ভ্যাকসিন কেনা হয়েছিল- তাও শেষ হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, রাজশাহী মহানগরীসহ আশেপাশের জেলা ও উপজেলাগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ জন রোগী কুকুর, বিড়াল কামড় ও আঁচড় খেয়ে চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে আসেন। নিয়ম অনুযায়ী, এসব রোগীকে বিনামূল্যে জলাতঙ্ক টিকা দেয়ার কথা থাকলেও তা ১৪ দিন ধরে কাউকে হাসপাতাল থেকে টিকা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। জরুরি বিভাগে আসা অধিকাংশ রোগীই দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের। হাসপাতাল থেকে ‘টিকা নেই’ জানিয়ে দেয়ার পর রোগীরা বাধ্য হয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকে চড়া মূল্যে ভ্যাকসিন কিনছেন। এতে করে একেকজন রোগীর চিকিৎসায় কয়েক গুণ বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে, যা অনেকের পক্ষেই বহন করা দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংবাদ মাধ্যমের তথ্য বলছে, এ পরিস্থিতি শুধু রাজশাহীতেই নয়- সারা দেশের সরকারি হাসপালগুলোতে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে তেমনই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। ইপিআই অফিস সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে- বাফার স্টকে ভ্যাকসিন নেই। যদিও স্বাস্থ্যমন্ত্রী অবশ্য সেটি নাকচ করেছেন। বুধবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় বিবিসি বাংলার এ সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি দাবি করেন, টিকার কোনো সংকট নেই। তিনি বলেন, “আমাদের ছয় মাসের স্টক আছে। নয়টা ভ্যাকসিনের সবগুলোই আমাদের হাতে আছে। যক্ষার বিসিজি টিকাসহ সব টিকা আমাদের হাতে আছে। কোনো সমস্যা নেই‘।
সমস্যা থাকবে না- এটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু বাস্তবতা হলো সরকারি হাসপাতালে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন (এআরভি) মিলছে না। আক্রান্তদের চড়ামূল্যে বাহির থেকে কিনতে হচ্ছে। ভ্যাকসিনের যে ঘাটতি তা নিয়ে ধোঁয়াশার প্রয়োজন আছে বলেও মনে হয় না। বরং দ্রুততার সাথে ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করাটাই যুক্তিযুক্ত হবে।