মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় পাপিয়া ও শুচি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৫১ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৫১ অপরাহ্ন
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় পাপিয়া ও শুচি

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী হতে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিএনপির পাঁচ নেত্রী। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক মাসউদা আফরোজ হক শুচি। 


স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা জানান, পাঁচজন নেত্রী মনোনয়ন জমা দিলেও আলোচনায়  পাপিয়া ও শুচির মধ্যে কেউ একজন সংসদে যেতে পারেন। সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হলে এই জেলা থেকে একজন শক্তিশালী নারী নেত্রীকে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেওয়া প্রয়োজন। এই দাবি ঘিরেই বিএনপির একাধিক নারী নেত্রী ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ও তৎপরতা শুরু করেছেন।


জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। তখনই সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও তৎপরতা। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ প্রেক্ষাপটে দেশের অন্যান্য জেলার মতো সীমান্তবর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে জোর লবিং ও রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ। জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা বিজয়ী হওয়ায় বিএনপির মধ্যে এক ধরনের কৌশলগত ভাবনা তৈরি হয়েছে। 


বর্তমানে সংরক্ষিত নারী আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া এবং জেলা  মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মাসউদা আফরোজা হক শুচি। 


অ্যাডভোকেট পাপিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় এবং অতীতে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সংগঠনে অবদানের কারণে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ তাকে এবারও শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, দলের জন্য দীর্ঘ ২৬ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। সংরক্ষিত আসনে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তা সম্পূর্ণ দলের সিদ্ধান্ত।


জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মাসউদা আফরোজা হক শুচিও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় নেতৃত্বের কারণে আলোচনায় রয়েছেন। তিনি গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে নিজের প্রার্থিতা তুলে ধরছেন। তার মতে, নারী নেতৃত্বকে সামনে আনতে হলে মাঠপর্যায়ে কাজ করা নেত্রীদের মূল্যায়ন জরুরি।


সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ঘিরে আলোচনায় শুধু শীর্ষ দুই নেত্রীই নন, আরও কয়েকজন নেত্রী নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে মাঠে তৎপর রয়েছেন। জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি নাদিরা চৌধুরী, ভোলাহাট উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শাহনাজ খাতুন এবং শিবগঞ্জ উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সাইমা খাতুন ইতোমধ্যে দলীয় হাইকমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। 


স্থানীয় পর্যায়ে তাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা তাদেরকে আলোচনায় এনেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারা বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের সমর্থন আদায়েও কাজ করছেন।


এসব নেত্রীরা দাবি করছেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে মূল্যায়ন করেই মনোনয়ন দেওয়া উচিত। 


নাদিরা চৌধুরী বলেন, দলের প্রতিটি আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে ছিলাম, সুযোগ পেলে জনগণের জন্য কাজ করতে চাই। সাইমা খাতুন জানান, দলের দুঃসময়ে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছি, এখন সেই ত্যাগের মূল্যায়ন হওয়া দরকার। 


শাহনাজ খাতুন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় আছি, দল সুযোগ দিলে এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চাই। তাদের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন দৌড়ে প্রতিযোগিতা দিন দিন আরও তীব্র হয়ে উঠছে।


স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএনপি প্রার্থীদের পরাজয়ের কারণে এই জেলাকে রাজনৈতিকভাবে পুনরুজ্জীবিত করতে সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের মতে, সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের সুবিধা তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছাতে হলে সংসদে জেলার প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন।


জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া বলেন, সংরক্ষিত আসনে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত। জেলার অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে, দল বিষয়টি বিবেচনা করবে।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসন শুধু প্রতিনিধিত্বের বিষয় নয়, বরং দলীয় ভারসাম্য, তৃণমূলের সন্তুষ্টি এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএনপির প্রার্থীরা সরাসরি নির্বাচনে জয়ী না হওয়ায় এই আসনকে ঘিরে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে।


সব মিলিয়ে, কেন্দ্রীয় মনোনয়ন ঘোষণার আগ পর্যন্ত জেলায় রাজনৈতিক তৎপরতা ও আলোচনা আরও বাড়বে বলেই ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপি নেতা জানান বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা বিপুল সংখ্যক ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন, সেক্ষেত্রে সরকারি দল হিসেবে  জেলায় বিএনপির নেতৃত্ব নাই বললেই চলে।  বর্তমান জেলায় আলোচিত নেত্রী হচ্ছেন সাবেক এমপি সৈয়দা আশিফা আশরাফী পাপিয়া ও জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মাসউদা আফরোজ হক শুচি। এ দুজনেই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছেন জেল খেটেছেন ও দলীয় নেতা কর্মীদের আইনি সহায়তা করেছেন। দুজনেই শিক্ষিত ও  কর্মীবান্ধব নেতা।