ভূমি খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন
মানুষের আস্থা অর্জন করাই বড় চ্যালেঞ্জ
দেশের ভূমি সেবা কার্যক্রমে ঘুষ, দুর্নীতি, দালালের দৌরাত্ম্য, এবং দলিল জালিয়াতি দীর্ঘদিনের প্রধান সমস্যা। যদিও বর্তমানে ডিজিটালাইজেশন বা অটোমেশনের মাধ্যমে এই দুর্নীতির সুযোগ কমানোর চেষ্টা চলছে, তবুও ইউনিয়ন ও উপজেলা ভূমি অফিসে হয়রানি ও অনিয়ম এখনো বিদ্যমান, যা দূর করতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
সরকারের ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু আশ্বস্ত করেছেন আগামী ৬ মাসের মধ্যে ভূমি খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে। একই সাথে তিনি স্বীকার করেছেন, ভূমি সেবা নিয়ে মানুষের মনে সন্দেহ-অবিশ্বাস আছে, তা দূর করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। ২৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে অবস্থিত সিটিজেন কেয়ার সেন্টার এবং কল সেন্টার (১৬১২২) এর কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এই প্রতিশ্রুতির কথা ব্যক্ত করেন।
ভূমি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যেই মাঠ পর্যায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। বলা হচ্ছে-ভূমি অফিসগুলোতে সেবা প্রাপ্তিতে হয়রানি, অনিয়ম, দুর্নীতি ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে এখন থেকে দ্রুত মিলবে এর প্রতিকার। রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলার উপ-উপজেলা সদর ভূমি অফিসগুলোতে এক যোগে এ সংক্রান্ত ব্যানার টানানো হয়েছে।
ই-নামজারি থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ০১৭৬২-৬৯২১০৩-এবং বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের ভূমি সংক্রান্ত যে কোন অভিযোগ ০১৭০৬-৮৮৮৭৮৭ নাম্বারে অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণক সহ ওই নাম্বারে স্ক্যান করে প্রেরণ করা হলে গোপনীয়তা বজায় রেখে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এছাড়াও ভূমি সেবা হটলাইন (১৬১২২): যে কোনো ভূমি অফিসে ঘুষের দাবি বা হয়রানির শিকার হলে ভুক্তভোগীরা সরাসরি ১৬১২২ নম্বরে অভিযোগ জানাতে পারবেন। এটি সপ্তাহের ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা সচল থাকে এবং মন্ত্রণালয় থেকে সরাসরি তদারকি করা হয়।
সরকারের এ উদ্যোগ খুবই আশা জাগানিয়া। ভূমি খাতে ঘুষ, দুর্নীতি, দালালের দৌরাত্ম্য ও দলিল জালিয়াতির খপ্পরে পড়ে মানুষের নিপীড়ন-নাজেহালের শেষ থাকে না। এই পরিস্থিতি দেশে দারিদ্র বিস্তারেও ভূমিকা রাখে। মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এই ব্যবস্থা চলে আসছে। সরকার আসে সরকার যায় কিন্তু পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয় না। অথচ দায়িত্বশীলদের অঢেল প্রতিশ্রুতি থাকে। দেশে ডিজিটাইলেজশন ভূমি সেবার মানোন্নয়নে আশার সঞ্চার করেছে বটে।
কিন্তু সেবা প্রদানকারিরা যদি আন্তরিক না হন, তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না হয় তা হলে বর্তমানের প্রতিশ্রুতিও কেবল প্রতিশ্রুতি হয়ে থাকবে। তবুও আশান্বিত হতেই হয়। সরকারের এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক সুদৃঢ় করবে সেটাই প্রত্যাশিত। এবং আস্থা অর্জন করাটাই বড় চ্যালেঞ্জ।