দাউকান্দি কলেজে সন্ত্রাসী হামলা
তদন্ত করে দোষিদের শাস্তি দিতে হবে
রাজশাহীর দুর্গাপুরে দাউকান্দি সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ ও নারী শিক্ষক (প্রদর্শক)কে মারধর ও কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা নারী শিক্ষককে স্যান্ডেল দিয়ে মারপিট করে চুল ধরে বাইরে টেনেহেঁচড়ে নিয়ে যায়। ২৩ এপ্রিল কলেজের স্নাতক (ডিগ্রি) পরীক্ষার সময় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে হামলাকারীরা কলেজ প্রাঙ্গণে ঢুকে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যমে খবর হয়েছে।
কলেজের নারী প্রদর্শককে স্যান্ডেল দিয়ে পেটানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। হামলার ঘটনা ব্যাপকভাবে আলোচনা ও সমালোচনা হয়। হামলায় আহত অধ্যক্ষ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আর প্রদর্শক রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ওই ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মিদের দায়ি করেছেন। অভিযোগ মতে হামলাকারিরা চাঁদা না চেয়ে ওই সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটিয়েছে।
ওই ঘটনার সাথে জড়িত অভিযোগে দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে লিপ্ত থাকার সুষ্পষ্ট অভিযোগে দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলীকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।
সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী দাউকান্দি সরকারি কলেজে সংঘটিত ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙ্চুর ও শিক্ষকদের মাপিটের ঘটনা মোটেও হাল্কা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। হামলার সমর্থনে যাই বলা হোক না কেন- কলেজে হামলা হয়েছে, ভাঙ্চুর হয়েছে এবং অধ্যক্ষ ও প্রদর্শককে মারপিট করা হয়েছে- এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই।
সংবাদ তথ্যমতে ঘটনা পুলিশের উপস্থিতিতে হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষই অভিযোগ করেনি। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি রাখে। একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত সত্য সামনে আনা বাঞ্ছনীয়। যে বা যারাই দোষি সাব্যস্থ হবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নতুবা এ ধরনের ঘটনা একের পর এক ঘটতে থাকবে- যা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য সহায়ক হবে।