যুদ্ধের ভয়ংকর পরিণতি, সমুদ্রে মিশছে বিপুল পরিমাণ তেল, ক্ষতিগ্রস্ত জলজীবন!
প্রায় ৪৫ দিন ধরে চলা আমেরিকা-ইরান সংঘাতের জের! হামলা-পাল্টা হামলার জেরে গালফ দেশ (বাহরিন, ওমান, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং সৌদি আরব) সংলগ্ন সমুদ্রের একাধিক জায়গায় বিপুল পরিমাণ তেল চুঁইয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। আর তা বাড়তে বাড়তে সমুদ্রে এতটাই জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যে, মহাশূন্য থেকে তোলা ছবিতেও (স্যাটেলাইট ইমেজ) স্পষ্ট! সমুদ্রে এভাবে তেল মেশার ঘটনায় পড়ার ঘটনায় উদ্বেগে বিজ্ঞানীরা।
তাঁদের দাবি, এর নেতিবাচক প্রভাব শুধুমাত্র গালফ দেশের উপকূলীয় অংশে বসবাসকারী জনবসতির উপরই যে পড়তে পারে, তা নয়। ঘটনায় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে ওই এলাকার সামুদ্রিক প্রাণীকুলও। পরিবেশগত বিপর্যয় যেমন অচিরেই ঘটতে পারে এবং তার ফলে সমস্যায় পড়তে পারেন হাজার হাজার মানুষ, তেমনই মাছ থেকে শুরু করে কচ্ছপ, ডলফিন, তিমি-সহ একগুচ্ছ সামুদ্রিক প্রাণীর জীবন সংকটে পড়তে পারে। সবচেয়ে বড় সমস্যা, এই তেল নিষ্কাশন করে, সমুদ্রের জল পরিশোধন করার পদ্ধতি অত্যন্ত কঠিন এবং জটিল।
৭ এপ্রিল তোলা একটি স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গিয়েছে, ইরানের কাশেম দ্বীপের কাছে হরমুজ প্রণালীর একাংশ জুড়ে প্রায় পাঁচ মাইল এলাকায় বিপুল পরিমাণ তেল চুঁইয়ে পড়ে, ছড়িয়ে রয়েছে। ভাসছে জলে। গ্রিনপিস জার্মানির মুখপাত্র, নিনা নোয়েল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হরমুজের ওই অংশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল একটি ইরানি জাহাজ। সেটি থেকেই তেল গড়িয়ে পড়ে ভাসতে থাকে সমুদ্রের জলে।
এছাড়াও আরও কিছু স্যাটেলাইট ছবি সামনে এসেছে, যেখানে দেখা গিয়েছে-ওই একই দিন লাবান দ্বীপের কাছে তেল চুঁইয়ে পড়ে রয়েছে সংলগ্ন সমুদ্রের বেশ অনেকখানি জায়গাজুড়ে। খবর হল, ওই দ্বীপে ইরানের একটি তৈল শোধনাগার ছিল, যেখানে আমেরিকার সেনা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। সেখানে বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটে যায়। মার্কিন হামলায় শোধনাগার থেকে তেল চুঁইয়ে পড়ে, সংলগ্ন সমুদ্রে গিয়ে মেশে। উদাহরণ আরও রয়েছে। ৬ এপ্রিল কুয়েতের উপকূলের কাছে তেল চুঁইয়ে পড়ার ঘটনা ঘটে। ইরানের সেনা জানায়, তারা কুয়েত-সহ গালফ-ভুক্ত কিছু দেশের তৈল উত্তোলন কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল। সেখান থেকে তেল চুঁইয়ে সমুদ্রে গিয়ে মেশে।
তথ্যসূত্র: সংবাদ প্রতিদিন অনলাইন