বগুড়া ও শেরপুরে উপনির্বাচনে বিএনপির দুই প্রার্থী জয়ী
বগুড়া ও শেরপুরে উপনির্বাচনে বিএনপির দুই প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। এরা হলেন, রেজাউল করিম বাদশা ও মাহমুদুল হক রুবেল।
বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে জয় পেয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলটির জেলা সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ২১৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৯০৪ ভোট।
জেলা নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে এবারের উপনির্বাচনে পোস্টাল ব্যালট ব্যতীত ৪২ দশমিক ৪৯ শতাংশ ভোট পড়েছে।
এদিকে ফলাফল শিটে স্বাক্ষর নেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল।
এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫০ হাজার ৩০৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৯ হাজার ৯২৩, নারী ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৭৪ এবং হিজড়া ভোটার ১০ জন।
২১টি পৌর ওয়ার্ড ও সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে কেন্দ্র রয়েছে ১৫০টি এবং বুথের সংখ্যা ৮৩৫টি-এর মধ্যে ৭৮৭টি স্থায়ী ও ৪৮টি অস্থায়ী।
ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল বেশ জোরদার। নির্বাচনি এলাকায় দুজন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ২০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এক হাজার ৩৮২ জন পুলিশ সদস্য, প্রায় দুই হাজার আনসার সদস্য, আট প্লাটুন বিজিবি, ১০ প্লাটুন র্যাব এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন ছিলেন।
ভোটগ্রহণ শেষে সন্তোষ প্রকাশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল করিম বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবং বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
অন্যদিকে বাংলা ট্রিবিউনের মাধ্যমে পাওয়া খবরে জানা গেছে, শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে ১ লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৫১ ভোট। অন্যদিকে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান (কাঁচি) ৪৮০ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
ভোট গণনা শেষে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে এ ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন। পোস্টাল ভোটসহ মোট ১২৯ কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফল গণনা শেষে এগিয়ে থাকায় বেসরকারিভাবে ধানের শীষকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘সুষ্ঠু ও স্বাভাবিকভাবেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কিছু স্থানে জাল ভোটের ঘটনা ঘটেছে, জড়িতদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে ৫০ দশমিক ৫২ শতাংশ ভোট পড়েছে।’ তবে বিকাল ৩টায় সংবাদ সম্মেলনে করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন জামায়াতের প্রার্থী। তিনি অভিযোগ করেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং জালভোট ও প্রকাশ্যে সিল মারার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পুলিশকে জানিয়েও কোনও প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে এ আসনে ভোটগ্রহণের কথা থাকলেও জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বাদল মারা যান। পরবর্তীতে এ আসনের নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার সেখানে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হয়।