উৎপাদিত পণ্য পরিবহণে বিপাকে পড়ছেন কৃষকরা
সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া উচিত
দেশের অর্থনীতির মূল দুই চালিকাশক্তি কৃষি ও শিল্প খাত আজ এক গভীর সংকটের মুখোমুখি। জ্বালানি সংকট এ দুই খাতের প্রাণশক্তি কেড়ে নিচ্ছে। দেশে বিভিন্ন সবজি ও ফলমূলের বাম্পার ফলন হলেও উৎপাদিত পণ্য পরিবহণে চরম বিপাকে পড়ছেন কৃষকরা।
জানা গেছে, বিভিন্ন মৌসুমি ফল ও সবজি বাজারে আসার আগে খেতেই নষ্ট হচ্ছে। অনেকে উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে বিক্রি করে দিচ্ছেন সবজি ও ফল। আবার অনেকে বিক্রি করার সুযোগই পাচ্ছেন না। ফলে আর্থিক খতির মুখে পড়ছেন কৃষক। জ্বালানি সংকট চলতে থাকলে জমিতে সেচের কাজও ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে বোরো মৌসুমে সেচ পাম্পগুলো সচল রাখতে না পারলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে। এর ফলে চালসহ নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যেতে পারে।
এদিকে পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে দেশীয় শিল্প খাত গভীর সংকটের মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের উচিত কৃষি ও শিল্প খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে জ্বালানি বণ্টনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া। জ্বালানি খাতের অপচয় ও পদ্ধতিগত লোকসান কমানোর জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, কৃষি ও শিল্প খাতকে রক্ষা করা প্রয়োজন কেবল অর্থনীতির স্বার্থেই নয়, এটি দেশের অস্তিত্বের প্রশ্ন। তাই এ ব্যাপারে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। অন্যথায়, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
দেশের অর্থনীতি যখন উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে এক দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখন জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা এবং চলতি মাসে দ্বিতীয়বার এলপিজির দাম বাড়ানো নিঃসন্দেহে জনজীবনের জন্য দুঃসংবাদ। ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণ হিসাবে সরকারের এ সিদ্ধান্তের সরাসরি অভিঘাত পড়বে সাধারণ মানুষের পকেটে। বিশেষ করে শিল্প, কৃষি ও সেবা-জাতীয় অর্থনীতির তিন প্রধান স্তম্ভে জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি যে নেতিবাচক চেইন রিঅ্যাকশন তৈরি করবে, তা সামলানো বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত কঠিন হবে।
বলা বাহুল্য, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কেবল পরিবহণ ভাড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর বহুমাত্রিক প্রভাব বাজারব্যবস্থাকে মুহূর্তেই অস্থিতিশীল করে তোলে। ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ার ফলে পণ্যবাহী ট্রাক ও লরির ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজধানীর বাজারে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানেই নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।
এ অবস্থায় সরকারকে কেবল মূল্য নির্ধারণে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে হলে পরিবহণ ভাড়ার যৌক্তিক সমন্বয় এবং বাজার সিন্ডিকেট দমনে কঠোর মনিটরিং প্রয়োজন। পাশাপাশি কৃষি ও শিল্প খাতে জ্বালানি নিরবচ্ছিন্ন রাখতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরবরাহব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে। বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে রক্ষা করতে হলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং উৎপাদন খাতের সক্ষমতা বজায় রাখার কোনো বিকল্প নেই। নতুবা এই মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে।