রাজশাহী সীমান্তে ভারতীয় মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি মালামাল জব্দ
রাজশাহী সীমান্তে বিজিবি’র পৃথক অভিযানে ভারতীয় মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) আনুমানিক ৩০ মিনিটে চরমাজারদিয়া বিওপি’র আভিযানিক দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দামকুড়া থানাধীন বরেন্দ্র নামক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মাদক কারবারীরা বিজিবি’র উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের নিকট থাকা মাকদদ্রব্য মেহগনি বনের মধ্যে লুকিয়ে রাখে। পরবর্তীতে বিজিবি’র আভিযানিক দল কর্তৃক তথ্যের ভিত্তিতে মেহগনি বাগানের মধ্যে তল্লাশী কার্যক্রম পরিচালনা করে একটি বস্তা দেখতে পায়।
পরবর্তীতে বস্তাটি খুললে তার মধ্য থেকে ২৮০ পিস ভারতীয় ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট, Monogold কফ সিরাপ- ২৯ বোতল, Tuscorex কফ সিরাপ- ১০ বোতল এবং Choco কফ সিরাপ- ০১ বোতল (মালিকবিহীন) জব্দ করতে সক্ষম হয়। জব্দকৃত মাদকদ্রব্য দামকুড়া থানায় জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। একই দিনে রাত আনুমানিক ০২:০০ ঘটিকায় ইউসুফপুর বিওপি’র টহল দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চারঘাট থানাধীন মুক্তারপুর নামক এলাকার নিকটস্থ আম বাগানে ওৎ পেতে থাকে। দীর্ঘময় ওৎ পেতে থাকার এক পর্যায়ে, একজন মাদক কারবারীকে আম বাগানের দিকে আসতে দেখে বিজিবি’র টহল দল তাকে ধরার জন্য ধাওয়া করলে তার নিকট থাকা একটি বস্তা ফেলে দৌড়ে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে বিজিবি’র টহল দল কর্তৃক উক্ত বস্তাটি খুললে তার মধ্য হতে ৫৬ বোতল ভারতীয় মদ (মালিকবিহীন) জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মাদকদ্রব্য চারঘাট থানায় জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) আনুমানিক ০০৫০ ঘটিকায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি) এর অধীনস্থ মীরগঞ্জ বিওপি’র চৌকষ আভিযানিক দল রাজশাহী জেলার চারঘাট থানাধীন রাওথা নামক এলাকায় ফাঁদ পেতে থাকেন। এমতাবস্থায় চৌকষ আভিযানিক দল দেখতে পায় যে, দুইজন মাদক কারবারী একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা যোগে নদীর পাড়ে আসছে। বিজিবি’র আভিযানিক দল তাদেরকে ধরার জন্য ধাওয়া করলে মাদক কারবারীরা নৌকাটি থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে বিজিবি’র আভিযানিক দল কর্তৃক নৌকাটি তল্লাশী করে তার মধ্য হতে ৩০০ বোতল ভারতীয় ESKUF সিরাপ (মালিকবিহীন) জব্দ করা হয়। জব্দকৃত নৌকা ও মাদকদ্রব্য চারঘাট থানায় জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে পালিয়ে যাওয়া সংশ্লিষ্ট মাদক কারবারীদেরকে শনাক্তকরণ এবং তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বিজিবি কর্তৃক গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।