রাজশাহীর ভেন্যুতে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা নারী সিরিজ শুরু সোমবার
রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ১টা ৩০ মিনিট। ভ্যাবসা গরমের সাথে প্রখর রোদ। আর এই রোদের মধ্যে রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে সোনালী রঙের একটি ট্রফির সামনে হাজির হলেন বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও শ্রীলঙ্কার দলনেতা চামারি আতাপাত্তু। আনুষ্ঠানিকভাবে কাপড় দিয়ে ঠেকে রাখা ট্রফিটিকে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে উন্মোচন করলেন। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শেষে এই ট্রফি নিয়ে হাসবে কে?
রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ৯টা ২০ মিনিটে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে মুখোমুখি এই দুই নারী দল। এই ভেন্যুতে প্রথম কোন নারী দলের দ্বিপাক্ষিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সিরিজের অভিষেক হচ্ছে। কিন্তু তেমন কোন উদ্মাদনা লক্ষ্য করা গেল না। এর আগে এই ভেন্যুতে যেসব ম্যাচগুলো হয়েছে। সেভাবেই এই সিরিজকে দেখা হচ্ছে। এতে কিছু যায় আসে না দুই অধিনায়কের কণ্ঠে। তাদের বক্তব্য সব পরিবেশে খেলার মনমানসিকতা নিয়ে আমরা তৈরি হয়েছি। তাই সব কিছু মানিয়ে নিয়ে আমাদেরকে মাঠে সেরাটা দিয়ে দলের সাফল্য লাভ করতে হবে।
ইংল্যান্ডে আসন্ন নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখতে চায় না বাংলাদেশ নারী দল। সেই লক্ষ্যেই এবার ঢাকার বাইরে রাজশাহীতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ আয়োজনকে স্বাগত জানিয়েছেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। তার বিশ্বাস, রাজশাহীর উইকেট ব্যাটারদের জন্য সহায়ক হবে এবং এতে করে বড় রান তোলার মানসিকতা গড়ে তুলতে পারবে দল।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমরা যেহেতু বিশ্বকাপ খেলতে ইংল্যান্ডে যাব, আর সেখানে উইকেটগুলো সাধারণত ব্যাটিং সহায়ক, যদিও কিছু ভেন্যুতে স্পিন সাহায্য করে, তাই আমরা এখানে স্পিন-নির্ভর উইকেট চাইনি। আমরা এমন একটি ভালো ব্যাটিং উইকেট চেয়েছি, যেখানে ব্যাটাররা স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে পারবে এবং রান করতে পারবে। কারণ রান করার অভ্যাস গড়ে তোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
রাজশাহীর উইকেট নিয়ে আলাদা করে আশাবাদ প্রকাশ করে জ্যোতি আরও বলেন, অনেক সময় বড় রান হয় না উইকেটের কারণে, কিন্তু এখন পর্যন্ত আমার মনে হয়েছে রাজশাহীর উইকেট ব্যাটারদের জন্য খুবই ভালো। আমি চাই দুই দল থেকেই অনেক রান হোক, কারণ বোর্ডে রান থাকলে দর্শকরা মাঠে আসবে এবং খেলাটা উপভোগ করবে।
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক এই সিরিজ জিততে উন্মুখ হয়ে আছেন আতাপাত্তু। সংবাদ সম্মেলনে লঙ্কান অধিনায়ক বলেন, আমরা এর আগে এই মাঠে কখনো খেলিনি। এই মাঠটা আন্তর্জাতিক ভেন্যু নয়। কিন্তু সবকিছু অনেক ভাল। আশা করি, আমরা এখানে ভাল খেলব। সিরিজের প্রত্যেকটা ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জন্য। এটা দুই দলের জন্যই। কারণ, সামনে বিশ্বকাপ। দর্শকেরাও তেমন প্রত্যাশা করছেন। এই মাঠটা ব্যাটারদের সুবিধা দিতে পারে। তাই আমরা সিরিজটা জিততে চেষ্টা করব। বাংলাদেশও তাদের দেশের মাঠে ভাল করার চেষ্টা করবে। শ্রীলঙ্কাও আলাদা করে ভাবছে না।
সম্প্রতি ফেব্রুয়ারিতে ১০ দলের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব জিতে আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত হয়ে এই সিরিজে নামছে বাংলাদেশ। সেই সাফল্যই তাদের ইংল্যান্ডের মূল আসরে জায়গা নিশ্চিত করেছে। তবে ওয়ানডে ফরম্যাটে এটি বাংলাদেশের প্রথম সিরিজ গত বছরের হতাশাজনক বিশ্বকাপের পর, যেখানে সাত ম্যাচে মাত্র একটি জয় নিয়ে আট দলের মধ্যে সপ্তম হয়েছিল তারা।
অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে দ্বিপাক্ষিক নারী ওয়ানডে সিরিজ খেলতে এসেছে। ২০২৩ সালে নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত একমাত্র দ্বিপাক্ষিক সিরিজে জয় পেয়েছিল তারা এবং এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের বিপক্ষে অপরাজিত রয়েছে, পাঁচটি সমাপ্ত ম্যাচের তিনটিতেই জিতেছে লঙ্কানরা। সর্বশেষ ২০২৫ বিশ্বকাপে দুই দলের লড়াইয়ে সাত রানের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছিল শ্রীলঙ্কা।
এই সফরে ওয়ানডে সিরিজের পাশাপাশি ২৮ ও ৩০ এপ্রিল এবং ২ মে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজও।