মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৮, ২০২৬

বজ্রপাতে মৃত্যুর সারি লম্বা হচ্ছে

সোনার দেশ ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৪৪ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৪৪ অপরাহ্ন
বজ্রপাতে মৃত্যুর সারি লম্বা হচ্ছে

সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে

বাংলাদেশে এখন বজ্রপাত নীরব ঘাতকে পরিণত হয়েছে, যা প্রতি বছর কেড়ে নিচ্ছে শতশত মানুষের প্রাণ। একসময় এটিকে মৌসুমি প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে দেখা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এই ধারণা পাল্টেছে। বজ্রপাতের খেয়ালিপনা দেশের মানুষের সাধারণ অভিজ্ঞতার সূত্র মেনে চলছে না। শুধু কালো মেঘ দেখলেই বজ্রপাতের ধারণা আর কাজ করছে না। বিনা মেঘেই বজ্রপাতের বাহুল্যতা বেড়েছে। বিনা মেঘে বজ্রপাত-এর কথা শুধুই উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার হতো।


অপ্রত্যাশিত ঘটনা বা কাজের ক্ষেত্রে ওই কথা সবিশেষ ব্যবহার হয়ে আসছে। একটি নির্দিষ্ট মৌসুমেই বজ্রপাতের ঘটনা ও প্রাণহানি সংঘটিত হতো। কিন্তু এখন সারা বছর জুড়েই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটছে। একই সাথে সারা বছরই ঘটছে প্রাণহানি। সংবাদ মাধ্যমের সূত্র বলছে-দেশে বজ্রপাতে প্রতি বছর গড়ে তিনশো মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। আবহাওয়া ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের ভাষ্যমতে, আবহাওয়ার ধরন বদলে যাওয়া, পরিবেশ দূষণ, নির্বিচারে গাছ কাটাসহ নানান কারণে বজ্রপাত বেড়ে গেছে, এতে মৃত্যুও বাড়ছে। বজ্রপাতে সাধারণত প্রতি বছর শতশত কৃষক, গরিব প্রান্তিক মানুষ মারা যাচ্ছেন।


চলতি বছরের চার মাস অতিবাহিত না হতেই মৃত্যু হয়েছে অর্ধশতাধিক মানুষের। এ মাসের ২৫ এপ্রিল দেশের ৮ জেলায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটাই এই মৌসুমে বজ্রপাতে সর্বোচ্চ মৃত্যু। এর আগে ১৮ এপ্রিল ১৩ জনের মৃত্যু হয়। কিন্তু, বজ্রপাতে মৃত্যুর মিছিল রোধে সরকারের পদক্ষেপগুলি কার্যকর করা যায় নি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির (টিআর) টাকা দিয়ে বজ্রনিরোধক দণ্ড ও বজ্রনিরোধক যন্ত্র (লাইটেনিং অ্যারেস্টার) স্থাপন করা হয়েছে।


বলতে গেলে এ পদক্ষেপ কাজে আসেনি। বজ্রপাত ঠেকাতে তালগাছ রোপণের কর্মসূচিও অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে বাতিল করা হয়। এছাড়া বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় কয়েক দফা প্রকল্প নেয়ার পদক্ষেপ নেয়া হলেও তা সফল হয়নি। যদিও ২০১৬ সালের মে মাসে বজ্রপাতকে দুর্যোগ ঘোষণা করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।


এই মুহূর্তে বজ্রপাতে মৃত্যু ঠেকাতে করণীয় কী? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাপক জনসচেনতা। সচেতন করার জন্য সরকারের কর্মসূচি আছে। সেই কর্মসূচি কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে- তার মূল্যায়ন করার সময় এসেছে। 


জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি আছে। এই কমিটি সচেতনতা সৃষ্টিতে কতটা কার্যকর তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিরাই এসব কমিটির নেতৃত্ব দিয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে সাফল্যই প্রত্যাশিত ছিল। বাস্তবিক ক্ষেত্রে তেমনটি হয়নি। কমিটিগুলোতে নিয়মিত সভা পর্যন্ত হয় না। কমিটিগুলোকে কার্যকর করার সময় এসেছে। এ ছাড়া আবহাওয়া বার্তাগুলোও সঠিক উপায়ে প্রচার-প্রচারণার মধ্যে আনা অবশ্যক। সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন এবং কমিউনিটি রেডিওগুলোকে প্রচারণার কাজে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।  


সাধারণ মানুষকে বজ্রপাত থেকে নিজেকে রক্ষার ব্যাপারে সচেতন করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। আকাশে কালো মেঘ দেখা গেলে এবং বৃষ্টি হলে খোলা আকাশের নিচে কাজ করা যে ঝুঁকিপূর্ণ- সেটা জানাতে হবে। কৃষকসহ বহু মানুষ বিষয়টি উপেক্ষা করে থাকে। শিক্ষিত মানুষও বৃষ্টি হলে গাছের নিচে অবস্থান করেন। অথচ গাছের নিচে অবস্থান করা মানে নিজেকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া। এসব বিষয়ে স্পণ্ট ধারণা প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে।