ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় ফসলের ক্ষতি
কৃষকদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা হোক
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়নের দিঘলকান্দী গ্রামে একটি ইটভাটার তাপ ও কালো ধোঁয়ার কারণে আম, কলা-সহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল নষ্টের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভাটার তীব্র তাপ ও নির্গত কালো ধোঁয়ার প্রভাবে আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমির ফসল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে চলতি মৌসুমে আম, কলা-সহ অন্যান্য ফলনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
শুধু ফসলের ক্ষতিই নয়, ভাটার নিকটবর্তী একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবেশও মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে উঠেছে। ধোঁয়া ও তাপের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি বর্ষাকালে ভাটার পাশের রাস্তা কাদা ও দূষণে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে, ফলে স্থানীয়দের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের ভাষ্যমতে, ইটভাটার কালো ধোঁয়া পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কয়লা ও কাঠ পোড়ানোর ফলে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়ায় কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইডের মতো গ্যাস থাকে, যা বায়ুমণ্ডলকে দূষিত করে এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়িয়ে দেয়।
ইটভাটা সৃষ্ট দূষণে বয়স্ক ও শিশুরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইটভাটার কালো ধোঁয়ার কারণে মানুষের ফুসফুসের সমস্যা, শ্বাসকষ্ট ও ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগ বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়াও ইটভাটার কালো ধোয়া ফসল ও পরিবেশের উপর বিরুপ প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে কৃষিজমি বড় ক্ষতির মুখে পড়ে। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইনে (২০১৩) নিষেধ থাকা সত্ত্বেও লোকালয় তথা মানুষের বসতবাড়ির ১ কি.মি. এর মধ্যে ইটভাটা থাকার আধিক্য লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। দেশের অধিকাংশ ইটভাটা এই আইনের পরিপন্থি হলেও ইটভাটা চালিয়ে যেতে পারে।
অবৈধ ইটভাটার এই দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলেও জনবসতি ও ফসলি জমির কাছে এগুলো এখনো বড় সমস্যা। অনেক ইটভাটা পরিবেশ অধিদপ্তর ও কৃষি অফিসের ছাড়পত্র ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। অবৈধ ও পরিবেশ-অবান্ধব ইটভাটাগুলো দ্রুত বন্ধ করা বাঞ্ছনীয়। সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ইট তৈরির প্রতি মনোযোগূ হওয়ার সময় এসেছে।
পুঠিয়ায় ইটভাটার কালো ধোঁয়ার কারণে যে ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। সত্যতা প্রমাণিত হলে ওই ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নেয়া হোক।