স্কুলে সরবরাহ খাবার খেয়ে অসুস্থ শিক্ষার্থীরা
দোষিদের আইনের আওতায় আনতে হবে
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা ও মাদারীপুর সদর উপজেলার কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিলের খাবার খেয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে। সরকার এ বিষয়ে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বয়ং শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ বিষয়ে সিভিল সার্জনকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি কমিটি গঠনের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দিয়েছেন।
ইতোমধ্যে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। মাদারীপুরের খাদ্য সরবরাহকারীদের সঙ্গে চুক্তি কেন বাতিল করা হবে না- এ মর্মে প্রকল্প পরিচালকের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ বিষয়ে তদন্ত করে ইতোমধ্যে একটি রিপোর্ট দিয়েছেন। এছাড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জের খাদ্য সরবরাহকারীর বিরুদ্ধেও দ্রুত কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হবে।
সোনার দেশ পত্রিকার এক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২২ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার শংকরবাটি-১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘স্কুল ফিডিং প্রকল্পের’ সরবরাহকৃত খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হলে স্থানীয় প্রশাসন মিড ডে মিল বন্ধ করে দিয়েছে। খাবার সরবরাহকারী বেসরকারি সংস্থা গ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে নিম্নমান খাবার সরবরাহের দায়ে ৪০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় আগ্রহী করে তোলা এবং তাদের পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহের লক্ষ্যে সরকার স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম চালু করেছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের নিম্নমান ও পুষ্টিহীন খাবার সরবরাহ করা হলে শিশুরা ঝুঁকির মুখে পড়বে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও মাদারিপুরের ঘটনা তারই সাক্ষ্য দিচ্ছে। এরফলে সরকারের উদ্দেশ্য যেমন ব্যাহত হবে- তেমনি শিশুরাও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
মিড ডে মিলে অস্বাস্থ্যকর খাবারের অভিযোগ একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয়, যা ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাস্থ্য ও শারীরিক বিকাশের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে নিম্নমান সবজি, পোকাযুক্ত চাল বা ডাল ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। অনেক স্কুলে রান্নাঘরগুলো ভাঙাচোরা এবং নোংরা পরিবেশে অবস্থিত, যা খাদ্যে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
রান্নার কাজে এবং খাবার আগে হাত ধোয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিষ্কার পানির অভাবও একটি বড় সমস্যা হতে পারে। আবার অতি মুনাফা, বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার না হওয়া এবং তদারকির অভাবে খাবারের মান বজায় থাকে না। চাল, ডাল ও তেল কেনার সময় সরকারি মানদণ্ড অনুসরণ করা নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে খাবার তৈরি এবং বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা জরুরি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও মাদারিপুরের স্কুলে সরবরাহকৃত খাবার খেয়ে শিক্ষার্থরা অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। সরবরাহ প্রতিষ্ঠানের কোনো ধরনের গফিলতি প্রমাণিত হলে অবশ্যই শাস্তি বা আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।