সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬

পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

সোনার দেশ ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৪৭ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৪৭ অপরাহ্ন
পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

পরিস্থিতি ভয়াবহ, সমাধানের উপায় কী?

বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ হচ্ছে পানিতে ডুবে যাওয়া। পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর খুবই উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞদের মতে এটা নীরব মহামারির মত। সংবাদ মাধ্যমের সূত্র মতে চলতি বছর ইদুল ফিতরের ছুটিতে মাত্র ১৪ দিনে (১৪ থেকে ২৮ মার্চ) ৫০টি শিশু পানিতে ডুবে মারা গেছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে চারটি করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মৃত ৫০ শিশুর মধ্যে ২০ জনের বয়স পাঁচ বছরের নিচে। এ বয়সে শিশুরা সাঁতার জানে না, পানির গভীরতা বোঝে না, ঝুঁকি সম্পর্কেও সচেতন নয়। ছুটির সময় শিশুদের গাইড করারও কেউ থাকে না।


সূত্রমতে, দীর্ঘ ছুটি মানেই গ্রামে যাওয়া, আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়ানো, নতুন পরিবেশে অবাধ চলাফেরা। এই সময়েই সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে। গবেষণা তথ্যমতে, সারা বছরে যত শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়, তার প্রায় ৩৫ শতাংশই ঘটে দীর্ঘ ছুটির সময়। কারণ, শিশুদের ওপর তদারকি কমে যায়, আর তারা নতুন পরিবেশে সহজেই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়।


দীর্ঘ ছুটির সময় পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু ঘটনা নতুন কিছু নয়। ২০২৫ সালের ইদের ছুটিতে ১২ দিনে ৪৯ জন পানিতে ডুবে মারা যায়, দুজন বাদে সবাই শিশু। প্রতিদিন গড়ে চারটি মৃত্যু, একই ভয়াবহ বাস্তবতা।


২০২৪ সালেও ইদুল ফিতরে ৫৮ জন এবং ঈদুল আজহায় ৬৫টি শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। ছেলেশিশুর মৃত্যুহার ছিল বেশি, যা তাদের বেশি চঞ্চলতা ও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের দিকেই ইঙ্গিত করে।


ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বাংলাদেশে গড়ে ১৭ হাজার শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। এ মৃত্যুর সংখ্যা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। যা মোট শিশুমৃত্যুর ২৮ ভাগ। এই মৃত্যুর বেশির ভাগ খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় না। বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাস্থ্য ও তথ্য জরিপ ২০১৬ অনুযায়ী, বছরে ১ থেকে ১৭ বছর বয়সি ১৪ হাজার ৪৩৮ জন শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। 


বর্ষাকালে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু বেড়ে যায়। চারদিকে পানি বাড়ে, সে সময় দুর্ঘটনাগুলো বেশি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ মৃত্যু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বয়স্কদের তত্ত্বাবধান বাড়াতে হবে। গ্রামে শিশু পরিচর্যাকেন্দ্র রাখতে হবে।  অতি দরিদ্রতা, পুকুর-জলাধারে নিরাপত্তা বেষ্টনীর অভাব দূর করতে হবে, শিশুদের সাঁতার শেখাতে হবে।


প্রথম ধাপে ১৬টি জেলায় প্রায় ৮ হাজার কমিউনিটি চাইল্ড কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হয়, যেখানে প্রায় আড়াই লাখ শিশু সেবা পায়। পাশাপাশি কয়েক লাখ শিশুকে সাঁতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এসব সেন্টারের আওতায় থাকা শিশুদের মধ্যে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ছিল শূন্য।


পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুহার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হলেও বিষয়টি অবহেলিতই থেকে যায়। পানির সব ধরনের উৎস পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের জন্য নিরাপদ নয়। পারিবারিকভাবেই পানিকে অনিরাপদ ভাবা হয় না। এ ক্ষেত্রে মানুষকে সচেতন করতে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সাথে সাথে সামাজিকভাবে প্রচারণার গুরুত্ব আছে। শিশুদের সাঁতার প্রশিক্ষণের ক্ষেত্র আরো সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।