যেখানে সখানে আবর্জনা-স্তুপ
ব্যবস্থাপনার ঘাটতি, না উদাসীনতা?
পরিবেশ সুরক্ষা নিয়ে বিশ্বজুড়েই কথা হচ্ছে। পৃথিবীকে মানুষের বাস উপযোগী রাখার জন্য পরিবেশ সুরক্ষার অন্য কোনো বিকল্প নেই। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য এটি প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশে পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ব্যত্যয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মানুষের সচেতনতার অভাব থেকে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। একইভাবে কিছু মানুষের স্বার্থসিদ্ধির কারণেও পরিবেশ ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। যারা পরিবেশ সুরক্ষা দিবে তাদের উদাসীনতা- একই সাথে সীমাবদ্ধতার কারণেও পরিবেশ রক্ষা করা যাচ্ছে না।
আবর্জনার স্তূপ বর্তমানে দেশের পরিবেশ, স্বাস্থ্য এবং জনজীবনের জন্য একটি চরম হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তাঘাট, নর্দমা, নদী-খাল ও খোলা জায়গায় জমে থাকা বর্জ্য পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করছে।
সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ও রানীহাট্টি সহ বিভিন্ন হাট-বাজারের অনেক স্থানে আবর্জনার স্তুপ ১৫ থেকে ৩০ বছর ধরে জমে আছে। মনাকষায় প্রায় ৩০ বছর ধরে বাজারে সব ধরনের ময়লা,পচা খাবার, মৃত প্রাণীসহ নানা বর্জ্য এখানে ফেলা হচ্ছে। ফলে দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশ অসহনীয় হয়ে উঠেছে। পথচারীদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং বিভিন্ন রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ছে- স্থানীয়দের অভিযোগ।
আবর্জনা-স্তুপের ওপর দিয়েই যাতায়াত করতে হয়- মনাকষা দাখিল মাদ্রাসা, মনাকষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং মনাকষা বিওপির বিজিবি সদস্যসহ এলাকার ১০-১২টি গ্রামের বিভিন্ন পেশার সাধারণ মানুষকে। কিন্তু এই পরিস্থিতির কোনো সুরাহা হচ্ছে না। সাধারণ মানুষের সমস্যা প্রকট হলেও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের কোনো গরজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না
অথচ আবর্জনার মধ্যে মিশে থাকা প্লাস্টিক, পলিথিন এবং হাসপাতালের বর্জ্য মাটি ও পানির সাথে মিশে প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট করছে। ময়লার স্তূপে মশা-মাছি ও পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়ে যাচ্ছে, যা ডেঙ্গু, কলেরা, টাইফয়েডসহ নানা রোগের প্রাদুর্ভব ঘটাচ্ছে। একই সাথে নদী-খাল ও নর্দমায় আবর্জনা ফেলার কারণে পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে বর্ষাকালে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। শহরের ব্যস্ততম জায়গা, স্কুল বা হাসপাতালের সামনে ময়লার স্তূপের কারণে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি ও দুর্গন্ধের সৃষ্টি হচ্ছে। ময়লা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে বা ডাস্টবিনে বর্জ্য ফেলা উচিত। পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য পৃথকীকরণের ব্যবস্থা করতে হবে।
উন্নত বর্জ ব্যবস্থপনার কথা বলা হয়- কিন্তু বাস্তবে এর কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়ন ওেচাথে পড়ে না। পৌরসভা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত আবর্জনা পরিষ্কার ও স্থানান্তরের ব্যবস্থার ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা থাকা বাঞ্ছনীয়। কেবল সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাই পারে আমাদের পরিবেশকে সুস্থ ও সুন্দর রাখতে।