রবিবার, জুন ২১, ২০২৬

লেনদেন নিয়ে সোনার দোকানে বিতণ্ডা, অ্যাসিডে ঝলসে গেল ৩ যুবক

সোনার দেশ ডেস্ক ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ১২:০০ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ১২:০০ অপরাহ্ন
লেনদেন নিয়ে সোনার দোকানে বিতণ্ডা, অ্যাসিডে ঝলসে গেল ৩ যুবক

নরসিংদীর রায়পুরায় লেনদেন নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে স্বর্ণের দোকানের কর্মচারীর নিক্ষেপ করা অ্যাসিডে ঝলসে গেছে তিন যুবকের শরীর।

বুধবার বিকালে রায়পুরা পৌরসভার হাসিমপুর মৌলভীবাজারে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান রায়পুরা থানার ওসি মো. মজিবর রহমান।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আহতরা হলেন- রায়পুরার শ্রীরামপুর এলাকার দুলাল বিশ্বাসের ছেলে দ্বীপ বিশ্বাস (১৯), শহিদুল্লার ছেলে ওবায়দুল্লাহ (১৯) এবং রামনগর হাটির আলিম মিয়ার ছেলে আহমেদ সেজান (১৮)।

তাদেরকে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ, আহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে রায়পুরা বাজারের বিশ্বাস স্বর্ণ শিল্পালয়ের মালিক দুলাল বিশ্বাসের সঙ্গে হাশিমপুর মৌলভীবাজারের লতা স্বর্ণ শিল্পালয়ের মালিক কেশব রায়ের ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে কথা কাটাকাটি, বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়।

এ ঘটনার জেরে দুলাল বিশ্বাসের ছেলে দ্বীপ তার সহপাঠী ওবায়দুল্লাহ ও আহমেদ সেজানকে নিয়ে কেশব রায়ের দোকানে গিয়ে দোকান কর্মচারীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়। এক পর্যায়ে দোকানের কর্মচারী উদয় ও সৌরভ তিনজনকে লক্ষ্য করে সোনার অলঙ্কার তৈরিতে ব্যবহৃত অ্যাসিড নিক্ষেপ করে আহত করে।

স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরে সেখান থেকে তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়।

ঘটনার পর দোকানের শার্টারে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায় দুই কর্মচারী উদয় ও সৌরভ। অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লতা স্বর্ণ শিল্পালয়ের মালিক কেশব রায়কে আটক করেছে পুলিশ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আশরাফুর রহমান বলেন, বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে অ্যাসিডে ঝলসে যাওয়া তিন রোগী হাসপাতালে আসে। এর মধ্যে দ্বীপ বিশ্বাসকে গুরুতর অবস্থায় আনা হয়। তার চোখের কর্নিয়ায় অ্যাসিড লেগে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

“এ ছাড়া তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে গেছে। তাকে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। অপর দুইজনের শরীরের সামনে ও পিছনের অংশ ঝলসে যাওয়ায় সংকটাপন্ন অবস্থায় ঢামেকের বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।”

রায়পুরা থানার ওসি মো. মজিবর রহমান বলেন, “দুই পক্ষই স্বর্ণকার। টাকা-পয়সা লেনদেনের বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর সূত্র ধরেই কেশব রায় ও তার দোকানের কর্মচারীরা তাদের শরীরে এসিড নিক্ষেপ করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।”

তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ভিডিও সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। ভুক্তভোগী ও পুলিশ হেফাজতে থাকা ব্যক্তির কথা শুনে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ