সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬

স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

দীপক সরকার, বগুড়া: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ১০:০০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
দীপক সরকার, বগুড়া: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ১০:০০ অপরাহ্ন
স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

‎প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যারা এদেশের মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, যারা জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে বিভিন্ন ছড়াচ্ছে, তারা তো এদেশের স্বাধীনতাকেই বিশ্বাস করেনা। তাইতো দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। জুলাই-আগস্ট গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এদেশের মানুষ স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে।


সেইসাথে ভোটের মাধ্যমে বিএনপিকে রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব তুলে দিয়েছে। তাইতো জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেটের ভিত্তিতেই রাষ্ট্র পরিচালনা ও উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে এবং ঘোষিত প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা, দোয়া ও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না।


‎সোমবার (২০ এপ্রিল) বগুড়া ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেসা খেলার মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঞ্চে এসে পৌঁছালে হাজারো সমর্থক মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে সরকারপ্রধানকে শুভেচ্ছা জানান। হাস্যোজ্জ্বল প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।


এদিন দুপুর থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জনসভায় আসতে শুরু করেন। বিকাল ৩টার মধ্যে পুরো মাঠ প্রাঙ্গণ জনসমুদ্রে রূপ নেয়।


জনসভায় প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, রাজনৈতিক বিভ্রান্তি মোকাবিলা এবং ঘোষিত ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।


‎এসময় তিনি ‎বলেন, পূর্বে জনগণের সামনে যেসব উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো ইতোমধ্যেই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বগুড়াসহ সারাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত হবে।‎


‎তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে এবং ব্যক্তিগত ঘটনাকে রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপান্তর করে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, এ ধরনের অপচেষ্টা নতুন নয় এবং জনগণকে এ বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।


তারেক রহমান আরও বলেন, জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে এবং সেই ম্যান্ডেটের ভিত্তিতেই ‘জুলাই সনদ’সহ ঘোষিত সব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। জনগণের জীবনমান উন্নয়নই সরকারের মূল লক্ষ্য।


একটি রাজনৈতিক দলকে ইংগিত করে তিনি বলেছেন, “আজ আমরা দেখছি—যারা দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে, জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে প্রিয় ভাই-বোনেরা, তারা তো এই দেশের স্বাধীনতাতেই বিশ্বাস করেনি, এই দেশের অস্তিত্বেই তারা বিশ্বাস করেনি প্রিয় ভাই-বোনেরা।


“দেশের অস্তিত্বেই তারা বিশ্বাস করে না, তাদেরকে কি বিশ্বাস করা যায়? তাদেরকে বিশ্বাস করা যায় না। ৃ কোনো বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে আমরা পা দেব না।”


ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, “এদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা দেখেছি তারা কীভাবে বিভ্রান্তির চেষ্টা করেছে দেশের মানুষকে।


“’৮৬ সালের নির্বাচনে আমরা দেখেছি তারা কীভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল দেশের মানুষকে। ’৯৬ সালেও আমরা দেখেছি স্বৈরাচারের সাথে গিয়ে তারা কীভাবে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল। ২০০৮ সালেও আমরা দেখেছি সেই ওয়ান-ইলেভেনের সাথে যোগ দিয়ে তারা কীভাবে বিভ্রান্ত করেছিল দেশের মানুষকে।”


উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি বগুড়া– সিরাজগঞ্জ রেললাইন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের উৎপাদিত পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছাতে বগুড়া বিমানবন্দরকে কার্গো সুবিধার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।


শিক্ষা খাতে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি, প্রকৌশল ও চিকিৎসা অনুষদ অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান।


এছাড়া তিনি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের কথা জানান। তিনি বলেন, এসব প্রকল্প দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও বেকারত্ব নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


‎জনসভায় তিনি জনগণের উদ্দেশে বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রম সফল করতে জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা অপরিহার্য। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।


সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন বগুড়া-৬ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। সঞ্চালনা করেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন। এ সময় জেলার বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা, জেলা বিএনপির বিভিন্ন ইউনিট ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।


জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রেস ক্লাবের নির্মিত ভবন এবং বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের পুনঃনির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন। বগুড়া থেকে ঢাকা ফেরা পথে পল্লী উন্নয়ন একাডেমী বগুড়ায় কিছু সময়ের যাত্রা বিরতি দেন প্রধানমন্ত্রী।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিনব্যাপী বগুড়া সফরের শুরুতে আদালত ভবন থেকে বগুড়াসহ সাত জেলায় ই-বেইলবন্ড সিস্টেম চালু ও বগুড়া পৌর ভবনে সিটি করপোরেশন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এরপর দুপুরে তিনি জেলার গাবতলীর বাগবাড়িতে পৈতৃক ভিটা ‘জিয়াবাড়িতে’ কিছু সময় অবস্থানের পর জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে শিশুদের হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।


এরপর শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন তিনি। এছাড়া বাগবাড়ির নশিপুরে তারেক রহমান কোদাল দিয়ে মাটি কেটে চৌকিদহ খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।