রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ চাষ, দামে হতাশ
রাজশাহী অঞ্চলে চাষ হয়েছে রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ। লাভের আশায় ঋণ করে অনেকে চাষ করেছেন পেঁয়াজ। বাজারের পেঁয়াজের মুল্যের চেয়ে উৎপাদন খরচই বেশি হচ্ছে। আর এতেই হতাশ হচ্ছেন চাষিরা।
গেল মৌসুমের মতো এই মৌসুমের ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন চাষিরা। এর জন্য দায়ী করছেন পেঁয়াজ আমদানিকে। আমদানি না হলে পেঁয়াজে ক্ষতি পুষিয়ে যেত বলে মনে করছেন পেঁয়াজ চাষিরা।
রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতদরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে রাজশাহী অঞ্চলে সাত লাখ ২০ হাজার ৮১৮ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। চাষ হয়েছে তিন হাজার ৬০৮ হেক্টর জমিতে। এর আগে রাজশাহীতে এত পরিমাণ পেঁয়াজ চাষ হয়নি।
চাষিরা জানান, পাইকারি বাজারে বর্তমানে প্রতি মণ পেঁয়াজ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর বাজারে গিয়ে এই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে। ইজারা নেওয়া জমিতে পেঁয়াজচাষ করে অর্ধেক খরচই উঠছে না। এক মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ হয়েছে দেড় হাজার থেকে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত।
রাজশাহীর দুর্গাপুরের কৃষক আহাদ আলী বলেন, বর্তমান যে দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে তা প্রতি বিঘায় ২০-৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে। কোরবানি ইদের আগে দাম পাওয়া সম্ভব না। তবুও ইদে কী হবে তাও বলা যাচ্ছে না।
পবার কৃষক শুকুর মোহম্মদ বলেন, এবার পেঁয়াজে বড় লোকসান হয়েছে। আগেরবার চাষ করে কিছু লাভ করেছিলাম। তবে এবার ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা লোকসান হবে। বাজারে তেমন দাম নেই। কী করে কী করবো বুঝতে পারছি না।
কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, নিজস্ব জমিতে প্রতি বিঘায় পেঁয়াজ চাষে খরচ হয় ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। লিজ নেওয়া জমিতে এ খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ৭০ থেকে ৯০ হাজার টাকা, যেখানে শুধু জমির ভাড়াই বিঘাপ্রতি ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।
চাষিরা বাজারদর পতনের জন্য আগের পেঁয়াজ আমদানিকে দায়ী করছেন। তাদের অভিযোগ, মৌসুমের শুরুতে যখন দেশীয় ‘মুড়িকাটা’ পেঁয়াজ বাজারে উঠছিল, তখন আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে প্রবেশ করায় স্থানীয় উৎপাদন ন্যায্যমূল্য পায়নি।
কৃষকদের আশঙ্কা, ফসল তোলা হলেও অনেকে বিক্রি করছেন না দামের জন্য। সবাই একসঙ্গে বিক্রি শুরু করলে বাজারদর আরও কমে যেতে পারে। বাগমারার কৃষক নুর মোহাম্মদ বলেন, সব পেঁয়াজ রাখা হয়েছে। দামের কারণে বিক্রি করার সাহস হচ্ছে না। কোরবানি ইদের আগে এই পেঁয়াজগুলো বিক্রি করে দিতে হবে।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, দেশ পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার কাছাকাছি পৌঁছালেও কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পরিচর্যা শাখার পরিচালক ওবায়দুর রহমান মণ্ডল বলেন, পেঁয়াজ সারা বছর খাওয়া হলেও সবাই একসঙ্গে বিক্রি করতে গেলে বাজারদর কমে যায়। তাই ফসল কাটার পরপরই উৎপাদন খরচ উঠে আসার আশা করা ঠিক নয়।
তিনি বলেন, সংরক্ষণ সুবিধা বাড়াতে সরকার এরইমধ্যে কৃষকদের মধ্যে প্রায় আট হাজার এয়ারফ্লো স্টোরেজ মেশিন বিতরণ করেছে। আরও চার হাজার মেশিন বরাদ্দ দিয়েছে। এর মাধ্যমে পেঁয়াজ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে পরে ভালো দামে বিক্রির সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফসল কাটার পর ক্ষতিও কমবে।