রবিবার, জুন ২১, ২০২৬

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার ধর্ষণের হুমকির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ১২:১৯ পূর্বাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ১২:১৯ পূর্বাহ্ন
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার ধর্ষণের হুমকির অভিযোগ

রাজশাহীতে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার নাম মনিরুজ্জামান শান্ত। সে বোয়ালিয়া থানা পশ্চিম কমিটির আহ্বায়ক। 


রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুর দুইটার দিকে মামলা গ্রহণ করেছে বোয়ালিয়া থানা পুলিশ। ঘটনাটি শনিবার রাতের। ধর্ষণের হুমকির ঘটনায় রাতেই থানায় অভিযোগ দিলেও মামলা নেওয়া হয়নি। পরে প্রাথমিক তদন্তে হুমকির সত্যতা পাওয়ায় মামলা নেওয়া হয়। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে মনিরুজ্জামান শান্তকে।  এছাড়া তার ভাই  শুভসহ অজ্ঞাত আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বাড়ি নগরীর বড়কুঠি এলাকায়।


মামলার এজাহারে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী উল্লেখ করেন, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তার এক বন্ধুকে নিয়ে বড়কুঠি এলাকায় আয়োজিত লিটারারি ফেস্টিভ্যালে যান। সেখানে মোটরসাইকেল রাখার সময় টিকিট দেওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তির মাধ্যমে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান শান্ত অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে প্যান্টের চেইন খুলে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে ভুক্তভোগীকে ধর্ষণের হুমকি দেন। পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে স্থানীয় লোকজন তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেন।


বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বলেন, ঘটনার পর বিষয়টি থানায় জানায়। রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু সেখানে উপস্থিত কিছু ব্যক্তি উল্টো পুলিশকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেন। এমনকি পুলিশের উপস্থিতিতে আমাকে উদ্দেশ্যে করে কটূক্তি করে। থানায় গিয়ে মামলা করতে চাইলে তা গ্রহণ করা হয়নি।


তিনি আরও বলেন, রাতে পুলিশ অভিযুক্তদের থানায় ডেকে আনে। তখন ৫০-৬০ জন দলীয় নেতাকর্মীও যান। এ সময় থানার ভেতরেও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাকে নিরাপদে থানা থেকে বের করে দেওয়া হয়। রোববার দুপুরে থানায় ডেকে এনে তার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।


বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী প্রথমে যেভাবে অভিযোগ লিখে এনেছিলেন, তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা যেত না। এ কারণে তখন মামলা নেওয়া যায়নি। পরে অভিযোগের তদন্তের পর মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরে অভিযোগ অস্বীকার কে ছেন মনিরুজ্জামান শান্ত। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে তর্কবিতর্ক হয়েছে। ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়নি। তিনি একটি গল্প বানিয়ে আমার চরিত্র হরণ করতে চাইছেন। পুলিশ স্বচ্ছ ভাবে তদন্ত করলে আসল কারণ জানতে পারবে।


রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেক বলেন, এমন পরিস্থিতিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটার প্রশ্নই আসে না এবং অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। অভিযুক্ত স্থানীয় বাসিন্দা এবং ঘটনাস্থলে তার স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। আমি বিষয়টি খোঁজখবর নিয়েছি।  


রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। সে কারণেই মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।