হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন সরাতে ৬ মাস লাগবে: পেন্টাগন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও, হরমুজ প্রণালি নিয়ে অশ্চিয়তা কাটছে না। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন মার্কিন কংগ্রেসকে এক গোপন ব্রিফিংয়ে জানিয়েছে, ইরান এই জলপথে যে মাইনগুলো পেতে রেখেছে, সেগুলো পরিষ্কার করতে অন্তত ৬ মাস সময় লাগতে পারে।
এই আলোচনার সঙ্গে পরিচিত তিনজন কর্মকর্তা দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-কে এই তথ্য জানিয়েছেন। খবর মানি কন্ট্রোলের।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই তথ্য ডেমোক্র্যোট ও রিপাবলিকান উভয় পক্ষের নেতাদের হতাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে ইরানের সঙ্গে কোনো সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি হওয়ার পরও গ্যাস ও তেলের দাম চড়া থাকতে পারে।
এই খবর এমন এক সময়ে এলো যখন বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০১ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুড ফিউচার্স ব্যারেল প্রতি বর্তমানে ৯২ ডলারে পৌঁছেছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, ইরান প্রায় ২০টিরও বেশি মাইন এই প্রণালির আশেপাশে মোতায়েন করেছে। এর মধ্যে বেশ কিছু মাইন অত্যাধুনিক জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে স্থাপন করা হয়েছে। ফলে এগুলো খুঁজে বের করা এবং নিষ্ক্রিয় করা মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
মানি কন্ট্রোলের প্রতিবেদনের তথ্যমতে, মার্চ মাসে ইরান এই প্রণালিতে মাইন বসানো শুরু করে। এর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন যে, মাইন অপসারণ না করলে ইরানকে ‘নজিরবিহীন পরিণতির’ মুখোমুখি হতে হবে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী খুব নিখুঁতভাবে মাইন মোতায়েনকারী ইরানি জাহাজগুলো ধ্বংস করছে। তিনি বলেন, “আমরা হরমুজ প্রণালীকে জিম্মি করতে দেব না।”
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মজিদ তাখত-রাভানচি মাইন বসানোর কথা অস্বীকার করেছেন, তবে নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান নিজেই হয়তো সব মাইনের সঠিক অবস্থান এখন আর জানে না।
এই সংঘাতের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং জনমনে অসন্তোষ তৈরি হওয়ায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অ্যাপ্রুভাল রেটিংয়ে প্রভাব পড়ছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম ছিল ২.৯৮ ডলার, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.০২ ডলারে। বিশেষজ্ঞ সংস্থা ‘গ্যাসবাডি’ জানিয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ক্যালিফোর্নিয়াসহ পশ্চিম উপকূলের অঙ্গরাজ্যগুলোতে গ্যাসের দাম প্রতি গ্যালন ৮ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে।
কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রিচার্ড নেফিউ বলেন, মাইন অপসারণের এই দীর্ঘ সময় বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলবে, কারণ বিমাকারী এবং জাহাজ পরিচালনাকারীরা এই ঝুঁকিপূর্ণ পথে জাহাজ চালাতে চাইবেন না। এমনকি আংশিক বিঘ্ন ঘটলেও বিশ্ববাজারে এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে।
তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি