বুধবার, মে ০৬, ২০২৬

বেড়েছে মুরগির দাম, কমেনি সবজিরও

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৫৫ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১০ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৫৫ অপরাহ্ন
বেড়েছে মুরগির দাম, কমেনি সবজিরও

রাজশাহী মহানগরীর বাজারগুলো বেড়েছে মুরগির দাম। শুধু মুরগি না দাম বেড়েছে গরু ও খাসির মাংসেরও। তবে এই সপ্তাহেও চড়া দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।


শুক্রবার (১০ এপ্রিল) নগরীর সাহেববাজার, শালবাগান, উপভদ্রা ও সাগরপাড়া ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। এদিন দেশি মুরগি প্রতি কেজি সাড়ে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা, সোনালী মুরগি ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। চাহিদা বাড়ায় ডিমের দামও বেড়েছে। বর্তমানে সাদা ডিম প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকায় আর লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৬ টাকায়। 

গেল মাসে সোনালি মুরগির কেজি ছিল ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা। এখন বেড়ে হয়েছে ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা। আর দেশি মুরগি সাড়ে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৬২০ টাকায়। এদিকে, ১৬০ থেকে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে হয়েছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। এদিকে বাজারে প্রতিকেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকা ও খাসির মাংস ১২০০ থেকে ১২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 


সাহেববাজারের মুরগি ব্যবসায়ী জহরুল ইসলাম বলেন, রমজান মাস থাকায় বিয়ে কিংবা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান তেমন হয়নি। তবে ইদের চাহিদা ছিল, তখন দাম কিছুটা বাড়ে। এরপর আর কমেনি। ব্রয়লার মুরগির দাম স্বাভাবিক আছে কিন্তু বেড়েছে সোনালী মুরগির দাম। আমার প্রতি শুক্রবারের ১০০টার বেশি মুরগি লাগে কিন্তু এই শুক্রবারে ৫০টার বেশি মুরগি নিতে পারেনি। ক্রেতারেও দাম শুনে আর মুরগি নিতে চাচ্ছে না। 


একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা প্রহরীর চাকরি করেন জয়নাল আবেদীন। তিনি বলেন, বাসায় দুই ভাতিজি বেড়াতে এসেছে। গরু মাংসের কেজি ৮০০ টাকা, তাই কেনার সাহস করিনি। সোনালি মুরগির কেজি ৩২০ টাকা মনে করেছিলাম। এখন দেখি ৪২০ টাকা। তাই ২০০ টাকা কেজিতে ব্রয়লার মুরগি কিনেছি।


রমজানে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ডিমের দাম ছিল সর্বনিম্ন। ওই সময় ডজন বিক্রি হয় ৯০ থেকে ১১০ টাকায়। এখন ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। আর সাদা ডিমের ডজন ১১০ টাকা।


গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহের বেড়েছে সবজির দাম। এখন বাজারে প্রতিকেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থাকে ৮০ টাকা। সিম ৮০ টাকা, দেশি শশা ৬০ টাকা, করলা ১২০ টাকা, গাজর (দেশি) ৫০টাকা, চিচিঙ্গা ১০০ টাকা, বরবটি ও ঢেঁড়স ১০০ টাকা, পটল ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। টমেটো ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচমরিচ ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। এছাড়া, কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকা,  ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং প্রতিটি পিস জালি কুমড়া ও লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এখন নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। দেশি পেঁয়াজ মানভেদে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, রসুন (দেশি) ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, দেশি আদা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।


বাজারে মাঝারি আকারের চাষের রুই বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে। চাষের পাঙাস আকার অনুযায়ী কেজি ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, মাঝারি আকারের কৈ মাছ ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে দেশি শিং ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, বড় সাইজের পাবদা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, দেশি পাঁচমেশালি ছোট মাছ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, মলা ৬২০ থেকে ৬৫০ টাকা, টেংরা ৭৫০ টাকা, রূপচাঁদা ১৫০০, বোয়াল ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ৪০০ গ্রাম ওজনের পদ্মার ইলিশ ১২০০ টাকা এবং চট্টগ্রামের ইলিশ ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।