রাবিতে সংকট অবকাঠামোর, স্থবির সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড
সুবিধা না থাকলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব নয়
সুস্থ সংস্কৃতিচর্চা মানুষকে উদারতা শেখায়, সবার সঙ্গে মিশতে শেখায়, সৃজনশীলতা তৈরি করে শিক্ষার্থীদের আনন্দে মাতিয়ে রাখে এবং সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার মতো কাজে তাদেরকে উজ্জীবিত করে। কিন্তু
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) প্রশাসনের অবহেলায় হারিয়ে যেতে বসেছে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড। অপর্যাপ্ত অবকাঠামোর কারণে ছাত্র সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো সংকটে পড়েছে। আর এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। অথচ একসময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম শক্তিশালী শৈল্পিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল।
শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত করার ক্রমবর্ধমান সামাজিক মনোভাবেরও সমালোচনা করা হয়। অনেক অভিভাবক এবং এমনকি শিক্ষকরাও এখন শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত করেন। এই ভেবে পড়াশোনার ফলাফলের ক্ষতি করবে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি ক্রমাগত অবহেলা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে বিচ্ছিন্নতা ও অসহিষ্ণুতা আরও গভীর করতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদি সাংস্কৃতিক চর্চাকে লালন করতে ব্যর্থ হয়, তবে শুধু সংস্কৃতিই নয় শিক্ষার বৃহত্তর চেতনাও ভেঙে পড়বে। ‘রাবিতে সংকট অবকাঠামোর, স্থবির সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড’-এই শিরোনামে সোমবার (৪ মে) সোনার দেশ পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ভবনে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর আঁতুর ঘর ছিল।
এই ভবন থেকে সরিয়ে নেওয়া পর সাংস্কৃতিক কার্যক্রমগুলো ঝিমিয়ে পড়ে। সাংস্কৃতিক কর্মীদের অভিযোগ, এই অপ্রতুলতার কারণে মহড়া, পরিবেশনা এবং অন্যান্য সাংগঠনিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নিয়মিত অনুশীলনের জন্য বরাদ্দকৃত ঘরগুলো খুবই ছোট হওয়ায় অনেক দল এখন খোলা মাঠ ও করিডোরে মহড়া দিতে বাধ্য হচ্ছে।
এই সংকট উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলারই প্রতিফলন। শিক্ষা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়। সাংস্কৃতিক চর্চা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্ব, সামাজিক সচেতনতা এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে সহায়তা করে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত মহড়া সুবিধাসহ একটি কার্যকরী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের দাবি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষা করে আসছে। তাই এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হবে।
এমনিতেই বিশ্বায়নের তোড়ে সারা বিশ্বেই জাতীয় সংস্কৃতি টিকে থাকার সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাঙালি সংস্কৃতিও তার স্বকীয়তা টিকিয়ে রাখতে বেসামাল হয়ে পড়েছে। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা বলছেন, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার যে ধারা, তা পুরোপুরি পালটে ফেলে স্কুল-কলেজ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করে সামগ্রিক সাংস্কৃতিক জাগরণ সৃষ্টির আহ্বান জানান সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।
বিশ্বায়নের অভিঘাতে জাতীয় সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখাটা কঠিন হয়ে পড়ছে। বাঙালি সংস্কৃতি বর্তমানে ত্রিমুখী আক্রমণের মুখে রয়েছে। তাই অবকাঠামোগত সুবিধা না থাকলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব নয়।