‘নারী থাকা সন্দেহে’ তল্লাশি : রাবির জিয়া হলে এজিএসসহ ৩ জনের আবাসিকতা স্থগিত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ‘নারী থাকার সন্দেহে’ গভীর রাতে অনুমতি ছাড়াই একটি কক্ষে তল্লাশির ঘটনায় হল সংসদের এজিএসসহ তিন শিক্ষার্থীর আবাসিকতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হল প্রশাসন।
শনিবার (১২ এপ্রিল) মধ্যরাতে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবার রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সাময়িকভাবে আবাসিকতা স্থগিত হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী এবং শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের এজিএস মো. ইসরাফীল, আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী ও হল সংসদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. সাকিব জুবায়ের এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের মো. ফোরকান হাফিজ জীম। এছাড়া হল সংসদের ভিপি মো. মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে কেন আবাসিকতা বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার কথাও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ভোর ৪টার দিকে জিয়া হলের ১২১ নম্বর কক্ষে ‘নারী থাকার অভিযোগ’ তুলে কয়েকজন শিক্ষার্থী তল্লাশি চালায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগও ওঠে।
হল সূত্রে জানা যায়, ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত হল সংসদের এজিএস ইসরাফীল হোসাইনের নেতৃত্বে কয়েকজন শিক্ষার্থী এ তল্লাশি চালায়। পরে শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাধারণ শিক্ষার্থী ও হল সংসদের নেতাদের মধ্যে এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত ১১টার দিকে প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবার রহমান, প্রক্টর মাহবুবর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা বৈঠকে বসেন। বৈঠকে শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও হলে অস্থির পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট তিন শিক্ষার্থীর আবাসিকতা সাময়িকভাবে স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ১২১ নম্বর কক্ষের শিক্ষার্থী আলিম মৃধা বলেন, ‘ইসরাফিলসহ কয়েকজন দরজায় জোরে ধাক্কা দিতে থাকে। আমরা ঘুমিয়ে থাকায় দরজা খুলতে দেরি হয়। পরে তারা জোর করে রুমে ঢুকে বলে, এখানে মেয়ে আছে। তবে তল্লাশি করে কাউকে না পেয়ে চলে যায়।’
একই কক্ষের আরেক শিক্ষার্থী সন্দীপ কুমার শীল বলেন, ‘দরজা খোলার পর দেখি তারা মোবাইলে ভিডিও চালু রেখেছে। তারা বারবার বলছিল রুমে মেয়ে আছে এবং তল্লাশি করবে। পরে জোর করে রুমে ঢোকে।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘কিছু না পাওয়ার পরও আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এজিএস ইসরাফিল হোসাইন বলেন, ‘একটি সূত্র থেকে হলে মেয়ে আনার তথ্য পাই। পরে ভিপি ও জিএসের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি যাচাই করতে যাই। সেখানে এমন কিছু পাওয়া যায়নি।,
জিয়া হল সংসদের ভিপি ও হল শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ফজরের আগে একজন হলে মেয়ে আনার বিষয়ে জানায়। তখন আমি জিএস ও এজিএসকে বিষয়টি জানাই এবং এরকম কিছু হলে গোপনে মিটমাট করে ফেলতে বলি। এটি যেন আলোচনার বিষয় না হয়, সেটাই চেয়েছিলাম। রাত গভীর হওয়ায় হল প্রশাসনকে জানানো হয়নি।’
শাস্তির বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবার রহমান বলেন, ‘হল সংসদের পদ বাতিলের বিষয়টি আমার এখতিয়ারভুক্ত নয়। তাই তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে খুব দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগে তিনজনের আবাসিকতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।’
তল্লাশির বৈধতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবর রহমান বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ এখতিয়ারবহির্ভূত কাজ। হল প্রভোস্টের অনুমতি ছাড়া স্বয়ং প্রক্টরও হলে তল্লাশি চালাতে পারেন না। যেহেতু এটি হল-সংক্রান্ত বিষয়, তাই হল প্রশাসনই আগে ব্যবস্থা নেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘উপাচার্যের নির্দেশক্রমে প্রতিটি হলে হল সংসদকে নোটিশ দেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটে। কোনোভাবেই ‘মব’ তৈরি করে কাউকে হেনস্তার সুযোগ দেওয়া হবে না।’