চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরকারি কর্মসূচীর আদলে ব্যক্তিগতভাবে কার্ড তৈরি ও টাকার বিনিময়ে বিতরণ
সরকারি কর্মসূচীর আদলে ব্যক্তিগতভাগে তৈরিকৃত কার্ড অর্থের বিনিমযে বিতরন ও সেই কার্ডের মাধ্যমে চালসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রির অভিযোগ উঠেছে জেসমিন খাতুন নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। ওই নারী মাসকুরা ট্রেডার্স নামে তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্ড বিতরণ করেছেন, যা সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচীর কার্ডের আদলে তৈরি করা।
বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ধাইনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বেলা ১১টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, চালসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার কথা বলে,তার ইউনিয়নসহ আসপাশের বিভিন্ন ইউনিয়নে সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচীর আদলে তৈরীকৃত কার্ড ৪-৫ হাজার টাকার বিনিময়ে বিতরন করছেন জেসমিন খাতুন। প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষের কাছে কার্ড বিতরণের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা উত্তোলন করেছেন এ নারী। জেলায় ইতিমধ্যেই একাধিক এনজিও মানুষের সাথে প্রতারণা করে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে, পথে বসেছেন অনেকে। তাই বিষয়টি তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসকসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। আশাকরি বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ কতৃপক্ষ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে।
তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসকের কর্মকর্তারা তদন্ত করতে গেলে মাসকুরা ট্রেডাস এর গ্রাহকদের মাধ্যমে মবের শিকার হন, পরে বিষয়টি সদর উপজেলা ভূমি র্কর্মকর্তাকে তদন্তের জন্য দেয়া হয়, গত রবিবার সেখানে মাসকুরা ট্রেডাসের মালিক জেসমিন ও আমাকে ডাকা হয়। সেখানে জেসমিন তার কয়েকশো গ্রাহককে হাজির করে আমার উপর চড়াও হন। পরে পুলিশের সহযোগিতায় সেখান থেকে উদ্ধার হই আমি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ধাইনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বলেন, চেয়ারম্যান হিসাবে আমি বিষয়টি উপজেলা ও জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি, আমার বক্তব্য পরিস্কার, যদি অবৈধ হয় তাহলে প্রশাসন ব্যবস্থা নিবেন, আর যদি বৈধ হয় তাহলে সরকারের অনুমতি নিয়ে তারা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
এ বিষয়ে জেসমিন খাতুন, এটা তার বিজনেস উল্লেখ করলেও, বিস্তারিত কিছুই বলতে রাজি হননি। শুধু বলেন তিনি মিল মালিকদের কাছে কমদামে চাল কিনে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করেন।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তদন্ত করছে জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত দল। তদন্ত শেষেই বোঝা যাবে প্রতিষ্ঠানটি কোন মডেলে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, সেটি বৈধ নাকি অবৈধ। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।